প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফুলবাড়ীর ধান চাষিদের আকুতি
‘হারা খামো কি? ধান আবাদ আর করমোনা বাহে’

দিনাজপুর প্রতিনিধি : ধান আবাদ আর করমোনা বাহে, ধান আবাদ করে এখন মাতাত হাত পইছে, ধান ব্যাচে যে টাকা হচ্ছে, তাতে আবাদ করার দামও হচ্ছে না, হারা খামো কি? আবাদ করমো কি দিয়া। কথাগুলো বলছিলেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষক আফছার আলী।

ধান ভালো ফলন হলেও একর প্রতি ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে কৃষককে। একই কথা বলছেন উপজেলার বাসুদেবপুরের ধান চাষী পল্লী চিকিৎসক ওয়াজেদুর রহমান বাবলু। তিনি বলেন, ‘এক একর ধান চাষ করতে খরচ হয়েছে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা, এর সাথে প্রান্তিক চাষিদের জমির ভাড়া রয়েছে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। অথচ এক একর জমির ধান বিক্রি করে কৃষক পাচ্ছে ২৭ থেকে ২৮ হাজার টাকা। ধান চাষ করে একর প্রতি কৃষককে লোকশান গুণতে হচ্ছে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা আর বর্গা চাষিদের গুণতে হচ্ছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। প্রতিবছর যদি কৃষক ধান চাষ করে শুধু লোকসান গুণতে হয়, তাহলে এই কৃষক পরিবারগুলো বাঁচবে কিভাবে?’

ফুলবাড়ী পৌরসভার ধান হাটে ধান বিক্রি করতে আসা চকচকা গ্রামের বিশু মন্ডল ধান চাষ করার বিবরণ দিয়ে বলেন, এক একর জমিতে ধান চাষ করতে খরচ হয়েছে, সেচ ৪ হাজার টাকা, রোপণের মজুরি ৪ হাজার টাকা, সার ৪৬০০ টাকা, ঔষধ ২ হাজার, টাকা নিড়ানী খরচ ৩৫০০ টাকা ও ধান কাটা-মাড়া ১২ হাজার টাকা, এছাড়া রয়েছে বীজতলা তৈরি ও বীজের দাম।

তিনি বলেন, বোরো ধান একর প্রতি উৎপাদন হয়েছে (৪০ কেজিতে মণ হিসেবে) ৬০ থেকে ৬২ মণ, যার বাজার মূল্য ২৭ হাজার থেকে ২৮ হাজার টাকা, অথচ একর প্রতি ধান চাষ করতে খরচ হয়েছে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা, এর সাথে রয়েছে (বর্গাচাষিদের জন্য) জমির ভাড়া।

কৃষকরা জানায় প্রান্তিক চাষিরা এনজিও কিংবা মহাজনদের নিকট টাকা ঋণ নিয়ে ধান চাষ করে, এখন সেই ঋনের টাকা পরিশোধ করতে পারছেনা, আমন চাষ করবে কিভাবে।

উপজেলার কয়েকটি ধানের হাট ঘুরে দেখা যায়, মিনিকেট (চিকন/সরু) ধান প্রতিবস্তা (৮০কেজি) ১০৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, ২৮ জাতের ধান ৯০০ টাকা ও হাইব্রীট ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ উৎপাদন খরচ হয়েছে এর থেকে অনেক বেশি।

ধান বিক্রি করতে আসা উপজেলার বারকোনা গ্রামের ধানচাষি সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, সরকার কৃষকের নিকট ধান কিনছে, ধান কিনছে বলে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে প্রচার চালাচ্ছে।

কতজন কৃষকের নিকট ধান কিনছে সরকার, আর কতটুকু ধান কিনবে সরকার এবিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম চৌধুরী জানান, এই উপজেলায় ৫২০ কেজি করে ৪৩৩ জন কৃষকের নিকট থেকে সরসরি ধান ক্রয় করা হবে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৪ সালের শেষ জরিপ অনুযায়ী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৩২ হাজার ৫৫৫জন কৃষক রয়েছে, সেখানে মাত্র ৪৩৩ জন কৃষক সরসরি সরকারকে ধান দিতে পারবে, তাও আবার মাত্র ৫২০ কেজি করে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হামিম আশরাফ জানান, এই বছর বোরো চাষের লক্ষমাত্র ছিল ১৪ হাজার ৪৫০ হেক্টর, সেখানে চাষ হয়েছে ১৪ হাজার ৭০০ হেক্টর। তিনি বলেন, এই বছর এই উপজেলায় ৯৯ হাজার মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত