প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যৌন নিপীড়নের সঙ্গে পোশাকের কোন সম্পর্ক নেই, বললেন অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান

তাসকিনা ইয়াসমিন : যৌন নিপীড়নের সাথে পোশাকের সম্পার্ক নাই। পর্দা কেবল মেয়েদের বিষয় না। এটি কেবল বাহ্যিক অবয়ব ঢাকতে নয়, নিজেদের মনকেও সংযত করার বিষয়। ছেলেদের এটি বুঝতে হবে। যেসব ছেলেরা উত্ত্যক্ত করে মেয়েদের তাদের পিতামাতাকে জানাতে হবে। অনেক মেয়ে পথে উত্ত্যক্তের শিকার হলে তাদের বাইরে আসতে পরিবার বাধা দেয় সেক্ষেত্রে পিতামাতাকে বোঝাতে হবে।

সোমবার উত্ত্যক্তকরণ, যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের রায় বাস্তবায়ন বিষয়ে’’ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে একথাগুলো বলেন শেখ বোরহান উদ্দিন পোষ্ট গ্রাজুয়েট কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো: আব্দুর রহমান। কলেজের হলরুমে এই সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।

কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো: আব্দুর রহমান বলেন, উত্ত্যক্তকরণ ও হয়রানি প্রতিরোধ করতে নিজেদের সচেতন হতে হবে, নৈতিক দিক উন্নত করতে হবে এমনভাবে যাতে প্রত্যেকে উপলব্ধি করে আমার দ্বারা কেউ নির্যাতনের শিকার না হয়। সহিংসতার ঘটনা প্রতিরোধে শিক্ষকদের পরামর্শ অনুসরণ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ করার জন্য তিনি সংগঠিত হয়ে কৌশল অবলম্বন করা এবং বড়দের সহযোগিতা নেয়ার আহ্বান জানান।

সভায় শেখ বোরহান উদ্দিন পোষ্ট গ্রাজুয়েট কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগ এর সহযোগী অধ্যাপক এ,এইচ এম মনিরুজ্জোহা উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আমাদের কলেজ উত্ত্যক্তকরণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত। কেননা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক এখানে অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ। শিক্ষকরা পড়াশোনার তত্ত্বাবধানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের রাস্তাঘাটে যাতায়াতের পথে কোন অসুবিধা হয় কিনা সেটি নিয়মিত খেয়াল রাখেন। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সহিংসতামুক্ত করার পাশাপাশি পরিবার, সমাজকে সকল প্রকার সহিংসতা মুক্ত করার জন্য উপস্থিত শিক্ষার্থীদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম বলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ৪৯ বছর ধরে পরিবার ,সমাজ ও রাষ্ট্রে নারী-পুরুষের সমতাপূর্ণ অবস্থান তৈরির জন্য কাজ করে যাচ্ছে ধারাবাহিকভাবে ও নিরলসভাবে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারী পুরুষের সমতা তৈরির জন্য পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে নারী ও শিশুর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা মুক্ত করার জন্য বহুমাত্রিক পদ্ধতিতে কাজ করছে। একদিকে সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুদের আইনগত সহায়তা করছে, রোকেয়া সদনে আশ্রয় দিয়ে সমাজের মুল স্রোত ধারায় আনছে।নারীবান্ধব সমতাপূর্ণ আইন তৈরির জন্য কাজ করছে, অন্যদিকে সচেতনতা তৈরির জন্য তৃণমূল থেকে শুরু করে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষর্থীদের সাথে মতবিনিময় করছে।

তিনি বলেন একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য সকলকে আত্মিক দিক উন্নত করে মুক্তমনা হয়ে নিজেদের কে সচেতন করে তুলতে হবে। সেইসাথে নারী-পুরুষের প্রতি বিরাজমান বৈষম্যমূলক অবস্থার পরিবর্তনে শিক্ষার্থীদের একসাথে সমানভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাবার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক অ্যাড. মাকছুদা আখতার উত্ত্যক্তকরণ, যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের রায় বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি উত্ত্যক্তকরণ, যৌন হয়রানির কারণসমূহ, ২০০৯ সালের মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশাবলী সম্বলিত রায়ে যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের সংজ্ঞা, হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশাবলীর বৈশিষ্ট্য, যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ কমিটি গঠন ও উহার কার্যক্রম, উত্ত্যক্তকরণ ও যৌন হয়রানির ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ, উত্ত্যক্তকরণ ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা তুলে ধরেন।

সভায় মুক্ত আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন শেখ বোরহান উদ্দিন পোষ্ট গ্রাজুয়েট কলেজের শিক্ষক ফারজানা হক, শিক্ষার্থী মো: রাকিব, রাহুল হোসেন, প্রিয়া বিশ্বাস, মো: নাইমুল ইসলাম এবং মো: রিফাত।

মতবিনিময় সভায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেত্রীবৃন্দসহ মোট ১৩২ জন উপস্থিত ছিলেন। সভা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইড উপপরিষদের আইনজীবি অ্যাড. দীপ্তি শিকদার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ