প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজধানীতে অপহৃত দুই ছাত্র উদ্ধার, অপহরণ চক্রের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার

সুজন কৈরী : রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে অপহৃত ২ ছাত্রকে উদ্ধার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (পশ্চিম) বিভাগ। সেইসঙ্গে অপহরণ চক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার রাতে রাজধানীর ডেমরা, মতিঝিল ও মোহাম্মদপুর থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. ফকর উদ্দিন, মাহমুুদুর রহমান রাসেল, মো. রশিদুজ্জামান ওরফে তুষার, মো. শফিকুল ইসলাম, এইচ এম মশিউর রহমান ওরফে পাপ্পু, ইমতিয়াজ আহমেদ, আরিফুল ইসলাম ওরফে নিশান ও মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান ।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১ টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. আবদুল বাতেন বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে অপহরণে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার, ৩টি মোটরসাইকেল, ম্যাগজিনসহ ১টি পিস্তল, ৫টি ডিবি পুলিশের জ্যাকেট, পুলিশ সার্জেন্টের র‌্যাঙ্কব্যাজসহ ১টি ইউনিফর্ম শার্ট এবং পুলিশ কনস্টেবল পদমর্যদার ১টি শার্ট, ৭টি ষ্টিলের লাঠি, ৩টি কালো রংয়ের ছোট বড় ওয়ারলেস সেট, ৪টি পিস্তল সদৃশ্য লাইটার, ৫টি সিরিঞ্জ, ২০টি ইনজেকশন, ১সেট সেনাবাহিনীর পোশাক তৈরির থান কাপড়, ১৫টি বিভিন্ন কোম্পানীর মোবাইল ফোনসেট (সিম সংযুক্ত) এবং এ্যাপেল কোম্পানীর ১টি আইপ্যাড উদ্ধার করা হয়।

আবদুল বাতেন বলেন, কুড়িগ্রাম জেলা আইজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহা. ফখরুল ইসলামের ছেলে মোহা. তানজিম আল-ইসলাম দিবস ও তার শ্যালক খালিদ হাসান ধ্রুব গত ২১ জানুয়ারি মোহাম্মদপুর থেকে অপহৃত হয়। সে রাজধানীর ধানমন্ডির ভার্টিক্যাল হরিজন (ভিএইচ) ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ‘এ’ লেভেল এবং খালিদ হাসান ধ্রুব ঢাকা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র। ২১ জানুয়ারি সকালে জিগাতলার বাসা থেকে মহাখালী ব্রাক ইউনিভার্সিটিতে যান তানজিম। দুপুর ২টার দিকে তার বোনের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়।

তিনি বলেন, মোহাম্মদপুর তাজমহল রোডে কাজ শেষে মামা খালিদ হাসান ধ্রুবকে নিয়ে বাসায় ফিরবেন। এরপর তানজিমের বাবা ফখরুল ইসলাম ও বোন কয়েক দফায় তার মোবাইল ফোনে কল করে সেটি বন্ধ পান। পরদিন ২২ জানুয়ারি গভীর রাতে অপরিচিত একজন লোক তানজিমের মাকে ফোন করে জানায় তানজিম ও তার মামা ধ্রুবকে অপহরণ করার কথা জানায়। পরে এ বিষয়ে তানজিমের বাবা মোহাম্মদপুর থানায় জিডি করেন। অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা নৌকা কোড ব্যবহার করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং শুক্রবার বিকেল ৫টার মধ্যে মুক্তিপণ দেয়ার কথা বলে। অন্যথায় অপহৃতদের হত্যার হুমকি দেয়া হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রায়া তথ্যের বরাত দিয়ে আবদুল বাতেন আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা পেশাগত অহরণকারী চক্র। এর আগেও তারা অপহরণ করে জেল খেটেছে। অপহৃত তানজিমের বাবা তাদের পক্ষের আইনজীবী ছিলেন। সে সুবাদে অপহরণকারীদের ভিকটিমের পরিবার সম্পর্কে বিস্তর ধারণা ছিলো। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে তারা তানজিম ও তার মামা ধ্রুবকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে।

অপহরণের ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিবির এ কর্মকর্তা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত