প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপি নলের ডগায় এসেছিল, সেখানেই বিনাশ হয়েছে

ভোরের কাগজ : বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান অবৈধ ভাবে ক্ষমতা দখল করে বেয়নেটের খোঁচায় প্রথমেই সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করে, সংবিধানের চার নীতিকে ক্ষতবিক্ষত করে। জিয়াউর রহমানই এদেশে প্রথম ‘বিসমিল্লাহির রহমানের রহিম’ সংবিধানে আনেন আর ক্যাসিনো, মদ, জুয়া আর লাকি খানে ঝাকি নৃত্য শুরু করেন। বিএনপি নলের ডোগায় এসেছিল নলের ডোগায় তার বিনাশ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডেয়াম সদস্য ও সাবেক কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর আলোচনায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, বিএনপির আমলেই হাওয়া ভবন করে লুটপাট করেছে। আর খালেদা জিয়া তো ঘুমিয়েই প্রধানমন্ত্রীত্ব করেছেন। তিনি তো কিছুই মনে রাখতে পারেন না। বিগত ‘৯১ সালে তিনি ভারতে গিয়ে এমন আপ্লুত হয়ে পড়েন যে গঙ্গার পানি বন্টনের কথাই তার মনে ছিল না বলে জানিয়েছিলেন। তার আমলে দুর্নীতি, খাদ্যাভাব, বিদ্যুৎহীন খাম্বা ছিল। আর সারের জন্য প্রাণ দিতে হয় ১৯জন কৃষককে। গতকাল মঙ্গলবার এমনি ভাবে বিএনপির কঠোর সমালোচনা করেন সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীসহ সরকার দলীয় সদস্যরা। মতিয়া চৌধুরী বলেন, ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পরে শা আজিজসহ স্বাধীনতা বিরোধীরা ক্ষমতা দখল করে। এর পরে জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষশতা দখল করে সামরিক শাসন জারি করে। তিনি অন্ধকারে হত্যার মাধ্যরেম ক্ষমতায় আসেন এবং হত্যা দিয়েই তার পতন ঘটে। তার মৃত্যুর পরে তার বডিটিও পাওয়া যায়নি । ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস।

সে সময় জাতীয় সংগীতও বাজানোও অন্তহীত হয়ে গিয়েছিল। আওয়ামী লীগের উপর, নারীদের ওপর নির্যাতন নেমে আসে। আমরা ‘৯১তে অনেক লড়াই করে গণতন্ত্র তথা ভোটের অধিকার ফিরে পাই। কিন্তু সে সময় বিএরপি ক্ষমতায় এসে লুটপাট চালায়। খাম্বা ছিল কিন্তু বিদ্যুৎ ছিল না। ৯৬ সালে দীর্ঘদিন লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু কণ্যা ক্ষমতায় আসেন। তিনি জিয়ার করা ইনডেমনিটি আইন রোহিত করেন, বঙ্গবন্ধুর খুনীদের রাজাকারদের বিচার শুরুর চেষ্টা করেন। কিন্তু সম্ভব হয়নি। আবার ২০০১ সালে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছেন, সেখানে আপন পর দেখেননি। সেখানে ক্যাসিনো নিয়ে জুয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ উপার্জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন তিনি।

খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান সম্পর্কে মতিয়া বলেন, সে যে ধরনের ক্রিমিনাল, এখন ল-নে পালিয়ে থেকে সে নাকি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবার স্বপ্ন দেখে। আমি নিশ্চিত করে বলেতে পারি ব্রিটেনের নাগরিক যদি সে হয়েও থাকে, তাহলে সেখানে কোন চাল ডালের ব্যবসায়ীদের মেম্বারও সে হতে পারবে না। সংসদে বিএনপি সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে মতিয়া চৌধুরী বলেন, এখানে বসে আপনারা পাকিস্তান পাকিস্তান করছেন কিন্তু তাদের কিন্তু আপনাদের জন্য কোন মায়া নেই। তারা এখন বাংলাদেশের উন্নয়ন ফলো করতে চায়। এসময় তিনি বিএনপিকে গ্রেনেড, বোমা হামলা না করে আলোর পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান। জিয়া সার্কিট হাউজকে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর করার দাবি

রাষ্ট্রপতি ভাষনের ওপর বক্তব্যে সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ওপর ২১ বার হত্যার ষড়যন্ত্র হয়। ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা হয় কিন্তু আল্লার রহমতে তিনি বেঁচে গেছেন। জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বলার বিষয়ে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান আমার সামনে বেতারে স্বাধীনতার ঘোষনাটি তিনি পাঠ করেন মাত্র। এসময় তিনি চট্টগ্রামে অবস্থিত জিয়া সার্কিট হাউজকে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর করার দাবি জানান। কুরআন শরীফ হাতে নিয়ে দূর্নীতি বিরোধী শপথ নেবার আহ্বান।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী তার বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে আমাদের অনেক উন্নয়ন ঘটেছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আমাদের জিডিপি সবচেয়ে বেশী। আমরা মধ্যম আয়ের দেশে রুপান্তরিত হয়ে এখন উন্নত দেশের পথে এগিয়ে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এখন পদ্মা সেতু সহ বড় বড় উন্নয়ন ঘটছে। তবে উন্নয়ন হলেও তার সুফল সমভাবে সবাই পাচ্ছে না। একদল মানুষ অনেক বেশী আয় করে আর একদল অনেক কম অয় করে। এ বৈষম্য দুর করা দরকার। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা এনে দিলেন, কিন্তু তিনি তো বেশী উন্নয়ন করতে পারেন না। ঘাতকরা তাকে শেষ করে দেয়।তা না হলে আমরা আরো উন্নত দেশ হতে পারতাম।

ব্যাংকের অর্থ লুটের বিষয়ে তিনি বলেন, এখণ ব্যাংকের ঠাকা লুট হয়ে পাচার হয়ে কানাডা হচ্ছে সেকেন্ড হোম আর মালয়েশিয়া হচ্ছে বেগমপাড়া বলা হচ্ছে। এ দেশে ধনী মানুষের প্রবৃদ্ধির হার বিশ্বে সেরা। এটা একটা আতঙ্গের বিষয়। তারা দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, মধ্যস্বত্ব ভোগীদের জন্য আমরা আয় বৈষম্য কমাতে পারছি না। তিনি বলেন, জিডিপি গত বছর ছিল ৮.২ ছিল । এবছর আরো বাড়বে। তবে দরিদ্র মানুষের আয় যাতে বাড়ে তারা যাতে সুফল পায় সে দিকে নজর দিতে হবে। আজকে দুর্নীতি ক্যাস্যারের সত ছড়িয়ে গেছে। ।জেন সাবরেজিস্ট্রারকে ঢাকার আশপাশে আসতে গেলে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়। এসব বন্ধ করতে দুদককে আরো শক্তিশালী করতে উপজেলা লেভেলে দুদকের অফিস করতে হবে।

তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী খেলাপী ঋনীদের জন্য বলেছেন, ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট করলে নাকি ১০ বছরে আর তাদের টাকা দিতে হবে না। তবে যারা ব্যাংকের টাকা লুটপাট করতে চায় তাদের এ টাকা ছাড়ের সুযোগ দিয়ে কি কোন লাভ হবে ? এসময় মুজিব বর্ষে দুর্নীতি করবো না, দুর্নীতিবাজকে নমিনেশন দেবে না বলে কুরআন শরীফ হাতে নিয়ে শপথ নেবার আহ্বান জানান তিনি। এমপি সিমিন হোসেন রিমি তার বক্তব্যে দেশের প্রভ’ত উন্নয়নের তথ্য তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে কিভাবে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। এছাড়া সংসদে আরো বক্তব্য রাখেন প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফুল আলী খান খসরু, এমপি আব্দুল হাই, এস এম শাহজাদা, শরীফ আহমেদ প্রমুখ।

সর্বাধিক পঠিত