শিরোনাম
◈ তাবলিগের শীর্ষ মুরুব্বি মাওলানা ফারুকের ইন্তেকাল ◈ আরও ১৭১ খেলোয়াড় ক্রীড়া কার্ড পেলেন ◈ ওয়াশিংটনের দাবিকে ‘অবাস্তব’ আখ্যা, আলোচনায় না যাওয়ার ঘোষণা ইরানের ◈ যে জেলায় আগের দামেই মিলছে জ্বালানি তেল! ◈ ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন শেয়ার করায় গ্রেফতারের পর কারাগারে, সংসদে হাসনাত ও চিফ হুইপের মধ্যে বিতর্ক ◈ জোট শরিকরা সংরক্ষিত নারী আসনে কে কতটি পেল জামায়াত থেকে ◈ বিদ্যুৎ খাতে ৫২ হাজার কোটি টাকা বকেয়া, ঋণের বোঝা দেড় লাখ কোটি: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী ◈ বাসে ৬৪ শতাংশ, লঞ্চ ভাড়া দেড়গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব ◈ ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে পৌঁছাল মার্কিন দল ◈ সোমবার বগুড়ায় যাত্রা, ‘ই-বেইল বন্ড’ চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ২৭ মে, ২০১৯, ০২:৪০ রাত
আপডেট : ২৭ মে, ২০১৯, ০২:৪০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষকের কান্না, ২মণ ধানে ১কেজি গরুর মাংস

জাকির হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: এ বছরের বোরো মৌসুমে উৎপাদিত ধান নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা বিপাকে পড়েছে। ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তারা চরমভাবে হতাশ। ২ মণ ধান বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে না ১ কেজি গরুর মাংস।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬২ হাজার ৩৬০ হেক্টর আর অর্জিত হয়েছে ৬২ হাজার ৩৫০ হেক্টর।

কৃষি বিভাগ বলছে, উৎপাদন গত বছরের তুলনায় এবার কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর প্রতি হেক্টরে চাল উৎপাদন হয়েছিল ৩.৮ টন আর এবার বৃদ্ধি পেয়ে ৪ টন হচ্ছে।

দাম কম থাকার কারণে অধিকাংশ কৃষক গত বছর ধান বিক্রি করেনি। তাই এসব কৃষকরা সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

পীরগঞ্জ উপজেলার চন্দরিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, আমি এ বছর ২৬ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। প্রায় ১২শত মণ ধান আমার উৎপাদন হয়েছে। আমার পরিবারে বছরে ৪০ মণ ধান খাবার জন্য প্রয়োজন হয়।

বাকি ধান আমি বিক্রি করব। বর্তমানে বাজারে ৬ শত টাকা করে বস্তা মোটা ধান বিক্রি হয়। আমার প্রতি বস্তা ধান উৎপাদন করতে ৬ শত থেকে ৭ শত টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে বাজারে যে দাম আছে সেই দামে ধান বিক্রি করলে প্রতিমণ ধানে দেড় থেকে ২ শত টাকা লস হবে।

পীরগঞ্জ উপজেলার জয়কৃষ্টপুর (তাজপুর)গ্রামের জবাইদুর রহমান বলেন, শনিবার  কাতিহার  বাজারে গিয়ে ৬শত টাকা বস্তা মোটা ধান বিক্রি করেছি। বাড়িতে মেহমান থাকায় গরুর মাংস কিনতে হয়েছে ৬০০ টাকা করে। এখানে বস্তা ধান বিক্রি করলে ১ কেজি গরুর মাংস কেনা যায় না। শুনেছি সরকার ১০৪০ টাকা করে ধান ক্রয় করবে। এই দামে ধান বিক্রি করতে পারলে আমরা লাভবান হব।

৮নং দৌলতপুর ইউনিয়নের আঃলীগের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান রাজেন্দ্র নাথ রায় বলেন, ব্যক্তিজীবনে আমিও একজন কৃষক। আমি মনে করি আগামীতে কৃষকরা যদি রপ্তানিমুখী ধান চাষ করে তাহলে তারা অনেকটাই ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে। এ জন্য সরকারকে রপ্তানিমুখী ধান চাষে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আফতাব হোসেন বলেন, ধান উৎপাদনের জন্য সব উপাদন সময় মতো পাওয়ায় ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে চাষিদের ধান উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বর্তমান বাজারে ধানের যে দাম তাতে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব ধান শুকিয়ে সংরক্ষণ করলে পরে লাভবান হতে পারে ।

তবে ধানের দাম বৃদ্ধির দাবিতে শনিবার দুপুরে জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার প্রিয়াঙ্কা হোটেলের সামনে ও ঠাকুরগাঁও-ঢাকা মহাসড়কের খোঁচাবাড়ি এলাকায় ধান ছিটিয়ে এ বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা। এ সময় ঠাকুরগাঁও-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ-সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- ঠাকুরগাঁও সদর থানা সিপিবির সভাপতি আহসানুল হাবিব বাবু, জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক রিজু, কৃষক সমিতির নেতা এরশাদুল ও সাইফুল প্রমুখ।

সমাবেশে কৃষকেরা বলেন, বর্তমানে ঠাকুরগাঁওয়ের হাট-বাজারগুলোতে প্রতি মণ ধান ৩০০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ প্রতি মণ ধান উৎপাদনে খরচ পড়েছে ৬০০-৬৫০ টাকা। এভাবে ধানের দাম প্রতিবার কম পাওয়ায় আমরা লোকসানে পড়ি। বর্তমানে ৮ টাকা কেজি দরে ৩২০০ টাকা ধানের মণ বিক্রি করতে হয় আমাদের। এভাবে চলতে থাকলে আমরা আর ধান চাষ করব না। এ সময় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ধানের বিক্রয় মূল্য উৎপাদন খরচের থেকে কম হওয়ায় কৃষকরা মারাত্মক সঙ্কট ও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানান একাধিক কৃষক জানান।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়