প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তবে কি ভোট পদ্ধতি অন্তিম যাত্রার ট্রেনে উঠেছে?

আরিফুজ্জামান তুহিন : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ভোটার ছিলো ৩০ লাখ ১২ হাজার। এখানে ভোট পড়েছে ৭ লাখ ৬২ হাজার ১৮৮টি। আর ২৫.৩০ শতাংশ ভোট পড়েছে। ১০০ জনের মধ্যে ২৫ জন ভোট দিয়েছেন। যার মধ্যে আবার নৌকার প্রার্থী পেয়েছেন ৪ লাখ ৪৭ হাজার ২১১ ভোট যা মোট ভোটের মাত্র ১৪.৮৫ শতাংশ মাত্র। অর্থাৎ ১০০ জনের মধ্যে আতিকুল ইসলামকে মাত্র প্রায় ১৫ জন মানুষ ভোট দিয়েছেন। ঢাকা দক্ষিণে মোট ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ভোটারের মধ্যে মাত্র ২৯ শতাংশ ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে শেখ ফজলে নূর তাপস নৌকা প্রতীকে ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৯৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এটি হলো মোট ভোটের ১৭.৩০ শতাংশ। অর্থাৎ ১০০ জন ভোটারের মধ্যে তিনি সমর্থন পেয়েছেন ১৭ জনের কিছু বেশি। দুই সিটি করপোরেশন মিলিয়ে এই নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে গেছে মোট ভোটারের মাত্র ২৭ ভাগের কিছু বেশি। অর্থাৎ ৭৭ ভাগ ভোটার ভোট দেওয়া ঠিক মনে করেনি।

এই শতাংশের বড় অংশের নির্বাচনের প্রতি তাদের আস্থা নেই এর কমভাবেও যদি পড়া যায় তাহলেও সেটি ভুল নয়। পাঁচ বছর আগে ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রাম সিটিতে একদিনেই ভোট হয়েছিলো। তাতে ব্যালট পেপারে গড়ে ভোট পড়েছিলো ৪৩ শতাংশ। সেবার ঢাকা উত্তর সিটিতে ভোটার উপস্থিতির হার ছিলো ৩৭ শতাংশ; দক্ষিণ সিটিতে ৪৮ শতাংশ। আর ২০১৯ সালে ঢাকা উত্তরের মেয়র পদের উপ নির্বাচনে ৩১ শতাংশ ভোট পড়ে।
ইতিহাসের অন্যতম খারাপ নির্বাচনের তালিকায় যেগুলো আছে, সেগুলো ৭৩,৮৬, ৯৬। এসব নির্বাচনেও এত কম ভোট পড়েনি। এ সরকারের আমলে ভোটের টার্ন আউট বা ভোটার উপস্থিতি দিনকে দিন কমছে। এর আগে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম-৮ আসনে উপ-নির্বাচনে ভোট পড়েছিলো মাত্র ২২ শতাংশ। তাহলে ক্রমশ কি মানুষ নির্বাচনের ওপর আস্থা হারাচ্ছে? বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নেওয়া নির্বাচনগুলোর অবস্থা দেখুন। পৌরসভায় ইভিএমে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটের উপস্থিতি ছিল ৮০ শতাংশ।

বিএনপির এতো জনপ্রিয়তা! ক্ষমতাসীন সরকার থেকে বারবার বলা হয় বিএনপি ইতিহাসের একটি দল। তারা অতীত হয়ে গেছেন। তাদের প্রাসঙ্গিকতা নেই আর। কিন্তু দেখা যাচ্ছে আতিকুল ইসলাম যখন ১৪.৮৫ শতাংশ মানুষের সমর্থন পেয়েছেন তখন তাবিথ আওয়াল পেয়েছেন ৮.৭৭ শতাংশের মানুষের সমর্থন। যে বিএনপি ইতিহাসে ঠায় নিয়েছে তার এতো সমর্থন এখনো বাংলাদেশে আছে, এটি সত্যি বিস্ময়ের ব্যাপার। আর সম্মিলিত বিরোধী দলের ভোট বিবেচনা করলে তা সাড়ে ৯ শতাংশের বেশি। এইরকম উন্নয়নের জোয়ারে ভাসিয়ে দেওয়ার দেশে এখনো অর্ধেক প্রায় ৩৬ শতাংশ মানুষ সরাসরি বিরোধী প্রার্থীদের ভোট দেয়। আর ভোটকেন্দ্রে না যাওয়া ৭০ শতাংশের বড় অংশ বিরোধী মতের সঙ্গে যুক্ত হলে সুনামি বয়ে যাবে। শাসক সরকার বিষয়টি নিশ্চয় আন্দাজ করেছে। সে কারণে সরকারি দলের নেতা কর্মীরা চাননি ভোটাররা বেশি যাক কেন্দ্রে। একই হিসাব করলে ফজলে নূর তাপসের ক্ষেত্রেও তাই হবে।

এতো নিরস সংখ্যাতত্ত্বের মধ্যে গেলাম না। এই নগরের বিভিন্ন হিসাবে বলা হচ্ছে, দুই কোটি মানুষ বাস করেন। অবশ্যই যারা বাস করেন তাদের বড় অংশ এই নগরের ভোটাররা না। কারণ তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভোটাররা। এখানে ব্যবসা, চাকরি, পড়াশোনাসহ বিভিন্ন কারণে থাকেন। তাদের কথা বাদ দিলেই গড়ে ২৭ শতাংশ মানুষ ভোট দিতে গেছে। যার আবার মাত্র ১৫ ও ১৭ শতাংশ ভোটার কতৃর্ক নির্বাচিত দুজন জনপ্রতিনিধি সংখ্যাগুরু মানুষের ভোটে নির্বাচিত হননি। প্রশ্ন উঠতে পারে, যারা নির্বাচিত হয়েছে তাদের দোষ কি? ভোটাররা যদি না আসে কেন্দ্রে তাহলে যারা ভোট দিয়েছেন তাদের দোষ কোথায়, বা যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদেরই বা দোষ কোথায়? গণতান্ত্রিক পদ্ধতির নির্বাচনে এমনটিই হয়ে থাকে। কিন্তু এই প্রশ্নগুলোর মধ্যে যে বিষয়টি আড়ালে থাকছে তা হলো নির্বাচনী পদ্ধতিকে এই নির্বাচন কমিশন এমন একটি হাস্যকর জায়গায় নিয়ে গেছেন তার ফল এখন সমগ্র দেশবাসী ভোগ করছেন। এত কম মানুষের ভোট নিয়ে এত বেশি মানুষের প্রতিনিধি হবেন সেটাই গণতন্ত্রের মুখ থুবড়ে পড়ার গল্প। ভারতে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৪৫ শতাংশ। এই ৪৫ শতাংশের মধ্যে আবার বিজেপি পেয়েছে ৩১ শতাংশ ভোট। এখন ভারতীয় নাগরিকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, মোট মাত্র ১৫ / ২০ ভাগ ভোট পেয়ে বিজেপি কি করে হিন্দুত্ববাদের স্লোগান ধরে দেশকে হিন্দুত্ববাদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে? বিজেপির সমর্থন কোথায়? ভারতে নির্বাচনের ভোট দিলে দেশটির সুপার মলগুলো কমদামে পণ্য বিক্রি করবে এমন একটি প্যাকেজ প্রচার দেখেছিলাম। ত্যক্ত-বিরক্ত ভোটারদের টানতে দেশে এ রকম প্যাকেজ নেই। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত