প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ওসি মোয়াজ্জেমের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও হাতে পাননি কেউ

নিউজ ডেস্ক : গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন গ্রেফতার হননি এখনও। পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তার অবস্থান সম্পর্কে অবহিত থাকলেও তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। মঙ্গলবার (২৮ মে) বিকাল পর্যন্ত তিনি সংশ্লিষ্ট আদালত কিংবা উচ্চ আদালতেও আত্মসমর্পণ করেননি বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এখনও তারা গ্রেফতারি পরোয়ানা হাতে পাননি। পরোয়ানা হাতে পেলেই তাকে গ্রেফতার করা হবে। তবে পুলিশ চাইলে গ্রেফতারি পরোয়ানা হাতে না পেলেও তাকে আটক করে থানায় কিংবা আদালতে হস্তান্তর করতে পারে বলে মনে করেন আইনজীবীরা। বাংলা ট্রিবিউন

যৌন হয়রানির বিষয়ে ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির বক্তব্যের একটি ভিডিও ধারণ ও তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গত ১৫ এপ্রিল ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এ মামলা দায়ের করেন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ ও মামলার নথি পর্যালোচনা করে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন সোমবার (২৭ মে) ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

সাইবার ট্রাইব্যুনালের পেশকার শামীম আল মামুন জানান, আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেওয়ার পরই তারা ডাকযোগে সোমবার (২৭ মে) ফেনীর সোনাগাজী থানার উদ্দেশ্যে গ্রেফতারি পরোয়ানাটি পাঠিয়ে দিয়েছেন। তবে মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত সেটা হাতে পাননি বলে জানিয়েছেন সোনাগাজী থানার বর্তমান ওসি মাইন উদ্দিন। তিনি বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে সেটা হাতে পাইনি।

গত ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে এইচএসসি সমমানের আলিম আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। তখন তাকে কৌশলে মাদ্রাসাটির সাইক্লোন শেল্টার ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান। এর আগে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতকে যৌন নিপীড়ন করে বলে অভিযোগ ওঠে। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে গত ২৭ মার্চ এ ব্যাপারে সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে নুসরাতের মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে (১০ এপ্রিল) ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে সোনাগাজী থানা থেকে প্রত্যাহার করে ফেনীর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) বদলি করা হয়। পরে সেখান থেকে তাকে রংপুর রেঞ্জে বদলি করা হয়। পুলিশ সদর দফতরের তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী গত ৮ মে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। গত সপ্তাহে তিনি রংপুর রেঞ্জে যোগ দেন।

ওসি মোয়াজ্জেমের গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, তারা এখনও গ্রেফতারি পরোয়ানা হাতে পাননি। গ্রেফতারি পরোয়ানা হাতে পেলে তাকে গ্রেফতার করা হবে।

ওসি মোয়াজ্জেমের গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, কারও বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর সেই গ্রেফতারি পরোয়ানা হাতে নিয়েই পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে হবে। তবে যদি কারও বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে এমনটা জানা থাকে, আর তখন গ্রেফতারি পরোয়ানা হাতে না থাকলেও তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে সাধারণ মানুষও ওই ব্যক্তিকে ৫৯ ধারার ক্ষমতাবলে আটক করে থানায় সোপর্দ করতে পারে। ওসি মোয়াজ্জেম তো পুলিশেই আছেন।

এদিকে সাইবার আদালতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলার বাদী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানা যেই থানাতেই যাক, পুলিশ তাকে সেই গ্রেফতারি পরোয়ানা অনুযায়ী গ্রেফতার করতে পারে। তাছাড়া পুলিশ তাদের নিজেদের ভাবমূর্তির স্বার্থে এখনই তাকে স্যারেন্ডার করাতে পারে। ওসি মোয়াজ্জেম নিজেও সাইবার আদালতে গিয়ে স্যারেন্ডার করতে পারেন কিংবা উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিতে পারেন। সেই সুযোগও আছে। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত ওসি মোয়াজ্জেমের স্যারেন্ডার কিংবা জামিন নেওয়ার বিষয়টি শুনিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত