প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌরুটে ‘কর্ণফুলী এক্সপ্রেস’ উদ্বোধন, শুরুতেই হোঁচট

বাংলা ট্রিবিউন : কর্ণফুলী এক্সপ্রেসকক্সবাজার থেকে সরাসরি সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে উদ্বোধনের পর যাত্রা শুরু করে বেসরকারি মালিকাধীন ‘কর্ণফুলী এক্সপ্রেস’। তবে সমুদ্রের নাজিরারটেক পয়েন্টের চরে সজোরে ধাক্কা খেয়ে আটকে যায় নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ পর্যটকবাহী জাহাজ ‘কর্ণফুলী এক্সপ্রেস’। এতে দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য জাহাজটি রক্ষা পায়। তবে জাহাজটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দাবি, নাবিকের গতিপথ ভুলের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) বিকালে কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়ারছড়ায় বাঁকখালী নদীর ‘বিআইডব্লিউটিএ’ ঘাট থেকে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌরুটে জাহাজটি চলাচলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী। ফিতা কেটে উদ্বোধনের পর জাহাজটি নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রীসহ অন্য অতিথিদের নিয়ে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌরুটে সংক্ষিপ্ত সফরে রওনা হয়। বাঁকখালী নদীর মোহনা পার হয়ে সমুদ্রের নাজিরারটেক পয়েন্টে পৌঁছলে চরে সজোরে ধাক্কা খেয়ে আটকা পড়ে জাহাজটি। পরে জাহাজটি গতিপথ পরিবর্তন করে সমুদ্রে কিছু দূর যাওয়ার পর পুনরায় বাঁকখালী নদীর বিআইডব্লিটিএ ঘাটে ফিরে আসে। শুক্রবার সকালে পুনরায় জাহাজটি পর্যটকদের নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দ্যেশে রওনা দেবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পর্যটকবাহী জাহাজটি উদ্বোধনের পরপরই সমুদ্রে জেগে উঠা চরে আটকে যাওয়া প্রসঙ্গে কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের পরিচালক এম. হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর বলেন, ‘নাবিক গতিপথ ভুল করায় সমুদ্রে পানির নিচে জেগে উঠা চরে আটকা পড়ে। এতে সজোরে ধাক্কা খাওয়ায় জাহাজে থাকা যাত্রীরা ভয় পেয়েছিল। তবে বিষয়টি দুর্ঘটনা নয়। জাহাজটি উদ্বোধনের আগে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌরুটে চলাচলের উপযোগিতা নিয়ে পরীক্ষামূলক যাচাই করা হয়েছিল। এতে তারা সফলতাও পেয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়ারছড়ায় বাঁকখালী নদীর বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ ‘কর্ণফুলী এক্সপ্রেস’ নিয়মিত প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের উদ্দ্যেশে রওনা দেবে। প্রতিদিন সকাল ৭ টায় জাহাজটি সেন্টমার্টিনের উদ্দ্যেশে ছাড়বে এবং সেখান থেকে ফিরবে দুপুর সাড়ে ৩ টার পর। কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌরুটের দীর্ঘ ৯৫ কিলোমিটার সমুদ্রপথে জাহাজটিতে যাত্রীদের নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থাসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে বলে জানান জাহাজটির কক্সবাজারের এ পরিচালক।
এ বিষয়ে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘কর্ণফুলী এক্সপ্রেস চলাচলের মধ্য দিয়ে কক্সবাজারে পর্যটনের নতুন দ্বার উন্মুক্ত হলো। এর আগে পর্যটকদের সেন্টমার্টিন ভ্রমণে নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। দীর্ঘ সড়কপথ পাড়ি দিয়ে টেকনাফ পৌঁছে জাহাজযোগে পর্যটকদের সেন্টমার্টিন যেতে হতো। এখন পর্যটকদের কক্সবাজার থেকে সরাসরি সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আদিবুল ইসলাম ও কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ রশিদ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ‘কর্ণফুলী এক্সপ্রেস’ জাহাজটিতে যাত্রী ধারণ ক্ষমতা রয়েছে ৫৪৭ জন। চেয়ার ৫১০টি এবং ১৭টি কেবিন। এতে ইকোনমিক আসনের চেয়ার (দ্বিতীয় শ্রেণি) ভাড়া ২ হাজার এবং বিজনেস আসনের চেয়ার (প্রথম শ্রেণি) ২ হাজার ৫০০ টাকা। কেবিনের মধ্যে রয়েছে সিঙ্গেল, ডাবল, ইকোনমিক ও ভিভিআইপি শ্রেণির। এগুলোর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে সিঙ্গেল ( ১ জনের ) ৫ হাজার, ডাবল ( ২ জনের ) ৮ হাজার, ইকোনমিক (২ জনের) ১০ হাজার এবং ভিভিআইপি (২ জনের ) ১৫ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতিটি কেবিনে অতিরিক্ত যাত্রীদের জন্য ইকোনমিক আসনের চেয়ারের (দ্বিতীয় শ্রেণির) ভাড়ার টিকেট সংগ্রহ করতে হবে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত