শিরোনাম
◈ আলমারি ভর্তি রুপি মিলল সরকারি কর্মকর্তার বাড়িতে ◈ আহসান এইচ মনসুরকে সরানো নিয়ে যা বললেন অর্থমন্ত্রী ◈ বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে উপনির্বাচন ঘিরে ইসির বিশেষ আদেশ ◈ এবার নগদে বিনিয়োগ নিয়ে ব্যারিস্টার আরমান যা বললেন ◈ পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করার অপপ্রয়াস: প্রধানমন্ত্রী ◈ কম্পিউটার অপারেটর থেকে শিক্ষা অফিসার, বিতর্কিত পদোন্নতি নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী ◈ নতুন দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টন, প্রজ্ঞাপন জারি ◈ শুল্ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি দেখে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ : বাণিজ্যমন্ত্রী ◈ হাতিয়ায় এমপি হান্নান মাসউদের ওপর হামলা, সড়কে অবস্থান (ভিডিও) ◈ নতুন আইজিপিকে র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ১১ অক্টোবর, ২০১৯, ১০:২৮ দুপুর
আপডেট : ১১ অক্টোবর, ২০১৯, ১০:২৮ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

স্কুলছাত্রী রিশা হত্যায় ওবায়দুলের মৃত্যুদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের শিক্ষার্থী সুরাইয়া আক্তার রিশা হত্যা মামলায় ঘাতক ওবায়দুল হকের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। যুগান্তর

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ এ রায় দেন। এর আগে ওবায়দুলকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর তাকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, ভিকটিম সুরাইয়া আক্তার রিশা একটি স্বনামধন্য স্কুলের ছাত্রী। রিশার মতো ছাত্রীকে একটি টেইলার্সের কাটিং মাস্টার কর্তৃক হত্যা অসম প্রেমের কারণে। রিশা একজন ব্যবসায়ীর মেয়ে।

ভালোবাসার অধিকার সবার আছে। তবে সেই ভালোবাসা যেন কখনোই সহিংসতায় রূপ না নেয়। রিশার মতো আর কোনো মেয়েকে যেন এজন্য জীবন দিতে না হয়। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় আর কেউ যেন এমন অপরাধ করার সাহস না পায়, এজন্য আসামি পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় সর্বোচ্চ সাজা পাওয়ার যোগ্য। তাই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হল।
রায় ঘোষণার সময় রিশার মা, বাবা, ছোট ভাই ও বোন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও তার সহপাঠীরা আদালতে ছিলেন। এদিন দুপুর ২টা ৫১ মিনিটে ওবায়দুলকে আদালতে নেয়া হয়। বিকাল ৩টায় বিচারক রায় ঘোষণা শুরু করেন। এর ২৬ মিনিট পর আদালত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।

রায় শুনে রিশার মা তানিয়া হোসেন আদালতেই কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, তিন বছর আদালতের বারান্দায় ঘুরেছি। খুনির মৃত্যুদণ্ডাদেশে আমি খুশি। এ রায় যেন হাইকোর্টেও বহাল থাকে। আর যেন কেউ আমার মতো সন্তান না হারায়। এখন রায় কার্যকরই আমার একমাত্র চাওয়া। রিশার বাবা রমজান হোসেন বলেন, দ্রুত এ রায় কার্যকর হোক, এটাই আমাদের দাবি।

রিশার স্কুলের প্রিন্সিপাল আবুল হোসেনও রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান। সহপাঠীরা বলেন, আর যেন কোনো মা-বোনকে হেনস্তা করে কোনো সন্ত্রাসী পার না পায়। অপরাধ করলে যেন তার উপযুক্ত সাজা হয়। এ রায় দ্রুত কার্যকর হলে সমাজে এমন অপরাধ কমে আসবে।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল ও বাদীপক্ষের আইনজীবী ফাহমিদা আক্তার রিংকিও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তারা জানান, এমন জঘন্য হত্যাকাণ্ডের উপযুক্ত সাজা হয়েছে। তবে আসামির আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।

২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট দুপুরে কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের সামনের ফুটওভারব্রিজে রিশাকে ছুরিকাঘাত করে ওবায়দুল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ আগস্ট সকালে রিশার মৃত্যু হয়। ঘটনার দিনই রিশার মা রমনা মডেল থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। তার মৃত্যুর পর তা হত্যা মামলায় রূপ নেয়। ওই বছরের ৩১ আগস্ট নীলফামারী থেকে ওবায়দুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তখন থেকেই সে কারাগারে।

তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর পুলিশ পরিদর্শক আলী হোসেন ওবায়দুলকে একমাত্র আসামি করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেন। পরের বছরের ১৭ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। ২৬ জনের মধ্যে ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৬ অক্টোবর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। কিন্তু ওইদিন কারা কর্তৃপক্ষ ওবায়দুলকে আদালতে হাজির না করায় রায় ঘোষণা পিছিয়ে দেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়