প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লামায় কৃষক পরিবারকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের পায়তারা!

মো. নুরুল করিম আরমান : বান্দরবানের লামা উপজেলায় এখলাছ মিয়া নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভুয়া বায়না নামা দলিল সৃজনের মাধ্যমে মৃত কৃষক মোহাম্মদ আলীর পরিবারকে বসতভিটাসহ জমি থেকে উচ্ছেদ চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, জমির ওপর কৃষকের সৃজিত বিভিন্ন প্রজাতির ২০ লাখ টাকার গাছ জোর পূর্বক কেটে নিয়ে গেছে প্রতিপক্ষ এখলাছ মিয়া। এমনকি জমি দখল কিংবা নামজারীর কাজে বাঁধা দিলে ইয়াবার মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন প্রতিপক্ষ।

রবিবার দুপুরে উপজেলার সরই ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি লম্বাখোলা এলাকার মৃত কৃষক মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী সামশুন্নাহারসহ সন্তানেরা এ অভিযোগ করেন।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার সরই ইউনিয়নের লম্বাখোলা এলাকার বাসিন্দা আনসার আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী ১৯৮২-৮৩ সালে ৩০৩নং ডলুছড়ি মৌজায় আর-৪৪৯নং হোল্ডিং মূল্যে (পূর্ণবাসন) প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর চার একর পঞ্চাশ শতক জমি বন্দোবস্তি পায়। তৎসময় থেকে ওই জমিতে বহু কায়িক শ্রম ও অর্থ ব্যয়ে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ বনজ গাছের বাগান, পুকুর ও বসতঘর নির্মাণ করে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছেন কৃষক মোহাম্মদ আলীর পরিবার। ২০১৩ সালের ৩০ অক্টোবর মোহাম্মদ আলী মারা যাওয়ার পর স্ত্রী সামশুন্নাহার, ছেলে মো. আঃ মোতালেব, মো. আঃ মোন্নাজ আলী ও মেয়ে হাজেরা খাতুন ওয়ারিশ হিসেবে ওই জমি ভোগ করে আসছেন। ২০১৪ সালে পার্শ্ববর্তী মোহাং কালুর ছেলে মো. এখলাছ মিয়া ওই জমি থেকে চার একর জমি ৭৪২/২০০৫নং বায়না নামা মূল্যে জমি ক্রয় দেখিয়ে নামজারী করার জন্য সম্প্রতি মিস মামলা নং-২০/ডি/২০১৪ রুজু করেন। এতে মৃত মোহাম্মদ আলীকে জীবিত দেখিয়ে কানুনগো রিপোর্টও দেখানো হয়। ওই জমির ওপর সৃজিত বাগান থেকে গত কয়েক মাসে প্রায় ২০ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির ছোট বড় গাছ জোর পূর্বক কেটে নিয়ে গেছে প্রতিপক্ষ এখলাছ মিয়া ও তার লোকজন।

কৃষক মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী সামশুন্নাহার কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে স্বামীর নামীয় ও ভোগদখলীয় জমির ওপর বসবাস করে আসছি। এ জমি ছাড়া ছেলে মেয়েদের নিয়ে থাকার আর কোন বিকল্প নেই। স্বামীর মৃত্যুর এক বছর পর হঠাৎ করে পার্শ্ববর্তী এখলাছ মিয়া আমাদের জমি তার বলে দাবী করেন। আমার স্বামী এখলাছ মিয়ার কাছে কোন জমি বিক্রি করেনি। মূলত ভূয়া বায়না নামা দলিল সৃজন করে নামজারী করার জন্য মিস মামলা রুজু করেছেন এখলাছ মিয়া। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে আমরা আপত্তি দিয়েছি। বসতভিটাসহ জমি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। মেয়ে হাজেরা খাতুন বলেন, জমি জবর দখলে চেষ্ঠা ও গাছ কাটায় বাঁধা দিলে এখলাছ মিয়া আমার ভাইদেরকে ইয়াবা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকির পাশাপাশি বসতভিটা ও জমি থেকে উচ্ছেদের পায়তারা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. এখলাছ মিয়া মুঠোফোনে বলেন, ২০০৫সালের ৩০মার্চ মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকায় চার একর জমি কিনে ভোগ দখল করে আসছি। এ বিষয়ে এলাকার মানুষ অবগত আছেন। এখন ক্রয়কৃত জমি আমার নামে নামজারী করার জন্য মিস মামলা করলে তারা আপত্তি দিচ্ছেন। তাছাড়া আমার বিরুদ্ধে মোহাম্মদ আলীর ওয়ারিশদের আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন স্থানীয় অধিবাসি জানায়, মোহাম্মদ আলী জীবিত থাকাকালীণ সময়ে তার নামে বন্দোবস্তিকৃত জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির বাগান সৃজন, বসতঘর নির্মাণ ও পুকুর খনন করেছেন। এখন দেখছি এখলাছ মিয়া ওই জমি তার বলে দাবী করে নামজারীর চেষ্টা করছেন।

সরই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ফরিদ উল্ আলম বলেন, মোহাম্মদ আলী ও এখলাছ মিয়ার মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ নিস্পত্তির লক্ষে আগামী বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষকে পরিষদে ডাকা হয়েছে। বৈঠকে বিস্তারিত জানা যাবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত