প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যারা দুর্নীতি করেছেন, তাঁদের আমরা বড়শিতে গাঁথবোই, আমাদের কাজ আমরা ভালো জানি, কারো এখতিয়ার নেই এতে নাক গলানোর, শুধু চুনোপুঁটি নয়, রাঘব বোয়ালও রেহাই পাবে না, বললেন দুদক চেয়ারম্যান

আসিফুজ্জামান পৃথিল, সামিউল শাওন : বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির রাজকাহন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন ড. ইকবাল মাহমুদ। আগামী ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস। দিবসটি উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানে কথা বলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান। এছাড়াও ২১ নভেম্বর ছিলো সংস্থাটির পঞ্চাদশ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকি। এক সময় নখদন্তহীন প্রতিষ্ঠান বলে বিবেচিত দুদকের বর্তমান অবস্থা, হালচাল এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

ড. ইকবাল মাহমুদের আগের চেয়ারম্যানই বলেছিলেন, দুদক নখদন্তহীন প্রতিষ্ঠান। এই কথাটির বিরোধীতা করে ইকবাল মাহমুদ বলেন, এই তুলনাই ঠিক নয়। একটি প্রতিষ্ঠানের তুলনা হওয়া উচিৎ আর একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। কোনও প্রানীর সঙ্গে নয়। তবে তিনি স্বীকার করে নেন দুদক জনগনের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করেনি। এমনকি পূরণ হয়নি তার প্রত্যাশাও সম্পূর্ণভাবে। তিনি জানান, তার লক্ষই ছিলো দুর্নীতি কমানোর চেষ্টা। এদেশে মাঠ পর্যায় থেকে সচিবালয় পর্যন্ত দুর্নীতি রয়েছে। তিনি বলেন, পুকুরে ঢিল ছুড়লে তা পুকুর পার না করতে পারলেও কিছুদূর যায়। সেটা তার অধীনে দুদক করতে পেরেছে বলে মনে করেন ড. মাহমুদ।

দুদক শুধু চুনোপুটি ধরছে, রাঘববোয়াল নয়। এ কথাটিরও বিরোধীতা করেছেন স্বাধীন সংস্থাটির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, যারা শহরে থাকে তাদের কাছে যারা চুনোপুটি, গ্রামের মানুষের কাছে তারাই রাঘব বোয়াল। কারণ গ্রামের কেউই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে যেতে পারে না। একজন থানার দারোগাই তার কাছে রাঘব বোয়াল। এসব দুর্নীতিবাজদের ধরতে দুদক নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি। তিনি দাবি করেন, বড় কর্মকর্তারাও ছাড় পাচ্ছে না। পুলিশের এক বড় কর্তা হাজতে আছেন, আটক আছেন একজন সচিবও। এমনকি তার সংস্থার এক পরিচালককেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

তবে ড. মাহমুদ মনে করেন, তার সংস্থার লোকবলের অভাব রয়েছে প্রকটভাবেই। বর্তমানে দুদকের ১ হাজার ৭৪ জন কর্মকর্তার মাত্র ৩০০জন তদন্ত কর্মকর্তা। তাদের প্রশিক্ষণেরও বড়ই অভাব। তিনি দায়িত্ব নেয়ার আগে আদালতের সুমোমুটো রুলের মতো সংবেদনশীল একটি বিষয়ে কাজ করতে দেয়া হয়েছিলো শিক্ষানবিশ কর্মকর্তাদের। আদালতের আদেশে সকলের এখন বিচার চলছে। তরুণ কর্মকর্তাদের এরকম হেনস্থার কারণ আগের অব্যবস্থাপনা।

ড. মাহমুদ কথা বলেছেন বেসিক ব্যাংকের আলোচিত দুর্নীতি আর সংসদীয় কমিটির ক্ষোভ নিয়েও। একটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কিছুদিন আগে বলে, দুদকের ব্যর্থতায় এখনও দোষী সাব্যস্ত করা যায়নি ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চুকে। কমিটির সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছিলেন, এই ব্যর্থতার কারণে পদত্যাগ করা উচিৎ দুদক চেয়ারম্যানের। এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন চেয়ারম্যান। তিনি মনে করেন, দুদক একটি স্বাধীন সংস্থা এবং নিজেদের কাজ নিজেরা ভালো বোঝে। কারুর সুযোগ নেই এই নিয়ে প্রশ্ন তোলার। সংসদীয় কমিটির বক্তব্য তিনি পত্রিকায় পড়েছেন, এর বাইরে কিছু জানেন না বলেও জানান তিনি। তিনি এও জানান সংসদীয় কমিটি তলব করেছে এই সংক্রান্ত কোনও লিখিত চিঠিও আসেনি তার কাছে। তিনি মনে করেন এটি তদন্তাধীন বিষয়। তদন্তের পরই দুদক তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে। এটা নিয়ে এখন কথা বললে তদন্ত ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন ড. মাহমুদ।

দুদক চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, তার সংস্থা একটি অ্যাকশান প্লান অনুযায়ী কাজ করে। তিনি জানান, যারা দুর্নীতি করেছে তাদের প্রত্যেককে অবশ্যই বড়শিতে গাঁথা হবে। আজ না হলে কাল, কাল না হলে পড়শু, বিচার তাদের হবেই। আর যারা দুর্নীতি করতে চায়, তাদেরও হুশিয়ার করেন ড. মাহমুদ। তিনি জানান, ৯ ডিসেম্বর, আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালন করবে সংস্থাটি। এমনকি সরকারও এ বছর আলাদাভাবে দিবসটি পালন করছে। সম্পাদনা : খালিদ আহমেদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত