প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অর্থদণ্ডসহ সতর্ক করানোর পরও দমিয়ে রাখা যাচ্ছে না অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের

তন্নীমা আক্তার : তিন মাসেরও অধিক সময় ধরে সারাদেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পেঁয়াজ। ক্রেতাদের প্রতিকেজি পেঁয়াজ কেনার জন্য গুণতে হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। আর আমদানি করা নিম্নমানের পেঁয়াজের জন্যও ভোক্তাদের খরচ হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকা। এর জন্য ভোক্তা অধিকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠন হয়েছে মনিটরিং কমিটি। আমাদেরসময়

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় প্রতিদিন রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত এলাকায় ৪টি দল অভিযান চালাচ্ছে। অভিযানে কারসাজিবাজদের এবং অনৈতিকভাবে দাম বাড়ানো ব্যবসায়ীদের অর্থদণ্ডসহ সতর্কও করা হচ্ছে। তাতেও দমিয়ে রাখা যাচ্ছে না অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের।

গতকাল শুক্রবারও রাজধানীর শ্যামবাজারে অভিযান চালায় বাজার মনিটরিং কমিটি। অভিযানে পেঁয়াজের মূল্য নিয়ে কারসাজি এবং বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রির অপরাধে ৪ প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার এজিবি কলোনি ও ফকিরাপুল বাজারের বিভিন্ন দোকানে অভিযান চালিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের ২২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবারও যাত্রাবাড়ীর আড়ত ও বাজারে চলে অভিযান।

এর দুদিন আগেও যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ ১০ হাজার জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এরও একদিন আগে গত শনিবার পাইকারি বাজারের জন্য খ্যাত শ্যামবাজারে ৬ প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ডসহ সতর্ক করে দেয় মনিটরিং কমিটি। অনৈতিকভাবে বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করা, মূল্য তালিকা ও ক্রয় রসিদ দেখাতে না পারায় তাদের দণ্ডিত করা হয়। অন্যদিকে, গত সোমবার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টিম অভিযান চালায়। সেখানেও কারসাজির দায়ে দুই ব্যবসায়ীর জেলসহ ৪ ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়। সারাদেশে প্রতিদিন অভিযানের পরও শতকের কোটা ছাড়ানো পেঁয়াজের দাম দুই অঙ্কে নামছে না। শাস্তির ভয়ে পাইকারি কিছু বাজারে দাম কমলেও এর ছাপ পড়ছে না খুচরা বাজারে অর্থাৎ ক্রেতাদের মধ্যে।

গতকাল শুক্রবারও রাজধানীর খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম আরও ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার, মালিবাগ, শান্তিনগর ও খিলগাঁও বাজার ঘুরে এমনটাই দেখা গেছে। এদিন খুচরা বাজারে ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১৩০ টাকায়, মিয়ানমার ও মিসরের পেঁয়াজ ১২০ টাকায়। ৫ কেজির প্রতি পাল্লা বিক্রি হয়েছে ৫৬০ টাকায়। পাইকারি বাজারে দাম ছিলো এর চেয়ে ১০ টাকা কম।

অভিযান প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার মনিটরিং কমিটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিনিধি মো. আবদুর রব বলেন, পেঁয়াজের বাজারে চলমান অসঙ্গতি ও অসাধু ব্যবসায়ী চক্রের কারসাজি রুখতেই নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানের ফলে ব্যবসায়ীরা কারসাজি থেকে বিরত থাকছেন। অভিযানের পর ব্যবসায়ীদের কারসাজি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সমিতি।

কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, অভিযান হয়তো কিছুসংখ্যক অসাধু ব্যবসায়ীদের রুখবে। কিন্তু গোটা বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আর দফায় দফায় বড় মাপের আমদানি করা হলে হয়তো পেঁয়াজের সরবরাহ হঠাৎ বাড়বে। কিন্তু সেটা স্থায়ী নয়।

এদিকে খোদ বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সহসা পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকার নিচে নামার সম্ভাবনা দেখছেন না। তিনি বলেছেন, মিসর থেকে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ এলেও দাম সামান্য কমতে পারে। এর পরও ১০০ টাকার নিচে নামার সম্ভাবনা নেই।

বাণিজ্যমন্ত্রী গতকাল বলেন, আমরা চেষ্টা করছি। তবে ক্রেতারা পেঁয়াজ ১০০ টাকার নিচে কিনতে পারবেন, আপাতত এমন সম্ভাবনা নেই। এ মাসের শেষের দিকে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ বাজারে এলে দাম কমবে। এর আগে হয়তো সম্ভব না।

টিএ/এমআই

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত