প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিলেটে বাণিজিকভাবে উৎপাদিত ‘নাগা মরিচ’ রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে

সাত্তার আজাদ, সিলেট: সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় এখন নাগা মরিচের চাষ হচ্ছে। চাষীদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাণিজিকভাবে উৎপাদিত এই মরিচ রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে। লাভ জনক হওয়াতে ও বাসাবাড়ির সাথে বা অল্প জমিতে চাষ করা যায় বলে নাগা মরিচ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন অনেকে।

সিলেটে আঞ্চলিক নাম নাগা মরিচ। ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য স্থানে এটিকে বোম্বাই মরিচ বা ফোটকা মরিচ বলা হয়। নাগা মরিচ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ এবং নিকটবর্তী ভারতের উত্তর-পূর্বাংশের আসাম রাজ্যের হাইব্রিড বা মিশ্র প্রজাতি। এটি ভারতের আসাম, নাগাল্যান্ড ও মণিপুরে, এবং বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে জন্মায়। এ ছাড়াও এটি শ্রীলঙ্কার গ্রামাঞ্চলেও জন্মায়, সেখানে ‘নাই মিরিচ’ নামে পরিচিত। সিলেটে এই মরিচের ভিন্ন নাম রয়েছে। আঞ্চলিক ভাষায় কালা নাগা, চ্যাপা নাগা বৈশাখী নাগা নামেও পরিচিত। কোথাও কোথাও এটি ভূত জলোকিয়া নামেও পরিচিত। ‘নাগা মরিচ’ মরিচের প্রজাতি হলেও এটি একটি দ্বিপ্রজাতির মধ্যকার মিশ্র প্রজাতি।

‘নাগা মরিচ।’ এমন এক ফসল, যার মধ্যে রয়েছে ঝাল, স্বাদ এবং ঘ্রাণের সমন্বয়। ঝাল পছন্দের সকলের কাছে খাবারে নাগা মরিচের স্বাদ অতুলনীয়। নাগা মরিচ দিয়ে আঁচার তৈরি হয়। এই মরিচে অত্যধিক ঝাল। সাধারণ মরিচ থেকে বহুগুন বেশি ঝালের কারণে ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস নাগা মরিচকে পৃথিবীর সবচেয়ে ঝাল মরিচ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

চাহিদা থাকায় সিলেটের জৈন্তাপুর, বিয়ানীবাজার ও মৌলভীবাজারের বড়লেখাতে বাণিজ্যিকভাবে হচ্ছে সেই নাগা মরিচের চাষ। এছাড়া সিলেটের আরো কিছু উপজেলাতে বিচ্ছিন্নভাবে এই মরিচের চাষ হচ্ছে। দেশে চাহিদা মিটিয়ে এই মরিচ এখন যাচ্ছে বিদেশেও। সিলেটী বসবাসকারী দেশ ইংল্যান্ড, আমেরিকা, কানাডা, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে নাগা মরিচ রপ্তানি হচ্ছে। মরিচের চাষ বৃদ্ধিতে সহযোগিতার এগিয়ে এসেছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি নাগা মরিচের আবাদ করছেন চাষিরা। সিলেটে এ মরিচের চাষ হলেও জৈন্তাপুরের নিজপাট, হরিপুর ও দরবস্ত ইউনিয়নে চাষ বেশি হয়। বাজারে চাহিদা থাকায় নাগা মরিচের দামও ওঠানামা করে। মৌসুমে নাগা মরিচের প্রতিটি ৫-৭ টাকা হলেও অমৌসুমে প্রতিটি ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হয়।

‘ক্রপ এক্সপার্ট এসোসিয়েশন’ নামের একটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান জৈন্তাপুরের নাগামরিচ বিদেশে রপ্তানি করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সুব্রত দেবনাথ।

সুব্রত দেবনাথ বলেন, লাভজনক হওয়ায় উপজেলায় নাগা মরিচের চাষ বাড়াতে সহযোগিতারও আশ্বাস দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এ বছর জেলার জৈন্তাপুর উপজেলায় ৮০ হেক্টর জমিতে নাগা মরিচ চাষ হয়েছে। উপজেলার অনেক কৃষক নাগামরিচ চাষ করে স্বাবলম্বী হতে পারবেন বলে দাবি স্থানীয় কৃষি অফিসের।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত