প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

২০১৯ সালে ৩ দশকের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল জিডিপি প্রবৃদ্ধি চীনের, তবে নতুন বছরের শুরুটা ইতিবাচক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সংঘাতের জের ভালোই অনুভব করছে চীন। এরই প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে দেশটির মোট জাতীয় উৎপাদন প্রবৃদ্ধি বা জিডিপি বিকাশের ক্ষেত্রে। ফলে সদ্য সমাপ্ত ২০১৯ সালে গত ২৯ বছরের মাঝে সবচেয়ে কম জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ অর্থনীতি। সংকট উত্তরণে অন্যতম প্রধান বাঁধা নতুন বিনিয়োগ আশানুরূপ না হওয়া এবং দুর্বল ভোক্তাচাহিদা। তাই চলতি বছরেও বেইজিং আলোচিত দুইখাতে গতি ফেরাতে নানা রকম প্রণোদনা দেয়া অব্যাহত রাখবে।

নূর মাজিদ: গতকাল শুক্রবার দেশটির কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো গত অর্থবছরের সার্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির তথ্য প্রকাশ করে। সার্বিক চিত্রে বছর শেষে মোট প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশে। ২০১৮ সালের তুলনায় যা দশমিক ৫ শতাংশ কম। তবে এরপরেও বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নতুন বছর চীনা অর্থনীতি কিছুটা শক্তিশালী অবস্থান নিয়েই পথচলা শুরু করেছে, বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর : রয়টার্স।

শক্ত অবস্থানের মূল কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথমদফা বাণিজ্যচুক্তির আংশিক বাস্তবায়ন। ঐ চুক্তি স্বাক্ষর বাণিজ্যিক আস্থা বৃদ্ধিসহ ইতিপূর্বে দেয়া নানা প্রকার সরকারি প্রণোদনা দেশটির অর্থনীতিকে ধীর গতিতে হলেও উদ্দীপ্ত করছে। বৈশ্বিক অবস্থা বিচারে চীনের ৬ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি খুবই শক্তিশালী হলেও ১৯৯০ সালের এটাই সবচেয়ে কম। তবে চীন সরকার জিডিপির যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিলো তা পূরণ হয়েছে।

চলতি অর্থবছর চীন সরকার তথা শাসকগোষ্ঠী চীনা সমাজতন্ত্রী দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ২০২০ এর দশকেই শাসকগোষ্ঠীটি চীনের জিডিপি এবং মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা চীনকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে চায় । বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বিবেচনায় নিলে একথা নিশ্চিত চলতি অর্থবছর প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের ঘরেই রাখতে চাইবেন চীনা নীতি-নির্ধারকেরা। যদিও, ইতিমধ্যেই চীনের শীর্ষ কিছু সরকারি কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যে, ২০১৯ সালের তুলনায় চলতি বছর সার্বিক অর্থনীতি আরও কঠিন চাপের মুখে পড়তে পারে।

অবশ্য বছর শেষের অন্যান্যখাতের তথ্য-উপাত্ত বলছে, আপাত শঙ্কার কোনো ল²ণ দেখা যাচ্ছে না। যেটুকুও ছিলো সেটা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথমদফার আংশিক চুক্তির প্রেক্ষাপটে অনেকটাই কেটেছে। গত ডিসেম্বরে চীনের শিল্পোৎপাদন, বিনিয়োগ এবং খুচরা পণ্য বিক্রি আশাতীত ভাবে বাড়ে। প্রবৃদ্ধির দিক থেকে যা নভেম্বরের চাইতেও বেশি। প্রান্তিক ভিত্তিতে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের তিন মাসের মেয়াদে চীনা জিডিপি দেড় শতাংশ বাড়ে। এর আগের প্রান্তিকেও যা একই অবস্থানে ছিলো।

দেশটির নীতি-নির্ধারক মহলের একটি ঘনিষ্ঠসূত্র রয়টার্সকে বলেন, গত বছরের ৬ থেকে সাড়ে ৬ শতাংশের যে লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছিলো সেখান থেকে সরে এসে চলতি বছর ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হতে পারে। আকস্মিক যে কোনো প্রকার শ্লথগতি মোকাবেলায় উৎপাদক পর্যায়ে খরচ বৃদ্ধির (কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ, মূলধনী যন্ত্রপাতি) ওপর নির্ভরতা বাড়বে । আগামী মার্চ নাগাদ এই বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা আসতে পারে।

টোকিওভিত্তিক সনি ফিন্যান্সিয়াল হোল্ডিংসের মুখ্য অর্থনৈতিক কর্মকর্তা মাসাকি কান্নো বলেন, আমাদের ধারণা সরকারি চেষ্টার পরেও চলতি অর্থবছর শেষে চীনের প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের নিচে নামবে। সম্পাদনা : মোহাম্মদ রকিব

সর্বাধিক পঠিত