প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিবাহিতরাও ফরম কিনেছেন, ছাত্রদলের কাউন্সিল নিয়ে শঙ্কা

আহমেদ শাহেদ : ছাত্রদলের দুই শীর্ষনেতা কাউন্সিলরদের ভোটে নির্বাচিত করা যাবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চান কাউন্সিলরদের ভোটে শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচন করতে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বিশেষ দুটি সিন্ডিকেটের বাধার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ তারা সমঝোতার মাধ্যমে বাগিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করছেন।

আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিল।  তফসিল অনুযায়ী মঙ্গলবার শেষদিনে নিজ নিজ অনুসারীদের নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ৭৬ নেতা।  শর্ত লঙ্ঘন করে তাদের মধ্যে বিবাহিতরাও রয়েছেন।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ছাত্রদলের একাধিক নেতা বলেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে বিবাহিতরাও মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। কিন্তু প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা হিসেবে স্পষ্টভাবে বলা আছে, অবিবাহিত হতে হবে, এসএসসি ২০০০ সালের মধ্যে হতে হবে, বর্তমানে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবশ্যই ভর্তি থাকতে হবে। কিন্তু ফরম জমা দেয়াদের বড় একটি অংশই বিবাহিত এবং সন্তানও আছে। অনেকে বিষয়টি অস্বীকার করছেন। কেউ বলছেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে বিয়ে করেছিলেন কিন্তু তালাক হয়ে গেছে। বিএনপি ও ছাত্রদলের একাধিক নেতা বলেন, বিবাহিতদের প্রার্থিতা বাতিল করা বা না করা নিয়ে আবারও সংকট দেখা দিতে পারে।

এর আগে বয়সসীমা তুলে দেওয়ার দাবিতে ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির নেতারা প্রকাশ্যে বিরোধিতায় নেমেছিলেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত হলেও ১২ নেতার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার না করায় তাদের মধ্যে অস্থিরতাও রয়েছে। এ অবস্থায় বিশেষ সিন্ডিকেটের ইঙ্গিতে বিবাহিত ইস্যুতে সংকট সৃষ্টি করে আবার ছাত্রদলে অস্থিরতার পাঁয়তারা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কাউন্সিল স্থগিত হয়ে যেতে পারে। তখন বহিষ্কৃত নেতাদের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে কাউন্সিল না করে পকেট কমিটি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিশেষ দুই সিন্ডিকেটের মধ্যে অমিল থাকলেও কমিটি গঠনের সময় তারা এক টেবিলে বসতে পারেন।

ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির সাবেক এক নেতা বলেন, কাউন্সিলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা নিজেরাও জানেন কে বিবাহিত, কে অবিবাহিত। জানার পরও বিবাহিতদের কাছে ফরম বিক্রি করেছেন, জমাও নিয়েছেন। এতে নতুন করে সংকট দেখা দিতে পারে।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আবু তাহের বলেন, বিয়ে করার কারণে প্রার্থিতা বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হতে পারেন। যদিও আমি মনে করি তা ঠিক হবে না। আবার কেউ বিয়ে করেছেন কিন্তু তথ্য-প্রমাণের অভাবে প্রার্থিতা বাতিল হলো না- এ ক্ষেত্রেও অন্যরা প্রতিক্রিয়া দেখাবে।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি আমানুর রহমান বলেন, যদি যাচাই-বাছাই করে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হয় তা হলে কোনো সংকট থাকার কথা নয়। কিন্তু এর ব্যত্যয় ঘটলে সংকট সৃষ্টি হওয়াটাই স্বাভাবিক।

সভাপতি পদপ্রার্থী মামুন খান বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন। ভোটের মাধ্যমে ছাত্রদলের কমিটি গঠনের উদ্যোগই এর বড় প্রমাণ। আমরা মনে করি, যে যা ভাবুক, লাভ নেই। ভোটেই হবে ছাত্রদলের কমিটি। সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ডালিয়া রহমান বলেন, ভোটে নেতা নির্বাচিত হবে- এ সুযোগ পেয়েই প্রার্থী হয়েছি। বিগত সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে আমার কী অবদান- তা নেতাকর্মীরা জানেন। কাউন্সিলররা ভোটের ক্ষেত্রে আমাকে বিবেচনা করবেন বলে আশা রাখি।

কাউন্সিল উপলক্ষে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুল হক মিলনের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রার্থিতা বাছাই কমিটি করা হয়েছে। ফজলুল হক বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া নেতাদের মধ্যে যদি কেউ বিবাহিত হয়ে থাকে, আমরা তাদের তথ্য বের করব। বিবাহিত প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের প্রার্থিতা বাতিল হবে।

৭৫ জনের মনোনয়নপত্র জমা

ছাত্রদলের সভাপতি পদে ২৭ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৪৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গতকাল মনোনয়নপত্র জমার শেষদিনে দুই পদে ৭৬টি ফরম জমা পড়ে। ফরম বিক্রি হয়েছিল ১১০টি। সাধারণ সম্পাদক পদে তিন নেত্রী ফরম কিনেছিলেন। তাদের মধ্যে দুজন বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের নাদিয়া পাঠান পাপন ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডালিয়া রহমান মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আজ বুধবার থেকে আগামী পাঁচ দিন জমা পড়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করবে বাছাই কমিটি।

 

সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সর্দার আমিনুল ইসলাম সাগর, মামুন খান, আসাদুল আলম টিটু, আশরাফুল আলম ফকির লিংকন, আজিম উদ্দিন মেরাজ, ইলিয়াস, হাফিজুর রহমান, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাজিদ হাসান বাবু, আল মেহেদি তালুকদার, মাহমুদুল হাসান বাপ্পি, তানভীর রেজা রুবেল, এরশাদ খান, এবিএম মাহমুদ আলম, এম আরজ আলী শান্ত, মো. সুরুজ মন্ডল, মো. আবদুল মাজেদ, মাইনুল ইসলাম, মো. ফজলুর রহমান, মুহাম্মদ ফজলুল হক নিরব, আরাফাত বিল্লাহ খান, এসএম আল আমিন, মো. জুয়েল মৃধা, আবদুল হান্নান, মো. শামীম হোসেন, এসএএম আমিরুল ইসলাম, সুলায়মান হোসাইন ও আল আমিন কাউছার।

 

সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সাইফ মাহমুদ জুয়েল হাওলাদার, শাহনেওয়াজ, রিয়াজ মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন, ওমর ফারুক শাকিল চৌধুরী, সিরাজুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন রুবেল, আবদুল মান্নান, নাদিয়া পাঠান পাপন, এবিএম বাকির জুয়েল, মিজানুর রহমান শরীফ, মো. ওমর ফারুক, মো. হাসান (তানজিল হাসান), মো. আলাউদ্দিন খান, রাশেদ ইকবাল খান, আমিনুর রহমান, ইকবাল হাসান শ্যামল, ইমদাদুল হক মজুমদার, মো. নাইম হাসান, কেএম সাখাওয়াত হোসেন, এএএম ইয়াহইয়া, ডালিয়া রহমান, সোহেল রানা, মোহাম্মদ কারীমুল হাই নাঈম, মো. মহিনউদ্দীন রাজু, আরিফুল হক, মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব, মোস্তাফিজুর রহমান, আসাদুজ্জামান রিংকু, মো. আবুল বাশার, মো. মিজানুর রহমান সজীব, মো. জুলহাস উদ্দিন, মো. মিজানুর রহমান, মো. জাকিরুল ইসলাম জাকির, সাদিকুর রহমান সাদিক, আবদুল মোমেন মিয়া, কাজী মাজাহারুল ইসলাম, মো. আজিজুল হক সোহেল, শেখ মো. মশিউর, মো. জামিল হোসেন, শেখ আবু তাহের, মো. তবিবুর রহমান সাগর, মাজেদুল ইসলাম, মাহমুদুল আলম শাহিন, মো. জোবায়ের আল মাহমুদ রিজভী, নাজমুল হক হাবীব, জহিরুল ইসলাম (দিপু পাটোয়ারি), আনিসুর রহমান সুমন, এমএম বাবুল আক্তার শান্ত ও মুন্সি আনিসুর রহমান।

 

এএস/এসবি

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত