প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাবা শেষ ভাত খাওয়ার সময় আমাদের যে স্বপ্ন দেখিয়ে গেছেন সেভাবেই আমি বাংলাদেশকে ধারণ করি, বললেন শহীদ আলতাফ মাহমুদের কন্যা শাওন মাহমুদ

আবুল বাশার নূরু: শনিবার বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সামনে যখন আসি তখন মনে হয় আমি আমার ঘরে এসেছি। আশেপাশের মানুষগুলো সবাই আমার চেনা। সবচেয়ে বেশি নিরাপদ লাগে তখন। কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য লাগে এবং স্বস্তি পাই। আমাদের বোঝবার মানুষগুলো আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।

শাওন বলেন, শেখ হাসিনা না থাকলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কোনোটাই সম্পন্ন হত না। সেই ১৯৭২ সালের এই দাবিটাকে জানি না কীভাবে আপনি এতো শক্তভাবে তুলে ধরেছেন। আমাদের যারা মা, যারা শহীদ জায়া আছেন তারাতো দেখে যেতে পারছেন। আমাদের দেশে একজন অলৌকিক নেতা ছিলেন। যাকে আমরা জাতির পিতা বলি। আমার মাতা-পিতার পিতা, আমার পিতা, আমার সন্তানের পিতা, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার কন্যা, সেই বংশের যে একজন বাতি, আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আমাদের আপা, সন্তানের বন্ধু। এই রকম অদ্ভুত একটা পরিবার, আমার মনে হয় না রাজনীতিতে আর কোথাও আছে। যেখানে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ থেকে সবাই আপা ডাকেন তাকে। বুবু ডাকেন। জাতির পিতাকে পিতা ডাকেন। এ এক গর্বিত দেশের গল্প।

শাওন বলেন, যুদ্ধের আগে ভাষা আন্দোলন থেকে আমাদের দেশে অলৌকিক কিছু মানুষ ছিল। যারা গান গাইতেন, সুর করতেন, চলচ্চিত্র বানাতেন, সংবাদ সংগ্রহ করতেন, লেখালেখি করতেন, কবিতা লিখতেন, শিক্ষক ছিলেন, ডাক্তার ছিলেন। এই পুরো এক ঝাঁক মানুষ জাতির পিতার ৭ই মার্চের ভাষণের পর কিন্তু সরাসরি বুঝেই গিয়েছিলেন, দেশ স্বাধীন করতে হবে। আমাদের একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের জন্ম দিতে হবে।

বুদ্ধিজীবী হত্যা যে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রি থেকে শুরু হয়েছিল তার প্রেক্ষাপট উল্লেখ করেন শাওন বলেন, কবি মেহেরুন নেসা; উনি ৭ই মার্চ জাতির পিতার ভাষণ শোনার পর বাসায় এসে কবিতা লিখেছেন। ‘বুলেট আর বেয়নটের ঝড় ঠেলে জনতা জেগেছে।’ ২৩ মার্চ উনি দুই ভাইকে সঙ্গে নিয়ে জয় বাংলা বাসার ছাদে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছিলেন। তার ভাগ্যে সেই জয় বাংলা আর বলা হয়ে ওঠেনি। ২৭ মার্চ বিহারীদের নেতৃত্বে পাকহানাদার বাহিনী তাকে হত্যা করে।

শহীদ বাবার সন্তান হিসাবে পিতার নিহত হওয়ার পটভ‚মি উল্লেখ করতে গিয়ে আবেগআপ্পুলিত হয়ে পড়েন শাওন মাহমুদ। তিনি বলেন, আগস্টের শেষদিকে একজন ক্যাক গেরিলা ধরা পরার পর সে সবার নাম বলে দিয়েছিল। শহীদ রুমী, শহীদ জুয়েল, বদি হাফিজ, আজাদ, আলতাফ মাহমুদ। ২৭ আগস্ট থেকে ধরপাকড় শুরু হয়ে যায়। প্রত্যেকের বাসায় গিয়ে একে একে ধরতে থাকে। আমার বাবা ২৯ তারিখ সারাদিন তার ব্যাক মরিস একটা গাড়ি ছিল সেটা দিয়ে সারা ঢাকা শহর চষে ফেলেছিল। চেনা গেরিলাদের খবর দেওয়ার জন্য। তোমরা পালিয়ে যাও। সারাদিন সে কিছু খায়নি। রাতের দিকে যখন বাসায় এসেছিল- মা বলেছিল, ভাত খাও। সারাদিন খাওনি। বাবা বলেছিল, আমার খেতে ইচ্ছে করছে না। অনেক ছেলের খোঁজ পাচ্ছি না। আমার ভালো লাগছে না। মা ভাত টেবিলে রেখে আমাকে নিয়ে ঘুমিয়ে গিয়েছিল। ভোরবেলা একদম আযান হওয়ার পর পর পাকহানাদার বাহিনী বাসা ঘেরাও করে। এর পর ভেতরে ঢুকে জিজ্ঞাসা করে, আলতাফ মাহমুদ কোন হ্যায়? বাবা দাঁড়িয়ে বলেছিল, আমি আলতাফ মাহমুদ। বাবাকে যখন নিয়ে যাচ্ছিল- মার দিকে তাকিয়ে তিনি বলেছিলেন, এত ভয় পাও কেন? শাওন আবারও বলতে থাকেন- এরপর তো আর বাবার খোঁজ পাওয়া যায়নি। আমার মামা ফিরে এসেছিল। মামাদের বাঁচিয়ে দিয়ে গিয়েছে বাবা। আমি বছর তিনেক আগে বলেছিলাম, আচ্ছা বাবা শেষ খাবার কি খেয়েছিল? ভাত খেতে এত ভালোবাসত। মামা বলেছিল, সে কাঁচা মরিচ, ডালভাত ও পেঁপে ভাজা খেতে ভালোবাসত।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত