প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিক্ষায় এগিয়ে গারো সমাজ

শাহীন খন্দকার : বাংলাদেশে নৃ -তাত্বিক জাতি গোষ্ঠির মধ্যে গারো সম্প্রদায়ের মানুষেরা মাতৃতান্ত্রিক। আর এই সম্প্রদায়ের ৮০ ভাগ মানুষ বর্তমানে স্বাক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন। আর শিক্ষার দিক থেকে গারো সম্প্রদায় এগিয়ে আছে বলেও দাবি করেন কেন্দ্রীয় আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রুং। তিনি বলেন, গারোদের নিজস্ব মাতৃভাষা থাকলেও তারা বাংলা ভাষাতেই পড়ালেখা করে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে। সঞ্জিব দ্রুং বলেন, গারোদের শিক্ষাক্ষেত্রে মূলত অবদান রেখেছে আন্তর্জাতিক খ্রিস্ট-মিশনারীগুলো। মিশনারী কর্তৃক যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাহাড়ী জনপদে গড়ে উঠেছিলো বৃটিশ শাসনামলে, সেই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে এমপিওভুক্ত করে নিয়েছে।

তিনি বলেন, চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার মাত্র ৫ ভাগ সুবিধা গারো সম্প্রদায়কে দিচ্ছেন। তিনি সরকারের নিকট আহ্বান জানিয়ে বলেন, গারো নৃ-তাত্বিক জনগোষ্ঠির ক্ষমতায়নে সুনির্দিষ্টভাবে বাজেট বরাদ্দ রাখার জন্য। সঞ্জিব দ্রুং বলেন, গারো জাতির ক্ষমতায়নে শিক্ষাসহ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সকল স্থানীয় নির্বাচনে অগ্রাধীকার ভিত্তিতে কোটার দাবি করেন। শিক্ষা সংস্কৃতি সংরক্ষণে নেত্রকোণা জেলার দূর্গাপুর উপজেলায় এবং সম্প্রতি হালুয়াঘাটে কালচারাল একাডেমির মাধ্যমে গারো হাজং সম্প্রদায়ের জন্য এই দু’টি একাডেমি যথেষ্ট নয়। তাই আরো একাডেমিসহ গারোরা যাতে নিজ মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষালাভ করতে পারে তারও দাবি জানান সরকারের প্রতি। কারণ কালের বিবর্তণে এবং বাংলাভাষায় স্কুল কলেজে শিক্ষা অর্জণের ফলে নিজেদের মাতৃভাষা নতুণ প্রজন্মের গারো শিশুরা তার মাতৃভাষা চর্চা করতে পারছে না!

বাংলাদেশে গারো সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস গড়ে উঠেছে টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলাসহ বিভিন্ন উপজেলায়। তবে ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী, টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলায়। দেশে প্রায় একলাখ বিশ হাজার গারো সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে বলে জানান সঞ্জীব দ্রং।

গারো জাতিগত ভাষা আচিক আর তাদের ভাষা হচ্ছে চীনা-তিব্বতি ভাষা। এটি ভারতের মেঘালয় অঙ্গরাজ্যের গারো পাহাড় এলাকার অধিবাসীদের প্রধান ভাষা। তবে বাংলাদেশেও প্রচলিত। গারোরা নিজেদের মান্দি পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দবোধ করে। মেঘালয়ের প্রতিবেশী অঙ্গরাজ্যের আসামে প্রচলিত বোডো ভাষা-র সাথে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। গারো ভাষা লাতিন লিপিতে লেখা হয়। গারোদের নিজস্ব ভাষায় কোন স্কুল কলেজ গড়ে উঠেনি। সঞ্জিব দ্রুংয়ের দাবি প্রতিটি স্কুলে গারো ভাষায় পাঠ্যদানের জন্য দাবি জানান।

গোত্র ভেদে গারোদের মধ্যে আলাদা আলাদা উপভাষার প্রচল রয়েছে। আচিক উপভাষাটি বাংলাদেশের টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোণা এবং ভারতের মেঘালয় অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত গারোদের মাতৃভাষা। তাদের নিজস্ব ভাষা ‘আচিক’ শব্দের অর্থ পাহাড়। অন্যান্য উপভাষার মধ্যে আছে আবেং, আওযে, চিসাক, দাক্কা, গাঞ্চিং, কামরূপ, মাতচি। বাংলাদেশে আবেং উপভাষাটিও প্রচলিত।

গারো আদিবাসী অঞ্জণ দ্রুং বলেন, গারোদের ঐতিহ্য সংস্কৃতি আজ হারিয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে তাদের মাতৃভাষা। রাস্ট্রিয়ভাবে গারোদের মাতৃভাষা রক্ষার্থে গারো অঞ্চলভিত্তিতে একটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দাবি করেন। যে বিদ্যালয়ে গারো শিশুরা তাদের মাতৃভাষায় শিক্ষা অর্জন করতে পারেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত