প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মোদীই ফিরছেন বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে?

বিভুরঞ্জন সরকার : বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ ভারতের ১৭ তম লোকসভা নির্বাচন শেষ হয়েছে ১৯ মে। এখন ফলাফল ঘোষণার অপেক্ষা। ২৩ মে জানা যাবে কে হচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তবে বুথ ফেরত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে। সব জরিপ সংস্থার জরিপেই বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। গত নির্বাচনের আগেও বুথ ফেরত সমীক্ষা সঠিক হয়েছিলো। সে হিসেবে ধরে নেয়া যায় যে নরেন্দ্র  মোদীই হচ্ছেন আবারো ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

মোদী তার ক্ষমতার পাঁচ বছরে একবারও সংবাদ সম্মেলন করেননি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হননি। এবার নির্বাচনের শেষে এসে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়ে শুধু জানিয়েছেন যে তিনশ আসন জিতে তিনি আবার ফিরে আসছেন ভারত শাসনের শীর্ষ পদে। তিনি দাবি করছেন,  তার দাবির সঙ্গে মিল  খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে বুথ ফেতর সমীক্ষার ফলাফলে । এবার হাড্ডিহাড্ডি লড়াইয়ের যে আভাস আগে দেয়া হয়েছিলো তা হয়নি বলেই প্রাথমিক ধারণা। মোদীর চেয়ে যোগ্য প্রধানমন্ত্রীর ছবি সাধারণ ভোটারদের সামনে উজ্জ্বল হয়ে ওঠেনি।  মোদীকে সরানোর একটি আওয়াজ তোলা হয়েছিলো কিন্তু বিরোধী দলগুলো একাট্টা হতে পারেনি। বিরোধীদের খেয়োখেয়ি, মমতা ব্যানার্জীর মোদীবিরোধী তৃতীয় মানের প্রচারণা মানুষকে মোদীবিরোধী না করে মোদীমুখী করেছে বলে মনে হচ্ছে। হিন্দি বলয়ে বিজেপি তার আধিপত্য ধরে রাখতে পারবে না বলে এতোদিন শোনা গিয়েছিলো।  বিজেপি  বেশি আসন পাবে কিন্তু সেটা সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার ২৭২ হবে না বলে মনে করা হলেও এখন হয়তো দেখা যাবে ভিন্ন চিত্র।

নির্বাচনের আগে বিজেপি বিরোধী বৃহত্তর মোর্জা গঠিত না হলেও এখন ভোট শেষে মোদীবিরোধী বৃহত্তর ঐক্য গড়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের সোনিয়া গান্ধী ২৩ মে বিরোধী দলের বৈঠক ডেকেছেন। ঐক্যের স্বার্থে কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী পদের দাবি ছাড়তেও রাজি আছে বলে জানিয়েছে। অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু দেখা করেছেন অনেকের সঙ্গে। পরবর্তী সরকার গঠনে যাদের ভূমিকা থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে নাইডু তাদের দুয়ারে হাজির হচ্ছেন। তিনি সোনিয়া-রাহুলের সঙ্গেও সোমবার  কথা বলবেন।

ভোটাররা তাদের রায় ব্যালট বাক্সে দিয়ে দিয়েছেন। অংকের হিসাবে যদি বিজেপি এগিয়ে থাকে তাহলে অন্যকোনো কেরামতি কাজে আসবে না । আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণায় বিজেপি-জোট যদি সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় তাহলে বিরোধীদের দৌড় ঝাঁপ ব্যর্থ হবে। আর যদি বিজেপি-জোট আড়াইশর কম আসন পায় তাহলে তাদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তুলতে পারে সম্মিলত বিরোধী শক্তি। তবে ভারতের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই এখনও এক্সিট পোলের ফলাফলকেই সঠিক ধরে নিতে চান। তারা সব বিবেচনাতেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদীকেই এগিয়ে রাখছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত