প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পোশাকশিল্পের বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলো নিজেদেরই ঘোষিত ন্যায্যমজুরি কার্যকর করেনি

নূর মাজিদ : পরিবারের ভরণপোষণের সাধারণ চাহিদা যেমন চিকিৎসা, শিক্ষা, বাসস্থান এবং অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের পূর্ণক্ষমতা নেই পোশাকশিল্প শ্রমিকদের। বিশ্বের নামজাদা ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো হাজার হাজার কোটি ডলার মুনাফা অর্জন অব্যাহত রাখলেও, শ্রমিকের ভাগ্য উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছেনা। এমনকি এই ব্র্যান্ডগুলো শ্রমিকদের জন্য নিজেরা যে ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করেছিলো, সেটাও সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। গত বৃহ¯পতিবার যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এবং শ্রম অধিকার কর্মীরা এসব কথা জানান। সূত্র : রয়টার্স

ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়য়ের সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়, অধিকাংশ পোশাকশিল্প কো¤পানি ন্যায্য মজুরি কার্যকর করার বিষয়ে সঠিক কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি। এই বিষয়ে কোন দেশে মজুরি ঠিক কতোটা বাড়ানো দরকার, সেটা নিয়েও তাদের মাথাব্যথা নেই। বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে যুক্ত পোশাক কারখানাগুলোতে এই চিত্র, শ্রমিকদের আর্থিক অবস্থা উন্নয়নে একটি বিশাল উদাসীনতা ও শোষণকে নির্দেশ করে।

এই বিষয়ে শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়য়ের গবেষক প্রফেসর গেনেভিভে লেবারন বলেন, ‘অধিকাংশ পোশাক কারখানাগুলো শ্রমিকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো, তার অধিকাংশই পূরণ করা হয়নি। মজুরি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই অবস্থা আরো স্পষ্ট।’

এদিকে পোশাক শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্তর্জাতিক আন্দোলন ক্লিন ক্লথ ক্যাম্পেইন বলছে, ন্যায্য-মজুরির মাধ্যমে একজন শ্রমিক তার পরিবারের জন্য স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে পারেন। এর মধ্যে খাদ্য থেকে শুরু করে বাড়িভাড়ার মতো বিষয়ও রয়েছে।
এদিকে শেফিল্ডের গবেষকরা বিশ্বের খ্যাতনামা ২০টি ব্র্যান্ডের ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে গবেষণা করে সা¤প্রতিক প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছেন। সেখানে তারা জানান, সুইডেনের এইচঅ্যান্ডএম, নেদারল্যান্ডের সিঅ্যান্ডএ এবং জি-স্টার র- শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো তা তারা বিশ্বব্যাপী বাস্তবায়ন করেছে। বাকি ১৭টি ব্র্যান্ড এই দিক থেকে একদম পিছিয়ে।

এদিকে এই প্রতিবেদন এমন সময় প্রকাশ করা হলো যখন বিশ্বব্যাপী ৬ কোটি পোশাকশিল্প শ্রমিকের অতি-দারিদ্রকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো আধুনিক দাসত্বের সঙ্গে তুলনা করছে। এই বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে তারা ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর ওপর চাপের মাত্রা বৃদ্ধি করছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত