প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নারী নির্যাতন মামলায় মিমাংশার শর্তে জামিনে এসে স্ত্রী-সন্তানদের মারধর , দু’ সন্তানের লেখাপড়া বন্ধ

সিরাজুল ইসলাম, সিংগাইর প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের চর-জামালপুর গ্রামে স্বামী হাকিম আলী ও তার ভাই ভাতিজার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন জাহানারা (৩৩) নামের এক গৃহবধু। পারিবারিক দ্ব›েদ্ব হামলা, মামলা এখন আদালতে গড়িয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে জাহানারার দু’সন্তানের লেখাপড়া। সন্তানদের নিয়ে প্রতি মুহুর্তে আতংকে দিনাতিপাত করছেন তিনি। স্থানীয় সাংবাদিকরা গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) সরেজমিনে গেলে ঘটনার সত্যতা মেলে।

জাহানারা ও তার প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর আগে সিংগাইর উপজেলার চর- জামালপুর গ্রামের রফিজ উদ্দিনের পুত্র আব্দুল হাকিমের সাথে পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার বালুখন্ড গ্রামের রাহিজ উদ্দিনের মেয়ে জাহানারার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে আফরোজা আক্তার ইতি (১৪) ও মাফুজুর রহমান আতিক (১১) নামের ২টি সন্তান জন্ম নেয়। সংসারের অভাব ঘোঁচাতে ২০০৬ সালে বাবার বাড়ি থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা এনে স্বামীকে দুবাই পাঠায়। এতে তাদের সংসারের ভাগ্যের চাকা ঘুড়ে দাঁড়ায়। বাড়িতে গড়ে তোলে মাছের পোনা উৎপাদনের হ্যাচারী।

এ দিকে, গত বছর নভেম্বর মাসে দেশে ফিরে আব্দুল হাকিম মনোযোগ দেন ওই ব্যবসায়। ওই সময় স্ত্রীকে দিয়ে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন হতে ২ লাখ টাকা ঋণ ও শশুরবাড়ি বাড়ি থেকে ১ লাখ ধার আনেন। এক পর্যায়ে ব্যবসা বন্ধ করে ওই টাকা নিয়ে হাকিম গা-ঢাকা দেন। শুরু হয় সংসারে দ্ব›দ্ব। মাঝে মাঝে বাড়িতে এসে স্ত্রী সন্তানদের মারধর করেন তিনি।

হাকিমের সাথে যোগ দেয় তার ভাই সোলাইমান, গাফ্ফার, আলিম, ছাত্তার ও ভাতিজা রাব্বি। এ নিয়ে গ্রাম্য আদালতে বিচার চেয়ে ব্যর্থ হয়ে ঢাকা ও মানিকগঞ্জের আদালতে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেন গৃহবধূ জাহানারা। ঢাকার মামলায় ২২দিন জেল-হাজতে থাকার পর মিমাংসার শর্তে জামিনে এসে স্ত্রী ও সন্তানদের উপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেন হাকিম।

এ দিকে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে তালাকের ঘোষণাপত্র হাতে ধরিয়ে দিয়ে দু সন্তানসহ জাহানারাকে বাড়ি থেকে তাড়নোর চেষ্টাও করেন তিনি। সর্বশেষ গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকা কোর্টের মামলার ধার্য তারিখের দিন স্ত্রী সন্তানদের দুপুর পর্যন্ত ঘরের মধ্যে তালাবদ্ধ করে রাখেন। দুপুরের পর থেকে হাকিম ও তার লোকজন তাদের উপর চালায় পাষন্ড নির্যাতন।

এ সময় বর্বর এ নির্যাতনের ঘটনা প্রতিবেশিরা মোবাইল ফোনে ভিডিও চিত্র ধারণ করেন। জাহানারার মেয়ে বায়রা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী আফরোজা আক্তার ইতি অভিযোগ করে জানায় , বাবা ও চাচাদের অত্যাচারে সব সময় আতঙ্কে থাকি। পাচ্ছি না সময় মত খাবার। টাকার অভাবে আমরা ২ ভাই-বোন স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষাটা পর্যন্ত দিতে পারেনি।

এ ব্যাপারে জাহানারার স্বামী অভিযুক্ত আব্দুল হালিম বলেন, গত ৬ মাস আগে আমি জাহানারাকে তালাক দিয়েছি। সে এখন আমার স্ত্রী না। মোহরানা ও সন্তানদের খরচের জন্য টাকা দিতে চাইলে সে নেয়নি। স্ত্রীর অপরাধ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার দোষের শেষ নেই। এ বিষয়ে আদালতে দুটি মামলা বিচারাধীন আছে বলেও তিনি স্বীকার করেন। সম্পাদনা : জেরিন মাশফিক

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত