প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঐতিহাসিক আতিয়া জামে মসজিদ সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে

অলক কুমার দাস, টাঙ্গাইল : সংস্কারের অভাব ও অযত্ন আর অবহেলায় নষ্ট হতে বসেছে প্রায় ৪শত বছরের পুরোনো ইসলামী স্থাপত্য ও বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন ঐতিহাসিক আতিয়া জামে মসজিদ। বর্তমানে মসজিদটির তিনটি দেওয়ালের মধ্যে একটি দেওয়ালের মাটির কারুকাজ করা মৌটিফগুলোতে লোনা ধরে গেছে। শেওলা জমে নষ্ট হতে বসেছে এইসব কারুকাজ। বৃষ্টি হলে মসজিদে চুঁইয়ে চুঁইয়ে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করে। এ ছাড়া মসজিদের মুসুল্লিদের ওজুর জন্য সামনে একটি পুকুর খনন করা হয়েছিল। আগে পুকুরটিতে বিভিন্ন ধরনের কচ্ছপ দেখা যেত। বর্তমানে মসজিদের এই পুকুরটিতে গৃহস্থালীর কাজসহ কাপড় কাঁচা, গণহারে এলাকার লোকজন গোছল করছে। ফলে কচ্ছপগুলো এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বিভিন্ন ধর্মের মতাদর্শের অনেকেই এখানে আসেন এবং মানত করেন যেন নিজের মনের বাসনা পূর্ণ হয়। মজার বিষয় হচ্ছে, রোগমুক্তির জন্য মসজিদের দেয়ালের পোড়ামাটি নিজের গায়ে মাখা ও সেগুলো খাওয়ার গল্পটি শোনা যায় অনেক দর্শনার্থীর মুখে। আর তাদের এসব কার্যকলাপে মসজিদটির সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই সব সংবাদ প্রকাশিত হবার পরও সংশিষ্ট বিভাগ কোনো ধরণের সংস্কারের উদ্যেগ গ্রহন করেনি।

চুন সুরকির দ্বারা নির্মিত ৪ কোণে ৪টি অষ্টকোণাকৃতির মিনার বিশিষ্ট এই মসজিদটি সুলতানি ও মোগল স্থাপত্য রীতির সুস্পষ্ট নিদর্শন। মসজিদটি আকারে বেশ ছোট, তবে এর মনোমুগ্ধকর কারুকার্য হার মানায় তার আয়তনকে। ৫টি প্রবেশদ্বার সম্বলিত মসজিদটির সামনের অংশে পোড়ামাটির বিভিন্ন নকশা আঁকা ৩টি দেওয়াল রয়েছে। মসজিদটির কার্নিশে শিল্পকর্মের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে তৎকালীন বাংলার বেশকিছু রূপ। এছাড়া পোড়ামাটির তৈরি অসংখ্য ফুলের নকশা থাকার কারণে আতিয়া মসজিদটি বেশ দৃষ্টিনন্দন। ষোড়শ শতাব্দিতে নির্মিত এই মসজিদটি বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের পুরাতত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। ১৯৯৬-১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকার মুদ্রিত ১০ টাকার নোটে স্থান পায় ঐতিহাসিক এই মসজিদের ছবি।

একজন দর্শনার্থী আবির আহমেদ বলেন, আমি বেশ ক’বার এসেছি মসজিদটি দেখতে। বর্তমানে সংস্কারের অভাবে জীর্ণ অবস্থা আতিয়া মসজিদের। দ্রুত এর সংস্কার করা প্রযোজন।

এই ঐতিহাসিক মসজিদটি সংস্কার প্রসঙ্গে দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক মারুফ বলেন, একসময় বাংলাদেশের ১০ টাকার নোটে এই মসজিদটির ছবি ছিল। মসজিদটি ঐতিহাসিক। প্রচুর পর্যটক আসে এই ঐতিহাসিক মসজিদটি দেখতে। মসজিদটি সংস্কার করা হলে আরো অনেক পর্যটককে আকর্ষণ করবে। যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আশা করি, মসজিদটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এসময় তিনি টাঙ্গাইলবাসীর পক্ষে দাবি উত্থাপন করে বলেন, সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি আতিয়া মসজিদের ছবিসহ ১০ টাকার নোটটি পূণরায় চালু করা হোক।
সম্পাদনা : মিঠুন রাকসাম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত