প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নওগাঁয় আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়েছে আম নামানো, প্রচারের অভাবে পাচ্ছেনা পরিচিতি

নওগাঁ প্রতিনিধি : গোপালভোগ জাতের আম সংগ্রহের মাধ্যমে নওগাঁর বাজারে আসছে আম। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আম সংগ্রহে উদ্বুদ্ধকরন ও ব্যাপক প্রচারের লক্ষে জেলার পোরশা উপজেলায় গোপালভোগ আম নামানোর (পাড়া) মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়। ‘ফলের রাজা আম, আমের রাজা পোরশা’ শ্লোগানকে সামনে রেখে চলতি মৌসুমে জেলার পোরশায় গোপালভোগ জাতের আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে।

 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ২৪ মে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার বড় মাদ্রাসার পাশের আলহাজ্ব আব্দুস সামাদের আম বাগান থেকে আম নামানো শুরু হয়। আম নামানোর উদ্বোধন করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হামিদ রেজা। আম অধিকতর নিরাপদ এবং এই আমকে সারা বাংলাদেশে ব্যাপক পরিচিতি করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানানো হয়।

 

এসময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজ আলম, খাদ্য কর্মকর্তা শওকত জামিল প্রধান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হাই, পোরশা আম সমিতির সভাপতি আব্দুস সামাদ শাহ্, সম্পাদক মোস্তফা শাহ, বাহারী বাজার অনলাইন আম ব্যাবসায়ী মাসুদ পারভেজ, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এমরইচ উদ্দিন সহ আম ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রমতে, এ বছর জেলায় ১৮ হাজার ৫২৭ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এর মধ্যে পোরশায় ৯ হাজার হেক্টর, সাপাহার উপজেলায় ৪ হাজার হেক্টর, নিয়ামতপুরে ৯৫০ হেক্টর, পত্নীতলায় ২ হাজার ২শ হেক্টর, ধামইরহাটে ৬১৫ হেক্টর, মান্দায় ৪শ হেক্টর, নওগাঁ সদরে ৪ শ হেক্টর, মহাদেবপুরে ৩৬০ হেক্টর, বদলগাছীতে ৩৪০ হেক্টর, রানীনগের ১৪৬ হেক্টর এবং আত্রাইয়ে ১১৬ হেক্টর। এ বছর আমের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন।

 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২৪মে গোপালভোগ, ৩০মে খিরসাপাত/হিমসাগর, ১ জুন নাগ ফজলি, ৭ জুন ল্যাংড়া, ১৫ জুন ফজলী, ২২ জুন আম্রপালি, ১ জুলাই আশ্বিনা আম গাছ থেকে পাড়া হবে। আম চাষীরা আমে কোন প্রকার কেমিকেল প্রয়োগ করতে না পারে জন্য বাগানগুলোতে প্রশানের নজদারি বাড়ানো হয়েছে।

 

আমচাষিরা বলেন, এঁটেল মাটি হওয়ার এ এলাকার আম বেশ সুস্বাদু। এ এলাকার আমকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বলে বিক্রি করা হয়ে থাকে। যখন আম পাকা শুরু হয় তখন একসাথে বাজারে উঠতে শুরু করে। আর এ সুযোগে আম ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে আমের দাম কমিয়ে দেয়। এতে করে চাষিরা দাম কম পায়, কিন্তু ব্যবসায়ীরা লাভ ঠিকই পায়। চাষিরা ন্যায্য দাম পাওনা থেকে বঞ্চিত হন। আম মৌসুমে দামের ব্যাপারে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন আম চাষীরা।

 

পোরশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজ আলম বলেন, এ উপজেলার আম স্বাধে-গন্ধে-মানে-মিষ্টিয়তায় অতুলনীয়। নিরাপদ আম উপাদনের লক্ষে চাষিদের সাথে আমরা আমরা বিভিন্ন সময়ে মতবিনিময় করেছি এবং আমরা পেরাশা আমকে ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে দেশে-বিদেশের রপ্তানি করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আমের ব্যাপক প্রচার ও বিভিন্ন তথ্য প্রদানের জন্য ‘উপজেলা কৃষি অফিস পোরশা’ নামে একটি ফেসবুক আইডি ও ‘পোরশার আম’ নামে একটি ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে। সেখানে আমের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাবে। আমের ব্র্যান্ডিং (প্রচার-প্রচারণা)-এর অভাবে অনেকটাই পিছিয়ে আছে। নওগাঁর আমকে ব্রান্ডিং হিসেবে পরিচিত করার জন্য সকলের সহযোগিতা চান তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত