প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

টাঙ্গাইলে জাতীয় পতাকার অবমাননা

অলক কুমার দাস, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : জাতীয় পতাকা না তুলে ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানী করা হচ্ছে, পুরো জাতিকে অসম্মান করা হচ্ছে। এটা রীতিমতো অন্যায়। কথাগুলো বলছিলেন স্থানীয় মহর আলী (৫৫)। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নে নিয়মিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করার বিষয়ে এরকম মন্তব্য করেন তিনি।

ঐ ইউনিয়ন পরিষদে জাতীয় পতাকার প্রতি নেই কোন সম্মান, এমনকি নেই সামান্যতম যত্ন। জাতীয় পতাকাটি যেন কোন উচ্ছিষ্ট বস্তু। এরই সাথে নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে চলছে পরিষদের কার্যক্রম।

ইউপি চেয়ারম্যান সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন তোফা শহরে অবস্থান করার কারণে প্রায়ই ইউনিয়ন পরিষদে অনুপস্থিত থাকেন। মাসে ২/১ দিন পরিষদে উপস্থিত থাকার কারণে পরিষদের নিত্যদিনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। আর ইউনিয়নের জনসাধারণ প্রতিনিয়তই নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পোহাতে হচ্ছে নানান ভোগান্তি।

বুধবার (২২ মে) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি কক্ষ তালাবদ্ধ। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি। দেখা মেলে ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কেয়ার-টেকার জাহাঙ্গীর আলমের।

তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব সদর উপজেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন, তাই নিয়মিত পরিষদের আসতে পারে না।

সচিবের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, সচিবের নাম মির্জা ওমর ফারুক, বদলি হলেও দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ার কারণে নতুন সচিব যোগদান করেনি। তাছাড়া চেয়ারম্যান সাহেব পুরাতন সচিবকে রাখার জন্য চেষ্টা করছেন।

পতাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পতাকা আজকে টাঙানো হয়নি তবে পতাকা ভিতরে আছে। ভিতরে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের অবহেলিত রং জ্বলে যাওয়া জাতীয় পতাকাটি অযত্ন অবহেলায় জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায় রুমে ফেলে রাখা হয়েছে। পতাকাটির ওপরে ধুলো জমে গেছে। দেখলেই বোঝা যায় এই ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন যাবৎ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি।

এ ব্যাপারে হুগড়া গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে বাবলু মিয়া বলেন, পরিষদের চেয়ারম্যানই ঠিকমত আসেনা, সচিবেরও খবর নাই, তাহলে জাতীয় পতাকা তুলবে কে? অনেক সময় দেখা যায় পতাকা মাঝে মধ্যে তুললেও ২/৩ দিন পার হলেও কেউ নামায় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে তেমন নজরদারি না করলেও বড় হওয়ার জন্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়মিত চালাচ্ছেন। অথচ জন্ম সনদ, ওয়ারিশান সনদ তুলতে গেলে পরিষদে কাউকে পাওয়া যায়না।

সচিব ওমর ফারুকের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান শহরে থাকায় পরিষদের কাজগুলো শহরে এসে করাতে হয়, তাই পরিষদে সময় দিতে পারেন না।

এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ বীর বিক্রম বলেন, ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা, আমাদের মানচিত্র, আমাদের পতাকা। এই পতাকার অবমাননা মানে ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের অবমাননা। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের নিকট থেকে এই ধরণের কর্মকাণ্ড কাম্য নয়।

এ ব্যাপারে হুগড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন তোফা মুঠোফোনে বলেন, আপনারা পরিষদে গেছেন কেন? আমি তো শহরেই থাকি।

বিষয়টি জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে জানালে, তিনি বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক ঘটনাটি আমি দেখব।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত