প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শ্রমিক লীগের সম্মেলন শনিবার, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে নেতৃত্ব

সমীরণ রায়: দীর্ঘ সাত বছর পর আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলন শনিবার ৯ নভেম্বর। এ সম্মেলনে মধ্য দিয়ে সংগঠনের গঠনতন্ত্রেও আসবে পরিবর্তন।পাশাপাশি নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে হবে এবারের নতুন নেতৃত্ব।এমনটাই আভাস পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে।

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সকাল ১১টায় শ্রমিক লীগের সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে।এতে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বিকালে ৩টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে দ্বিতীয় অধিবেশনে সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হবে।তবে শুদ্ধি অভিযানের মতো বড় ধাক্কা ও ভিন্ন রকম পরিবেশের মধ্য দিয়ে এবার আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে নেতাকর্মীদের উদ্দীপনা ছিলো কম।তবে এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব থেকে বাদ পড়ছেন। বাস্তবতা মেনে যোগ্য নেতৃত্বের হাতে সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে।একই সঙ্গে শ্রমিক লীগে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির দক্ষ নেতৃত্ব চায় আওয়ামী লীগেরও হাইকমান্ড। তাই শীর্ষ দু’পদেই আসছে পরিবর্তন।

এদিকে, শ্রমিক লীগের সম্মেলনকে ঘিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণ ছাড়াও আশপাশের সড়কগুলোকে বর্ণাঢ্য সাজে সাজানো হয়েছে। ইতোমধ্যে শ্রমিক লীগের শীর্ষ নেতৃত্বে আসতে চলছে শেষ মুহূর্তের লবিং-তদবির। শুক্রবার রাত পর্যন্ত পদপ্রত্যাশীরা ছুটে চলেছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কাছে। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও ধানমণ্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে করছেন শোডাউন।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে এক ডজন নেতা মাঠে তৎপরতা ছিলো। সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান আকন্দ, বর্তমান কার্যকরী সভাপতি ফজলুল হক মন্টু, সহ-সভাপতি শাহজাহান খান, সরদার মোতাহের উদ্দিন, নূর কুতুব আলম মান্নান, আমিনুল হক ফারুক, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, মোল্লা আবুল কালাম আজাদ। এ ছাড়া বর্তমান সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ আবারও পদে থাকতে চান।বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামও সভাপতি পদে আসতে চান।

সাধারণ সম্পাদক পদের দৌড়ে আছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব মোল্লাসহ বেশ কয়েকজন। তাদের মধ্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, খান সিরাজুল ইসলাম, মু শফর আলী, প্রচার সম্পাদক কেএম আযম খসরু, দফতর সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, অর্থবিষয়ক সম্পাদক সুলতান আহমেদ, শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণবিষয়ক সম্পদক কাউসার আহমেদ পলাশ, ক্রাফট ফেডারেশন বিষয়ক সম্পাদক এটিএম ফজলুল হক বেশ কয়েকজন আলোচনায় রয়েছেন। তবে বিগত কমিটির সফলতা-ব্যর্থতা হিসাব করলে সভাপতি- সাধারণ সম্পাদকের স্বপদে থাকার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।

শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান আকন্দ বলেন, আমি দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছি। তবে আমি চাই অভিজ্ঞ ও যোগ্যরা নেতৃত্বে আসুক। তাই প্রধানমন্ত্রী যাকে চাইবেন, তিনিই নেতৃত্বে আসবেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব মোল্লা বলেন, ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শ্রমিক লীগের রাজনীতির সঙ্গে নেত্রীর কর্মী হিসেবে আছি। তিনি যে পদে দেবেন সেখানেই কাজ করতে চাই।

১৯৬৯ সালের ১২ অক্টোবর প্রতিষ্ঠা লাভ করে জাতীয় শ্রমিক লীগ। ২০১২ সালের সর্বশেষ সম্মেলনে শ্রমিক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পান নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক নেতা শুক্কুর মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ছিলেন জনতা ব্যাংক ট্রেড ইউনিয়নের নেতা সিরাজুল ইসলাম। এ সময়ে ৪৫টি সাংগঠনিক জেলার কমিটি করা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত