শিরোনাম
◈ জামায়াত নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোট নিয়ে ১০১ আলেমের তিন আপত্তি ◈ বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় আটক ২৮ ◈ মানবাধিকার সংগঠনের চোখে বাংলাদেশে 'মব সন্ত্রাস' উদ্বেগজনক, থামছে না কেন ◈ দেশের স্বার্থে বিএনপি-জামায়াত একসাথে কাজ করবে: জামায়াত আমির  (ভিডিও) ◈ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বাংলা‌দে‌শে আসা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হলো না কেন? ◈ নেতৃত্ব বদলালেও সার্কের স্বপ্ন শেষ হয়নি: প্রধান উপদেষ্টা ◈ তারেক রহমানের সঙ্গে জামায়াত আমিরের সাক্ষাৎ ◈ তারেক রহমানের সাথে ডাকসু ভিপির সাক্ষাৎ, রাজনীতিতে নিজেদের মধ্যে ভিন্নতা বা বিভাজন থাকাটা গণতান্ত্রিক সৌন্দর্য ◈ বিমানের রেকর্ড মুনাফা: আয় ১১ হাজার কোটি ছাড়াল, লাভ বেড়েছে ১৭৮ শতাংশ ◈ বিটিআরসি ভবনে হামলা, আটক ৩০

প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারী, ২০২০, ০৯:০২ সকাল
আপডেট : ২২ জানুয়ারী, ২০২০, ০৯:০২ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শিবির সন্দেহে ঢাবির চার শিক্ষার্থীকে রাতভর নির্যাতনের পর পুলিশে দিলো ছাত্রলীগ

আসিফ কাজল ও ওবায়দুর সোহান: ঢাবিতে সন্দেহভাজন চার শিক্ষার্থীদের রাতভর নির্যাতনের পরে পুলিশ হেফাজতে দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রসংসদ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।এ ঘটনায় শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান জানান, ৩ জন ছাত্রকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অপর জনের অভিভাবক আসলে তাকেও তার পরিবারের হস্তান্তর করা হবে। কিন্তু কেন তাদেরকে থানায় ধরে আনা হলো এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি

জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১১ টার দিকে জুহুরুল হক হলের গেস্টরুমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মুকিম চৌধুরীকে শিবির সন্দেহে গেস্টরুমে ডাকা হয়। সেখানে হল শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা তাদের অনুসারীদের দিয়ে মুকিমকে প্রথমে মানসিক চাপ দেয়। এতে স্বীকার না করায় তাকে লাঠি, স্টাম্প ও রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। পরে তার ফোনের চ্যাটলিস্ট দেখে রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সানওয়ার হোসেনকে গেস্টরুমে আনা হয়। সেখানে তাকেও বেধড়ক মারধর করে ছাত্রলীগের নেতারা। এরপর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মিনহাজ উদ্দীন ও একই বর্ষের আরবী বিভাগের শিক্ষার্থী আফসার উদ্দীনকে ধরে গেস্টরুমে আনা হয়। সেখানে রাত দুইটা পর্যন্ত তাদের ওপর বিভিন্ন নির্যাতন করতে থাকে ছাত্রলীগ নেতারা।

পরে রাত ২টার পর তাদেরকে প্রক্টরিয়াল টিমের মাধ্যমে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে পুলিশ তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। ছাত্রলীগের নেতারা দাবি করে তাদের কাছ থেকে শিবির সংশ্লিষ্ট বই উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তার কোন নাম অথবা প্রমাণ দিতে পারেন নি তারা। শিবির সন্দেহে তাদেরকে গেস্টরুমে ডাকা হলেও তাদের কাছে শিবিরের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ বের করতে পারেনি ছাত্রলীগ।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমির হামজার কে ফোন দিলে তাদের নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু্ল হাসান বলেন, 'গতরাতে পুলিশি হেফাজতে আনার পর তাদেরকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর পূণরায় তাদেরকে থানায় নিয়ে আসা হয়।

[caption id="attachment_1067604" align="alignnone" width="750"] জহুরুল হক হল সংসদের ভিপি সাইফুল্লা ও হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন[/caption]

এ বিষয়ে জহুরুল হক হলের হল প্রভোস্ট দেলোয়ার হোসেনকে ফোন দিলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে জানান। বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি (সহ-সভাপতি) নুরুল হক নুর বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। খোঁজ নিয়ে দেখছি। শুনেছি ছাত্রলীগ তাদের মেরেছে। ছাত্রলীগ তাদের মারার কে বলে প্রশ্ন তুলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, আমরা হল প্রশাসনের মাধ্যমে এ বিষয়ে অবহিত হয়েছি। ইতোমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যদি ওই শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ও শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর যদি কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া না যায় তাহলে তাদেরকে কোনো ধরনের হয়রানি করা যাবে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়