শিরোনাম
◈ যে কারণে বাংলাদেশ থেকে পোলট্রি ও ডিম নিচ্ছে না সৌদি আরব! ◈ সরকারি দামে মিলছে না সার, দিশাহারা কৃষক! ◈ ড. ইউনূসের প্রতি প্রশ্ন, মব ভায়োলেন্সের দায় তিনি নেবেন না কেন? ◈ মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন, ৩ শতাধিক মার্কিন সামরিক বিমান মোতায়েন ◈ ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না যে ৬ শ্রেণির মানুষ ◈ যেভাবে ঘরে বসে দেখবেন জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল ◈ সরলথের হ্যাটট্রিকে চ্যাম্পিয়ন্স লি‌গের‌ শেষ ষোলোয় আতলেতিকো মা‌দ্রিদ ◈ পিলখানায় শহীদ সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি ◈ বেঙ্গালুরু থেকে বাংলাদেশি সন্দেহে ১৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ ◈ দুর্নীতির অভিযোগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই উপাচার্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ০৬:২৯ সকাল
আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ০৬:২৯ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সারা বছর ভালোবাসাহীন থাকার জন্যই কি ১৪ ফেব্রুয়ারি লোক দেখানো ভালোবাসার এই বাণিজ্যিক আয়োজন?

 

বিভুরঞ্জন সরকার : ১৪ ফেব্রুয়ারি কবে থেকে ভালোবাসা দিবস হলো? কে আমাদের দেশে ভ্যালেনটাইন ডে আমদানি করলেন? আমরা তো আমাদের ছাত্রবেলায় ভ্যালেনটাইন ডে কিংবা ভালোবাসা দিবস পালন করিনি, শুনিওনি যে শুধু বছরের একদিন ঘটা করে ভালোবাসা দিবস পালন করে বাকি ৩৬৪ দিন থাকতে হবে ভালোবাসাহীন। এখন যেন সব কিছুতেই কেমন আদিখ্যেতা। ভালোবাসা নিয়েও। আমরা দিন দিন হৃদয়হীন হচ্ছি, আর আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ হচ্ছি। বাইরে ভালোবাসার রঙিন সাজ, ভেতরে হিংসার বাস। মানবিকতা কমছে, দানবিকতা বাড়ছে, আর বাড়ছে কপটতা। হৃদয়ে বিদ্বেষ-বিষ পুষে কী কাউকে ভালোবাসা যায়?

একটি ঘটনা মনে পড়ছে। ১৯৭৫ সাল। বঙ্গবন্ধু বাকশাল গঠন করেছেন। ছাত্র ইউনিয়ন-ছাত্রলীগ সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে জাতীয় ছাত্রলীগ। ঠিক হলো একটি নির্দিষ্ট দিন আমরা ফুল দিয়ে আমাদের শিক্ষকদের সম্মান জানাবো, শ্রদ্ধা নিবেদন করবো। আমি নির্দিষ্ট দিনে যথারীতি একটি গোলাপ নিয়ে গেলাম শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ড. আহমেদ শরীফের কক্ষে। তার হাতে ফুল দিতেই জিজ্ঞেস করলেন, ব্যাপার কি? হঠাৎ ফুল কেন? আজ তো আমার জন্মদিন নয়। আমি কাঁচুমাচু করে ঘটনা বললাম। স্যার কিছুটা বিদ্রƒপ করে বললেন, বছরে একদিন শ্রদ্ধা-সম্মান, অন্যদিনগুলোতে কী অশ্রদ্ধা-অসম্মান? স্যারের কথার কোনো জবাব না দিয়ে মাথা নিচু করে বের হয়ে এসেছিলাম। সারা বছর ভালোবাসাহীন থাকার জন্যই কি ১৪ ফেব্রুয়ারি লোক দেখানো ভালোবাসার এই বাণিজ্যিক আয়োজন?

অথচ আমরা সম্ভবত ভুলে গেছি যে, ১৯৮৩ সালের এই দিন স্বৈরাচারী এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে দেশের কয়জন সোনার ছেলেমেয়ে জীবন দিয়েছিলেন। জাফর, জয়নাল, দীপালি, কাঞ্চনদের বুকের খুনে রাঙা ১৪ ফেব্রুয়ারিতে আমরা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের প্রতি ভালোবাসা না জানিয়ে, শ্রদ্ধা না জানিয়ে, নমিত না হয়ে ভ্যালেনটাইন ডে’র উৎকট আনন্দে মাতি। আমরা কি আসলে সত্যি কাউকে ভালোবাসি? আমরা কি আমাদের দেশকে ভালোবাসি? আমরা কি আমাদের নিজেকে ভালোবাসি? আমরা অর্থহীন হাসি, করি ভালোবাসার অর্থহীন অভিনয়। তাই আমাদের ভালোবাসা ‘কেবলই যাতনাময়’। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়