প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

অসহনীয় যানজটে অবরুদ্ধ নগর কুমিল্লা

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা প্রতিনিধি : আজ শনিবার সরকারি ছুটির। তারপরেও কুমিল্লার নগরীর প্রধান সড়ক থেকে অলিগলিতে যানবাহনের চাপে অসহনীয় যানজটে ক্ষণে ক্ষণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে নগরী। তখন ফুটপাত হয়ে উঠে গন্তব্য পৌছার একমাত্র উপায়। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মৌসুমি চালকদের আগমনে নগরীর সড়কগুলোতে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশী যাত্রীবাহী-মালবাহী যান- চলাচলের কারনে এমন বিপর্যস্ত অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। অতিরিক্ত বাহন সংকীর্ণ সড়ক, যত্রতত্র সিএনজি চালিত অটোরিক্সা স্ট্যান্ড, পর্যাপ্ত গাড়ি পার্কিংএর অভাবে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোজাদারদের সাথে সকল শ্রেণির পেশা মানুষদের।

শনিবার দুপুর সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নগরীর কান্দিরপাড় থেকে টমসম ব্রীজ সড়কে থেমে আছে সব যানবাহন। যানজটের মাঝে আটকে থাকা এ্যাম্বুল্যান্সটি কোন ভাবেই নড়তে পারছেনা। চাঁদপুর কচুয়া থেকে সদ্য প্রসব করা এক নারীর সিজারের যন্ত্রনা শুরু হলে চিকিৎসকের পরামর্শে কুমিল্লা টাওয়ার হসপিটালের উদ্দেশ্যে রওনা করেন। চাঁদপুর থেকে নির্বিঘ্নে কুমিল্লা পদুয়ার বাজার পর্যন্ত আসার পরেই যানজটে পরে রোগীবাহী এ্যাম্বুল্যান্সটি। দীর্ঘ পয়ত্রিশ পর কান্দিরপাড় লাকসাম সড়কটির কান্দিরপাড়-টমসম ব্রীজের অংশটি যান চলাচলে কিছুটা স্বাভাবিক হয়।

তবে বেলা সাড়ে বারোটায় আরো কঠিন অবস্থায় ছিলো নগরীর প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড় থেকে রাজগঞ্জ এবং রাজগঞ্জ থেকে চকবাজার সড়কটি। এ সড়কটির সাথে সংযোগ সড়কেও যানবাহনের বাড়তি চাপ থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে যানজটে আটকে পরে অবর্ননীয় দূর্ভোগ পোহাতে হয় নগরীতে কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ মানুষজন।

এদিকে পুলিশ হয়ে ফৌজদারি এবং ফৌজদারী থেকে মোগলটুলী পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও রাজগঞ্জ থেকে চকবাজার পর্যন্ত দিনভর থেমে যানজট লেগে থাকে।

নগরীর পুলিশ লাইন থেকে শাসনগাছা পর্যন্তও দিনভর যানজট ছিলো। ইফতারির আগে সড়কটিতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও ইফতারের পর থেকে রাত আটটা পর্যন্ত থেমে থেমে যানজট লেগে থাকে।

নগরীর রেইসকোর্স রেলওয়ে ওভারপাসের পূর্ব এবং পশ্চিম পার্শ্বে যাত্রী উঠানামা করায় ওভারপাসের দু পার্শ্বেই দিনভর যানজট সৃষ্টি হয়। দুপুরের পর কড়া রোদ আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ তখন রোজা রেখেই যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশদের সড়কে শৃঙ্খলা আনতে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায়।

সড়ক সংস্কার ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার পরও কেন এত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, খুব সহজভাবে এমন প্রশ্নের জবাব দেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. কামাল উদ্দিন। তিনি জানান, সড়ক কতটুকু সংস্কার শেষ হয়েছে? আর বড় বড় শপিং মলগুলোর কয়টার পার্কিং আছে।

ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. কামাল উদ্দিন জানান, স্বীকার করছি আমাদের লোকবল কম কিন্তু দায়িত্ব পালনে সব ট্রাফিক পুলিশ বদ্ধ পরিকর। তিনি আরো জানান, নগরীর যে সমস্ত মূল ও সংযোগ সড়ক রয়েছে সে সড়কগুলোতে ধারণ ক্ষমতা চেয়ে বেশী যানবাহন চলাচল করছে। এতে স্বাভাবিকভাবে যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে।

যে নগরীতে অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন বাহনসহ পর্যাপ্ত সড়ক ও সংযোগ সড়কের অভাব, নগরীতে অবৈধ ভাবে সড়ক ঘেষে কোথাও বা সড়কের উপরেই সিএনজি চালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড গড়ে উঠে সে নগরীতে হাজারো ট্রাফিক পুলিশ কাজ করলেও যানজট নিরসন করা সম্ভব হবে না।

যানজট নিরসনে সিটি কর্পোরেশনের বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। এছাড়াও ভূমিকা নিতে হবে জনপ্রতিনিদের। সংশ্লিষ্টরা ভূমিকা নেয়ার পরে যদি নগরীর সড়কগুলোতে যানজট সৃষ্টি হয় তাহলে তার দায়ভার জেলা পুলিশের হয়ে জেলা ট্রাফিক বিভাগ যানজট সৃষ্টির এমন দায় নিতে প্রস্তুত রয়েছে।

নগরীতে যানজট নিরসনের বিষয়ে সিটি মেয়র মোঃ মনিরুল হক সাক্কু বলেন, এখনো নগরীর প্রধান সড়ক ও সংযোগ সড়কের সংস্কার কাজ চলছে। এদিকে সামনে ঈদ।নগরীতে ঈদের কেনাকটায় বাড়তি বাহন ও মানুষজনের পদচারনাও যানজট সৃষ্টির অন্যতম কারন।
তবে আশা করছি ঈদের দু’এক দিন আগে সড়ক সংস্কার কাজ প্রায় শেষ হয়ে যাবে। আশাকরি তারপর থেকে নগরীতে আর যানজট স্থায়ীরুপ নিতে পারবেনা। আর এ জন্য এখন সর্বাগ্রে নগরবাসীর সহযোগিতা খুব বেশী প্রয়োজন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত