প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কি আছে অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম ছবিতে, গল্পটা কি ?

ফাতেমা ইসলাম : যুদ্ধবিদ্ধস্ত! অ্যাভেঞ্জার্স এন্ডগেম ছবিটি শেষ হওয়ার পর এমন অনুভ‚তি গ্রাস করে সমগ্র মস্তিষ্ক! যেন আপন কোনও একজনকে হারানোর দলা পাকানো কষ্ট আটকে থাকে গলায়। দীর্ঘ বোধ হয় ঘরে ফেরার রাস্তা!সামান্য একটা হলিউড ছবি, বলা ভালো মার্ভেলের সিনেমাটিক ইউনিভার্স! আর সেই কৃত্রিম দুনিয়ার প্রভাব এতখানি যে স্পর্শ, শব্দ, গন্ধের এই সত্যিকারের দুনিয়াটিকেই মিথ্যে মনে হয়! এমনও হয়? হলে কেন হয়? বর্তমান পত্রিকা

কারণ সম্ভবত একটা গোটা প্রজন্ম, ছোট থেকে বড় হয়েছে মার্ভেলের সুপার হিরোদের সঙ্গে! সেই হিরোদের অর্ধেকই মারা গিয়েছে ইনফিনিটি ওয়ার-এ! আর যাঁরা বেঁচে গিয়েছে? কী করবেন এবার তাঁরা? ভারী আবেগঘন মুহূর্ত দিয়ে শুরু হয় এই ছবি। আমরা দেখি পরিবারের সঙ্গে হক আই বা ক্লিন্ট বার্টনকে । গ্রীষ্মের ঝকঝকে একটা সকালে, নিজের খামারে কিশোরী মেয়েটিকে সে শেখাচ্ছিল তির ধনুকের কারিকুরি। বাড়ির সামনে সবুজ মাঠের মাঝখানে, একটা কাঠের টেবিলে তাঁর স্ত্রী প্রস্তুত করছিল ব্রেকফাস্ট। পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন বাদে এমন উষ্ণ সময় কাটাচ্ছে ক্লিন্ট বার্টন। বার্টন স্ত্রী’র ডাক শোনো ‘চলে এসো, স্যুপ ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।’

‘হ্যাঁ, আসছি’। বলেই এক মুহূর্তের জন্য, সামান্য ঝুঁকে মাটি থেকে কিছু একটা তুলতে গিয়েছিল বার্টন। মাথা তুলতেই দেখল, সমগ্র মাঠ জুড়ে প্রকাÐ নৈশব্দ্য। সামনের গাছটায় ঝোলানো ছিল চাঁদমারি। নিখুঁত লক্ষ্যে বুলস আই-এ তির দিয়ে আঘাত করেছিল তার মেয়ে। তিরটি এখনও গেঁথে আছে। পড়ে রয়েছে তার ছেলের বাস্কেটবল খেলার গ্লাভস! এমনকী মাঠের মাঝখানে তাঁর স্ত্রী’র সাজিয়ে রাখা ব্রেকফাস্টও রয়েছে নির্দিষ্ট জায়গায়! শুধু মানুসগুলো নেই।

মেয়ের নাম ধরে ডাকে বার্টন, তারপর স্ত্রীর, ছেলের নাম। কেউ সাড়া দেয় না! পাগলের মতো সারা মাঠ জুড়ে দৌড়ায় বার্টন। পরিবারের সবাই মিলে তার সঙ্গে একযোগে মজা করছে নাকি? লুকিয়ে পড়েছে কোথাও? এখনই বেরিয়ে আসবে তারা এই খাঁ খাঁ শূন্যতা ভেঙে?

হায় রে বার্টন! থ্যানোস-এর এক তুড়িতেই ছাই হয়ে গিয়েছে গোটা পরিবার, তার অজান্তেই। একনিমেষে এভাবে শেষ হয়ে যেতে পারে সবকিছু? নিজেকে প্রায় ঈশ্বরের সমগোত্রীয় বলে মনে করা থ্যানোসকে (জোশ ব্রোলিন) এভাবে ছেড়ে দেবে অ্যাভেঞ্জাররা? এই তো কয়েকদিন আগে মুক্তি পেলো ‘ক্যাপ্টেন মার্ভেল’। অমিত শক্তিশালী সেই মেয়েও কি কিছু করতে পারবে না? এই যে মহাকাশে আটকে রয়েছে সবার প্রিয় আয়রন ম্যান, প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে অক্সিজেন আর খাদ্য। তাকে বাঁচাতেও কেউ এগিয়ে আসবে না! এভাবে হাল ছেড়ে দিয়ে বসে থাকবে ক্যাপ্টেন আমেরিকা (ক্রিস ইভানস), থর (ক্রিস হেমস), ব্ল্যাক উইডো (স্কারলেট জোহানসন)! প্রতিশোধ নেবে না? খুঁজে বের করবে না থ্যানোসকে? কোনওভাবেই কি থ্যানোস-এর কাছ থেকে পাথরগুলো ছিনিয়ে নিয়ে ব্রহ্মাগুকে আগের অবস্থায় ফেরাতে পারবে না তারা?

করবে কি করবে না, তা দেখতেই তো সিনেমা হলে অ্যাভেঞ্জার্স এন্ডগেম দেখতে যাবেন আপনারা। অ্যাভেঞ্জার সিরিজের অন্যান্য ছবির তুলনায় এই ছবিতে কমেডির পরিমাণ বেশ কম। বরং আবেগ অনেক বেশি। থর আর হাল্ক’কে সম্পূর্ণ অন্যরূপে দেখা যাবে এই ছবিতে। দেখার পর চরম চমকাবেন। আর শেষমেষ টনি স্টার্করুপী রবার্ট ডাউরি জুনিয়র আপনার হৃদয়ের ঠিক কতখানি জায়গা দখল করে আছে, তা ছবিটা না দেখলে জানতে পারবেন না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত