প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বার্সাকে রুখে দিল এস্পানিওল

ডেস্ক রিপোর্ট  : আরসিডিই স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে ২-২ ড্র করে ফিরেছে শেষ ১৫ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলা এরনেস্তো ভালভেরদের দল। মূল্যবান দুটি পয়েন্ট হারালেও লিগ টেবিলের শীর্ষে ফিরেছে কাতালান ক্লাবটি। দুইয়ে নেমে গেছে আগের ম্যাচে গেতাফেকে ৩-০ গোলে হারানো রিয়াল মাদ্রিদ।

এস্পানিওলের সঙ্গে ডার্বি ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র করে আবারও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে বার্সেলোনা। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল বার্সেলোনা। এরপর আবার ২-১ গোলে এগিয়ে যায় স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ম্যাচের শেষ মুহূর্তের গোলে ফের সমতায় ফেরে এস্পানিওল।
এস্পানিওলের সঙ্গে ২-২ গোলে ডার্বি ড্র করেছে বার্সেলোনা। বার্সেলোনার হয়ে দুটি গোলের একটি করেন সুয়ারেজ। অন্যটি আসে ভিদালের কাছ থেকে। এস্পানিওলের হয়ে প্রথম গোলটি করেন লোপেজ। ৮৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করেন বদলি খেলোয়াড় উ লেই।

১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে বার্সেলোনা। দ্বিতীয়ার্ধে ৯ মিনিটের ব্যবধানে ২ গোল। এরপর ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং দুবার হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। দশজনের বার্সাকে পেয়ে বসে এস্পানিওল। ম্যাচের একপর্যায়ে ২-১ গোলে এগিয়ে থেকেও ম্যাচটি জিততে পারেনি বার্সেলোনা। শেষ মুহূর্তে বার্সেলোনার জালে আরও একবার বল জড়ায় এস্পানিওল।

প্রথমার্ধে বলের দখলে বার্সেলোনা ৭৫ শতাংশ এগিয়ে। গোলমুখে তাদের শট ৮টি, লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে এর ৩টি শট। ১টিও গোলের মুখ দেখেনি। আর এস্পানিওল ২৫ শতাংশ বলের দখল নিয়ে বাজিমাত করে ফেলল! প্রথমার্ধে গোলমুখে তারা শটই নিয়েছে মাত্র ২টি, লক্ষ্য ঠিক রেখেছে ১টি শটের। ওই ১টিই কিনা গোলের মুখ দেখে ফেলেছে। নিজেদের মাঠে প্রথমার্ধে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়ে এস্পানিওল। যদিও গোলটি অফসাইড ছিল কি না সেটা নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসা যেতেই পারে! প্রথম ৪৫ মিনিটে বার্সা গোলের সুযোগ তৈরি করেছে বেশ কটি। কিন্তু গোলে পরিণত হয়নি একটিও। গোল হজমের পর প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ফ্রি কিক কাজে লাগাতে পারেননি মেসি। তার একটি হেডও রুখে দেন এস্পানিওনল গোলরক্ষক ডিয়াগো লোপেজ। এরপর সুয়ারেজের একটি শটও গোলপোস্টে না লাগলে সমতায় ফিরতে পারত অতিথিরা।
প্রথমার্ধে বলের দখলে পিছিয়ে থাকলেও স্বাগতিকেরা সুন্দর ফুটবল খেলেছে। নিজেদের রক্ষণ ঠিক রেখে ছোট ছোট আক্রমণে উঠে বার্সেলোনার গোলরক্ষক ন্যাটোকে পরীক্ষায় ফেলেছে। হাঁটুর চোটের কারণে মাঠের বাইরে বার্সার নিয়মিত গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টেরস্টেগান। টেরস্টেগানের জায়গায় আজ ন্যাটোকে খুব একটা দক্ষ মনে হয়নি।

দ্বিতীয়ার্ধে একইভাবে চাপ প্রয়োগ করে খেলে বার্সেলোনা। ভালভার্দের শিষ্যরা গোলের দেখা পায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে জর্ডি আলবার বাড়ানো বল জালে জড়িয়ে দলকে সমতায় ফেরান সুয়ারেজ। ৫৯ মিনিটে সুয়ারেজের বাড়ানো বলে গোল করেন বদলি খেলোয়াড় ভিদাল (২-১)। এরপর ৬৬ মিনিট আর ৭৫ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় ডি ইয়ংকে। দশজনের বার্সাকে পেয়ে বলের দখল বাড়িয়ে খেলার চেষ্টা করে এস্পানিওল। সমতায় ফিরতে মরিয়া স্বাগতিকেরা ৮৮ মিনিটে এসে দেখা পায় গোলের। ভারগাসের বাড়ানো বল জালে জড়িয়ে নিজেদের সমতায় ফেরান এস্পানিওলন খেলোয়াড় উ লেই।

পয়েন্ট হারালেও রিয়ালের কাছ থেকে টেবিলের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে কাতালানরা। ১৯ ম্যাচে সমান ৪০ পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় লিগে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ফের বার্সেলোনা।

ম্যাচের প্রথম ভাগে বার্সেলোনা বল দখলে এগিয়ে থাকলেও তাদের আক্রমণগুলো ছিল অগোছালো। মাঝমাঠেও বেশ ভুগতে দেখা যায় দলটিকে।

২৩তম মিনিটে গোল খেয়ে বসে তারা। ডান দিক থেকে মার্ক রোকার দারুণে ক্রসে হেডে ঠিকানা খুঁজে নেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার দাভিদ লোপেস। জায়গায় দাঁড়িয়ে দেখেন মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেনের চোটে বার্সেলোনার জার্সিতে লা লিগায় প্রথম খেলতে নামা গোলরক্ষক নেতো।
বিরতির আগের শেষ পাঁচ মিনিটে বার্সেলোনার স্বরূপে ফেরার আভাস মেলে। ভালো দুটি সুযোগও পেয়েছিল; তবে কাজে লাগাতে পারেনি তারা। ৪১তম মিনিটে মেসির দুর্বল হেডের পর লুইস সুয়ারেসের শট পোস্টে বাধা পায়।

দ্বিতীয়ার্ধে আত্মবিশ্বাসী শুরু করা বার্সেলোনা ৫০তম মিনিটে সমতায় ফেরে। বাঁ দিক থেকে জর্দি আলবার বাড়ানো ক্রসে টোকা দিয়ে কাছের পোস্ট দিয়ে বল লক্ষ্যে পাঠান সুয়ারেস। আসরে উরুগুয়ের স্ট্রাইকারের এটি একাদশ গোল।

আট মিনিট পর বার্সেলোনার এগিয়ে যাওয়া গোলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সুয়ারেসের। ডি-বক্সে ক্ষিপ্রতায় একজনকে এড়িয়ে চিপ করে ডান দিকে বল বাড়ান তিনি। হেডে বল ঠিকানায় পাঠান ইভান রাকিতিচের বদলি নামা আর্তুরো ভিদাল।

প্রথমার্ধে অনুজ্জ্বল মেসি ৬৫তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল পায়ে আক্রমনে উঠে রক্ষণচেরা পাস বাড়ান ডি-বক্সে। গোলরক্ষক বরাবর মেরে সুযোগ নষ্ট করেন সুয়ারেস।

৭৫তম মিনিটে কাইয়েরির জার্সি টেনে ধরে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন ফ্রেংকি ডি ইয়ং। এর খানিক পরেই ফরোয়ার্ড গ্রিজমানকে বসিয়ে ডিফেন্ডার নেলসন সেমেদোকে নামান কোচ ভালভেরদে। এরপরও আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে তারা। তবে পায়নি সাফল্যের দেখা।
উল্টো ৮৮তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল হজম করে পয়েন্ট হারায়। ডান দিক থেকে কোনাকুনি শটে স্কোরলাইন ২-২ করেন চাইনিজ ফরোয়ার্ড উ লেই।

১৯ ম্যাচে ১২ জয় ও চার ড্রয়ে বার্সেলোনার পয়েন্ট ৪০। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে আছে রিয়াল।

দিনের আরেক ম্যাচে লেভান্তেকে ২-১ গোলে হারিয়ে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে তিনে উঠছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। সমান পয়েন্ট নিয়ে চারে নেমে গেছে সেভিয়া।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত