মঈন মোশাররফ : মোরশেদ মিশু’র পুরো নাম আব্দুল্লাহ আল মোরশেদ। তিনি একজন কার্টুনিস্ট এবং বাংলাদেশের জনপ্রিয় কার্টুন ম্যাগাজিন উন্মাদের সহকারী সম্পাদক। তিনি যুদ্ধের মর্মান্তিক এবং হৃদয় বিদারক দৃশ্যকে সুখের দৃশ্যে পরিণত করেন। মোরশেদ মিশু প্রভাবশালী মার্কিন সাময়িকী ‘ফোর্বস’-এর অনূর্ধ্ব ৩০ এশীয় উদ্যোক্তার তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে মোরশেদ মিশু বৃহস্পতিবার ডয়চে ভেলেকে বলেন, যুদ্ধ এবং যুদ্ধের ছবি থেকে আমার মধ্যে যে হতাশার সৃষ্টি হয়, সেখান থেকেই আমরা এই নতুন ইলাস্ট্রেশন-এর চিন্তা তৈরি হয়। আমি যুদ্ধকে সুখ বা শান্তিতে রূপান্তরের চিন্তা করি। ভাবি, পৃথিবীতে যুদ্ধ না থাকলে পৃথিবীর চোহারা কেমন হতো। আমি সেটাই করেছি। একটি যুদ্ধের দৃশ্যকে সুখের দৃশ্যে পরিণত করেছি।
তিনি বলেন, গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে আমি ছবিগুলো আঁকা শুরু করি। আমি মোট ১১টি ইলাস্ট্রেশন করি। যেমন একটি হলো সিরিয়া বা ইয়েমেনের যুদ্ধে বড় বোন তাঁর শিশু ছোট বোনকে অক্সিজেন মাস্ক দিতে গিয়ে নিজে অক্সিজেন পাননি। আমি সেটাকে পাশাপাশি হ্যাপিসেন-এ ট্রান্সফার করেছি। সেখানে একটি সুন্দর পরিবেশে ওই বোন তার শিশু বোনটিকে ফিডার খাওয়াচ্ছেন।
ইরাকের মসুলের আরেকটি দৃশ্য হচ্ছে, বাবা তার সন্তানকে বুকে নিয়ে দৌড়াচ্ছেন। আমি সেটাকে করেছি বাবা তার সন্তানকে বুকে নিয়ে চমৎকার পোশাকে পার্কে হাঁটছেন আবার হুইল চেয়ারে বসা এক যুদ্ধাহতকে রূপান্তর করেছি চেয়ারে বসে ছিপ দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্যে। আসলে যুদ্ধ না থাকলে পৃথিবী এমনই হতো।