প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের উপায় হতে পারে মেরু অঞ্চলের শীতল পরিবেশে চাষবাস

মঈন মোশাররফ : মেরু অঞ্চলের চরম শীতল পরিবেশে চাষবাসের কথা ভাবা যায় কি? নরওয়ের উত্তরে এক দ্বীপে এমনই দুরূহ কাজ করে দেখাচ্ছেন এক ব্যক্তি। লতাগুল্মের পর শাকসবজিও উৎপাদন করতে চান তিনি। নরওয়ের উত্তরে স্পিৎসব্যার্গেন দ্বীপে শীতকালে মাসের পর মাস ধরে অন্ধকার থাকে। মাইনাস ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মাটিও জমে যায় । সেখানে মানুষের তুলনায় তুষার ভালুকের সংখ্যা বেশি।

বিশ্বের উত্তরতম বসতিতে বেঞ্জামিন ভিডমার লতাগুল্ম ও শাকসবজি চাষ করছেন। সহকর্মী হেগে গিসক্লের সঙ্গে তিনি এখানে এক পরীক্ষা চালাচ্ছেন। জায়গাটির নামও রেখেছেন ল্যাব। প্রায় ক্রান্তীয় এই পরিবেশে বীজ প্রস্ফুটিত হয়। বেসিল বা তুলসীর মতো অনেক লতাগুল্ম গজিয়ে ওঠে। হেগে বলেন, টাওয়ার ঢোকানোর পর আর্দ্রতা যে বেড়ে গেছে, সেটা লক্ষ্য করেছেন তো? কারণ আমরা তার মাত্রা ২০ থেকে প্রায় ৪৫ বা ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছি।

মেরু অঞ্চলের মালিদের আরও অনেক পরীক্ষা চালাতে হবে। বিষয়টি নিয়ে আগের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। ভিডমার শুধু তাজা শাকসবজি খেতে চেয়েছিলেন। তখনই তার মাথায় এই আইডিয়া আসে। কোনো একদিন সেখানে টমেটোও গজাবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। পৃথিবীর এত উত্তর প্রান্তে যা কখনো ঘটেনি।

২০৫০ সালে বিশ্বের বর্তমান জনসংখ্যার সঙ্গে আরও তিনশ কোটি মানুষ যোগ হবে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের কোনো অঞ্চল ডুবে যাচ্ছে, আর কোথাও দেখা দিচ্ছে খরা। ফলে ফসল উৎপাদনের নতুন পদ্ধতি খুঁজেতে হচ্ছে, বিশেষ করে খরাপ্রবণ এলাকায় কীভাবে শস্য ফলানো যায়, তা ভাবছেন বিজ্ঞানীরা। এই সমস্যার সমাধান হতে পারে হাইড্রোপনিকস বা জলচাষ ।

নার্সারিতে বীজ বপনের সময় জার্মান ছাত্রী আনা কেক্সেল সাহায্য করেন। তবে তার কাছে স্পিৎসব্যার্গেন-এর জীবনযাত্রা মোটেই আদর্শ নয়। আনা বলেন, আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো, স্পিৎসব্যার্গেন-এর মতো জায়গায় মানুষের বসবাস করা উচিত নয়। একদিকে চরম আবহাওয়া, অন্যদিকে টেকসই জীবনযাত্রা এখানে সম্ভব নয় । কিন্তু মানুষ এখানে থাকবে না, এমনটা কখনোই হবে না। তাই এখানে গাছপালা লাগানোর স্বাধীন প্রচেষ্টাকে খুব ভালো পদক্ষেপ বলে আমি মনে করি।

বেঞ্জামিনের জন্য বিষয়টি শুধু তাজা শাকসবজির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তিনি বলেন, আমরা এখানে যে সব প্রক্রিয়া সৃষ্টি করেছি, তা কাজে লাগিয়ে শহরের মাঝে অথবা বিভিন্ন দ্বীপেও খাদ্য উৎপাদন সম্ভব। অর্থাৎ আমরা এখানে যা করেছি, যে কোনো জায়গায় তা করা সম্ভব । এখানকার মতো চ্যালেঞ্জিং জায়গা কোথাও নেই ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত