শিরোনাম
◈ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পরিদর্শনে বিএসএফ ডিজি, কাঁটাতারের বেড়ার জন্য জমি হস্তান্তরের ঘোষণা ◈ ব্যারিকেডে থামল শিক্ষার্থীদের মিছিল, শিক্ষা ভবনের সামনে উত্তেজনা (ভিডিও) ◈ চোরাচালানে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে আন্তর্জাতিক মানের আইন করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন: সচিবালয়ে নিরাপত্তা জোরদার ◈ পরীক্ষা দিতে না পারা শিক্ষার্থীদের বিশেষ সুযোগ, সংসদে জানালেন শিক্ষামন্ত্রী ◈ প্রেমের সম্পর্ক ও ভিডিও ফাঁসের আশঙ্কা, পরিকল্পিতভাবে খুন হন ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ ◈ ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের পাটের মান বেশি উন্নত: ভারতীয় কৃষিমন্ত্রী (ভিডিও) ◈ কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের হামলা, বাজছে সাইরেন ◈ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে রাজধানীতে ফের শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ (ভিডিও) ◈ মাসে তিনবারের বেশি টাকা তুললেই অতিরিক্ত চার্জ, ১৪ সেবায় নতুন ফির প্রস্তাব

প্রকাশিত : ১৯ জানুয়ারী, ২০২০, ০৬:১৪ সকাল
আপডেট : ১৯ জানুয়ারী, ২০২০, ০৬:১৪ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ওয়াজ মাহফিলে উসকানিমূলক বক্তব্য ও মিথ্যাচারের জন্য বিচারের ব্যবস্থা রাখতে হবে

 

কামরুল হাসান মামুন

সমাজে যারা জনসাধারণকে শিক্ষাদান করেন তারা সাধারণত পিতা-মাতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক আর ধর্মীয় স্কলার। বর্তমানে আমাদের সমাজের এই তিনটি শ্রেণিই নষ্ট হয়ে গেছে। তারা এখন ভ-, ধান্ধাবাজ ও মিথ্যুক। সবচেয়ে ধষধৎসরহম বিষয় হলো ধর্মীয় স্কলারদের নৈতিক স্খলন। সম্প্রতি ফেসবুক টাইমলাইনের সুবাদে বাংলাদেশের কয়েকজন আলেমদের এলেম দানে মিথ্যাচারের ফুলঝুরি লক্ষ্য করি। শুধু মিথ্যাচারই নয়, সঙ্গে অল্প জানাও এর জন্য দায়ী। একজন বিশিষ্ট আলেম বলে খ্যাত বলছেন ‘দুনিয়ার সবচেয়ে বড় পয়সাওয়ালা বেলগ্রেড। আই ফোনের মালিক। দেখা হয়েছে আমার সঙ্গে। আমার কাছে মনে হয়েছে টিকটিকি’। কতোগুলো মিথ্যাচার আছে এখানে? বেলগ্রেড আই ফোনের মালিক নয়। বেলগ্রেড একটি রাজধানীর নাম। আই ফোনের মালিকের সঙ্গে দেখা হওয়া আর তাকে টিকটিকির মতো মনে হওয়া এমন সব মিথ্যা কথা কেন বলতে হয়? আরেকজন আলেম ওয়াজে শত শত মুসল্লির সামনে বলেছেন ‘আমেরিকার সবচেয়ে বড় যে আকাশ গবেষণার কেন্দ্র নাসা। ও যধাব ারংরঃবফ ংড় সধহু ঃরসবং, অনেকবার আমার ওখানে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে নাসা বলছে ংঁহ পধহ ৎরংব ভৎড়স বিংঃ রহংঃবধফ ঊধংঃ’। একজন ধর্মীয় স্কলার এমন মিথ্যা বলতে পারে সেটা ভাবা যায়? অন্য এক ওয়াজ মাহফিলে আরেক সমসাময়িক বিখ্যাত একজন আলেম বলছেন ‘আমি অক্সফোর্ডের তিনবার শ্রেষ্ঠ টিচার হয়েছি। আজকেই বলে ফেললাম ফট করে। এটা কেউ জানে না। আমার পরিবারও জানে না। অক্সফোর্ডের সিলেবাসেই চলে ইংল্যান্ড-আমেরিকার স্কুলগুলো’। অন্য আরেকজন বিশিষ্ট আলেম বলেন ‘এইডসের ব্যাকটেরিয়া কেন গোল সেটা ব্যাখ্যা করে যেমন : ‘এইডস জীবাণু অর্থাৎ ঐওঠ-র যে জীবাণুগুলো এইগুলো গোল গোল। আপনারা দেখেছেন কি না আকৃতিটা গোল। আমি স্টাডি করেছিলাম ঐওঠ-র জীবাণু গোল কেন? লম্বা কেন নয়’? তিনি কি মাইক্রোবায়োলিজিস্ট? তিনি কীভাবে এমনতর ঢাহা মিথ্যা কথা হাজার হাজার মানুষের সামনে বলেন? সমসাময়িককালের সর্বাধিক বিখ্যাত এক আলেম বলছেন ‘এই রিসার্চ প্রজেক্টের যিনি চিফ তিনি বললেন ‘নৎরহম ঃযব ধিঃবৎ ঢ়ৎড়ড়ভ ঢ়রঢ়ব ভৎড়স অসবৎরপধ’। আমেরিকা থেকে ওয়াটার প্রুফ পাইপ নিয়ে আসো। আমার এমন পাইপ ল্যাব লাগবে গবেষণা করার জন্য যেই পাইপ আগুনে জ্বলে না’।
এ সব বক্তব্য যদি ওয়াজ মাহফিল আর শুক্রবারের খুতবায় বলা হয় তাহলে কেমন শিক্ষিত মুসলমান তৈরি করছি? তারা বলে বলে পার পেয়ে যাচ্ছে বলেই অল্প অল্প করে বলতে বলতে আজ বোকামি আর মিথ্যাচারী এপিডেমিক আকার ধারণ করেছে। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বড় বড় স্কলার তাদের উচিত তাদের থামানো। সরকারেরও উচিত একটি আইন করা যে কেবল সার্টিফাইড আলেমরা ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য রাখতে পারবে। ওয়াজ মাহফিলে উসকানিমূলক বক্তব্য ও মিথ্যাচারের জন্য বিচারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। না হলে তাদের কাছ থেকে শিখে কেবল ভ- মিথ্যাচারে ভরপুর সমাজ সৃষ্টি হবে যার লক্ষণ এখন স্পষ্ট। গাড়ি চালাতে লাইসেন্স অর্জন করতে হয়, ডাক্তারি ও সার্জারি করতে হলে লাইসেন্স অর্জন করতে হয়। তাহলে মানুষকে যারা শিক্ষা দিয়ে বেড়াবে তাদের কেন লাইসেন্স অর্জন করা লাগবে না? এই প্রশ্নের সঠিক ব্যবস্থা না নিলে এই সমাজ কখনো সভ্য হবে না। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়