প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

খুলনায় পাটকল শ্রমিকদের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

শরীফা খাতুন শিউলী, খুলনা প্রতিনিধি: বকেয়া মজুরি প্রদানসহ নয় দফা দাবিতে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের উৎপাদন এখনও বন্ধ রেখেছে শ্রমিকরা। রোববারও শ্রমিকরা তিনঘণ্টা সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে। এ সময় তারা সড়কে আসর ও মাগরিবের নামাজ আদায় এবং সড়কের উপরেই ইফতার করেন।

এদিকে শ্রমিক নেতারা বৈঠক করে আগামী বুধবার থেকে বিকালের পরিবর্তে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সড়ক-রেলপথ অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

বিভিন্ন নাগরিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো শ্রমিকদের দাবির প্রতিসংহতি প্রকাশ করে আন্দোলনে নেমেছে।

রোববার পাটকল শ্রমিকদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে মানববন্ধন করেছে খুলনা মহানগর বিএনপি। আর বিক্ষোভ মিছিল করেছে ওয়ার্কার্স পার্টি।

অন্যদিকে সোমবার খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে খুলনার ২৩ টি নাগরিক সংগঠন। এদিন সকালে খালিশপুর শিল্পাঞ্চলে মানববন্ধন করবে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন।

পাটকল শ্রমিকরা জানান, রোববার বিকেলে পাটকলগুলোর শ্রমিকরা প্রথমে নিজ নিজ মিল গেটে সমবেত হন। বৈরি আবহাওয়া বৃষ্টি উপেক্ষা করে ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর ও স্টার জুটমিলের শ্রমিকরা মিছিল সহকারে নগরীর নতুন রাস্তা মোড়ে গিয়ে খুলনা-যশোর মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন। অবরোধের কারণে খুলনা-যশোর মহাসড়ক, বিআইডিসি রোড ও নতুন রাস্তা মোড় থেকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকরা মহাসড়কের ওপর আসরের নামাজ আদায় এবং পরে একই স্থানে বসে ইফতার করেন ও মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। নামাজের পর তারা চলে যান। এছাড়া আলিম ও ইস্টার্ন জুটমিলের শ্রমিকরা রোববার আটরাশিল্প এলাকায় এবং জেজেআই ও কার্পেটিং জুটমিলের শ্রমিকরা রাজঘাট এলাকায় একই কর্মসূচি পালন করেন।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক খলিলুর রহমান জানান, রোববার বেলা ১১টায় তারা ক্রিসেন্ট জুটমিল সিবিএ কার্যালয়ে বৈঠক করেন। সেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আগামী বুধবার থেকে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টা মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া তার আগ পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেলে ৩ ঘণ্টা করে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পরিষদের আহবায়ক সোহরাব হোসেন বলেন, ৯ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকরা কাজে ফিরে যাবে না। তাতে যতদিন আন্দোলন করার প্রয়োজন হয় ততদিন করবেন।

এদিকে শনিবার বিকেলে সড়ক অবরোধ চলাকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন সেখানে গিয়ে শ্রমিকদের কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহবান জানান। তিনি শ্রমিকদের বলেন, সরকার দু’একদিনের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া টাকা পরিশোধ করবে এবং অন্যান্য দাবি মেনে নিয়েছে। তবে জেলা প্রশাসকের আহবানে সাড়া দেয়নি শ্রমিকরা।

বিজেএমসির খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনার ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, স্টার, খালিশপুর, দৌলতপুর, ইস্টার্ন, আলিম এবং যশোরের জেজেআই ও কার্পেটিং জুটমিলে স্থায়ী শ্রমিক রয়েছেন ১৩ হাজার ১৭০ জন এবং বদলি শ্রমিক সংখ্যা ১৭ হাজার ৪১৩ জন। শ্রমিকদের ৯ থেকে ১২ সপ্তাহের মজুরি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৪ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। তাদের পাওনার পরিমাণ প্রায় ৫৯ কোটি টাকা।

এ ব্যাপারে বিজেএমসির খুলনা আঞ্চলিক সমন্বয়কারী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বিজেএমসির প্রধান কার্যালয় শ্রমিকদের বকেয়া টাকা পরিশোধ করার চেষ্টা করছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত