প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্যাপক পরিবর্তন হতে পারে মহানগর বিএনপিতে

আমাদের সময় : ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মহানগর বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের সাংগঠনিক দুরাবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে। এ কথা এখন নেতাকর্মীদের মুখে মুখে। এসব বিষয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি ভোটের পরদিন থেকে বিশেষ টিম করে অনুসন্ধান শুরু করেছে দলটি। ভোটের দিন মহানগর নেতাদের ভ‚মিকায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও বেশ নাখোশ। নির্বাচনের মাঠে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করায় মহানগর নেতাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হতে পারে। দায়ীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণসহ বিএনপির উত্তর ও দক্ষিণের মহানগর কমিটি ভেঙে দেওয়াসহ নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হতে পারে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, ভোটের দিন সরকারি দলের লোকজন ভোটকেন্দ্রগুলো সকালেই দখল করে নেয়। সেখানে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করতে গেলে বড় ধরনের সংঘাতের ঘটনা ঘটত। এমনিতেই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত মামলা। কিন্তু এর পরও মহানগর নেতারা ভোটের দিন মাঠে ছিল না বলে কথা উঠেছে। এটা কেন হলো তা আমরা জানার চেষ্টা করছি।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও ভোটের দিন মহানগর নেতাদের ভ‚মিকা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটকেন্দ্র দখল, কারচুপির পাশাপাশি বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতাকেও চিহ্নিত করেছেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নেতাদের নিষ্ক্রিয়তা, ভোটের দিন নেতাদের অনুপস্থিতিসহ মহানগরকেন্দ্রিক বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ভ‚মিকা নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় ঢাকা মহানগর বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও কথা বলেন নীতিনির্ধারকরা।

সিটি নির্বাচনে ফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে ভোটের পরদিন থেকে দুটি দিক নিয়ে কাজ শুরু করেছেন বিএনপি নেতারা। একটি হচ্ছে ভোটের দিন আওয়ামী লীগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের ভ‚মিকা কী ছিল। দ্বিতীয়ত ভোটের দিন কেন ধানের শীষের পোলিং এজেন্টরা ভোটকেন্দ্র যাননি, মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের কার কী ভ‚মিকা ছিল বিস্তারিত অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে বিএনপি সমর্থিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এবং মহানগর নেতাদের বক্তব্যও নেওয়া হচ্ছে। গত বুধবার গুলশানে একটি কমিউনিটি সেন্টারে কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক হয়। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খান বলেন, আমরা অন্তর্নিহিত বিষয়গুলো অনুসন্ধান করছি। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করে জমা দেব। আমরা কিছু সুপারিশও করব। এর মধ্যে থাকবে, যাদের সাহস ও আদর্শ আছে, যারা পোলিং এজেন্ট হওয়ার যোগ্যতা রাখেন, তাদের দিয়েই ওয়ার্ড কমিটিগুলো করা।

দলের গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা জানান, ভোটের আগের দিন অনেকে পোলিং এজেন্টের নিয়োগপত্র নিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখেন। তারা কোনো পদে থাকলে তাদের দল থেকে সরাসরি বহিষ্কার করা হতে পারে- এমন আভাস পাওয়া গেছে।

দলীয় সূত্র জানায়, মহানগরের যেসব নেতা ভোটের দিন অনুপস্থিত ছিলেন বা ভোট দিতে যাননি তাদের তালিকা হচ্ছে। তালিকা অনুযায়ী তাদের শোকজ করা হতে পারে। সন্তোষজনক জবাব না হলে বহিষ্কারও করা হতে পারে। এর পর সময় সুযোগমতো ভেঙে দেওয়া হতে পারে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার বলেন, ভোটের আগের দিন রাতে পোলিং এজেন্টসহ মহানগরের প্রতিটি নেতার বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পুলিশ তলাশি চালিয়েছে। ভোটের দিন আওয়ামী লীগ বাইরে থেকে লোক এনে প্রতিটি কেন্দ্রে তিন স্তরের পাহারা বসিয়েছে। এ রকম পরিস্থিতিতে বিএনপির অনেকে হয়তো কেন্দ্রে যাননি। এর পরও দক্ষিণে বিএনপি ভোট পেয়েছে প্রায় আড়াই লাখ। বিএনপির নেতাকর্মী-সমর্থকরা এ ভোট দিয়েছে। আর আওয়ামী লীগ যে ভোট পেয়েছে তা সত্যিকারের ভোট নয়, দেখানো হয়েছে।

ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসভাপতি ও বিএনপি সমর্থিত ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টি বলেন, ভোটের দিন আমরা দেখেছি নৌকার ব্যাজ গলায় ঝুলিয়ে একদল বহিরাগত কেন্দ্র দখল করে নিয়েছে। তারপরও বলব, দীর্ঘদিন থেকেই আমাদের সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় নেই। মহানগর নেতারা কেন ভোট কেন্দ্রে যাননি তা তারাই ভালো বলতে পারবেন।

২০১৭ সালের ১৮ এপ্রিল ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তরের আংশিক কমিটি অনুমোদন করা হয়। দক্ষিণে বিএনপির ৭০ সদস্যের কমিটিতে সভাপতি হন হাবিব-উন নবী খান সোহেল ও সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার। অন্যদিকে ৬৬ সদস্যের উত্তর বিএনপির সভাপতি হন এমএ কাইয়ুম ও সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান। উত্তরের সভাপতি দীর্ঘদিন থেকে দেশের বাইরে। বিএনপির মহানগর কমিটিগুলোর মেয়াদ দুবছর। এ হিসাবে গত বছরের ১৯ এপ্রিল ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে।

সূত্র জানায়, মহানগরের এসব নেতারা ঢাকার ভোটার হওয়ার পরও বেশিরভাগই কেন্দ্রে যায়নি। যাদের পোলিং এজেন্ট করা হয়েছিল তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারেও কোনো উদ্যোগ নেননি। মহানগর ছাড়াও প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে কমিটি রয়েছে। তাদেরও বেশিরভাগ ভোটের দিন মাঠে ছিলেন না। যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের মহানগর ও থানা নেতারাও ভোটের দিন মাঠে থাকেনি। তাদের ব্যাপারেও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত