প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শত বছরের ইতিহাসে প্রথমবার জানাজার নামাজ পড়া হলো দৌলতদিয়ার এক যৌনকর্মীর

মো. রাফিউজ্জামান সিফাত :  দৌলতদিয়ায় কোনো যৌনকর্মী মারা গেলে এতোদিন নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হতো কিংবা রাতের আঁধারে মাটিতে পুঁতে ফেলা হতো, জানাজা ছাড়াই। রাতের আঁধারে মাটিতে পোঁতা হতো, অলিখিত নিয়ম ছিলো দিনের আলোতে যৌনকর্মীদের লাশ দাফনের নিয়ম ছিলো না দিনে দাফন দিতে চাইলে এলাকাবাসী বাঁশের লাঠি হাতে মারতে আসতো, আটকে দেয়া হতো দাফন যেন কুকুরের লাশ খাটিয়ায় তোলা হয়েছে। যদিও প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার খদ্দের দৌলতদিয়ায় আসে দেহের ক্ষুধা মেটাতে (অবশ্যই রাতে)। কিন্তু এবারই প্রথম দৌলতদিয়া পতিতালয়ে একজন যৌনকর্মীর জানাজার নামাজ আদায় হয়েছে। সেই ভাগ্যবতীর নাম হামিদা বেগম। শুরুতে রেলওয়ে মসজিদের ইমাম হামিদা বেগমের জানাজা পড়তে অস্বীকৃতি জানায়, ইমামকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়, একজন যৌনকর্মীর জানাজা পড়তে ইসলামে নিষেধ আছে কিনা? ইমাম সাহেবের কাছে তখন উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়নি। জানাজার প্রস্তুতি শুরু হয় তখন এক নজিরবিহীন দৃশ্যের অবতারণা ঘটে, প্রথমবারের মতো এলাকায় একজন যৌনকর্মীর জানাজার নামাজ পড়া হবে, এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য। কিন্তু শুরুতে কেউ আসতে চাইলো না। রাত যতো বাড়ছিলো একজন-দুইজন করে মানুষ এগিয়ে আসতে লাগলো। ধীরে ধীরে হামিদা বেগমের জানাজায় শরিক হলো শতাধিক মানুষ। দৌলতদিয়ার শত শত যৌনকর্মীর চোখে ছিলো অশ্রু। তাদের মাঝে হামিদা বেগমই প্রথম, যে মানুষের মতো সম্মান পেলো (জীবিত নয়, মৃত অবস্থায়)। । হামিদা বেগমের জানাজায় অংশ নেয়া একজন ছিলেন জলিল ফকির, তিনি বলেন, হামিদা বেগমকে বিচার করার আমি কে। সে যদি কোনো অন্যায় করে, একমাত্র আল্লাহ্ তার বিচার করতে পারেন, আর কেউ নয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত