প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শরিকদের সঙ্গে কি আওয়ামী লীগের দূরত্ব বাড়ছে?

বিভুরঞ্জন সরকার : আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের একটি শরিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ (আম্বিয়া) ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন সম্পর্কে গুরুতর অভিযোগ করেছে। বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এতোদিন নির্বাচন নিয়ে যে ভাষায় কথা বলেছে, আম্বিয়া জাসদের বক্তব্য তার কাছাকাছি। জাসদের জাতীয় কমিটির এক সভায় বলা হয়েছে, ‘সংসদ নির্বাচনে দেশের সব রাজনৈতিক দল এবং জনগণ উদ্দীপনা ও আশা নিয়ে অংশগ্রহণ করলেও নির্বাচনের পর বিষণœতায় আক্রান্ত হয়েছে গোটা জাতি। এর মূল কারণ হচ্ছে প্রশাসনের একশ্রেণির অত্যুৎসাহী অংশ ভোটের আগের রাতেই ভুয়া ভোটের মাধ্যমে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখাসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত করেছে’।

জাসদ মনে করে, ‘এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা নজিরবিহীন। জনগণের ভোটের মাধ্যমে ১৪ দল তথা মহাজোটের নিশ্চিত বিজয় জেনেও যে মহলবিশেষ এ অপকর্ম সংঘটিত করেছে, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থেই তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। কেননা এ কলঙ্কিত ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে। এ কলঙ্কের দাগ মুছতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে’।

জাসদের এই বক্তব্য ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে বিএনপির বক্তব্যর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ । আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন যারা করেছে তাদের কেউ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘কলঙ্কিত’ বলে অভিহিত করেনি। বিএনপিসহ অন্যরা করেছে।

নির্বাচনে বিপুল বিজয় অর্জন করে সরকার গঠনে আওয়ামী লীগ একলা চলো নীতি নিয়ে শুধু দলের লোকদের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দিয়েছে। এ নিয়ে শরিকদের মধ্যে অস্বস্তি এবং অসন্তোষ আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শরিকদের বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে বলেছেন। জাসদ-আম্বিয়া নির্বাচন নিয়ে যে মতামত দিয়েছে সেটা তাদের ভেতরের অস্বস্তি ও অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ, নাকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের সূচনা সে প্রশ্ন উঠতে পারে।

বিএনপি যদি সংসদে না যায়, ১৪ দলের শরিকদের যদি বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকতে হয় এবং সরকারের সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরি হয় তাহলে তাদের বিএনপির কাছাকাছি যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে কিনা সেটাও একটি দেখার বিষয়। তখন কি রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ঘটবে? সবকিছুই নির্ভর করবে আওয়ামী লীগ কীভাবে ‘রি-অ্যাক্ট’ করে তার ওপর। ‘কলঙ্কিত’ নির্বাচনের সঙ্গে কি একমত পোষণ করবে করবে আওয়ামী লীগ? আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখার অভিযোগ সম্পর্কেই বা আওয়ামী লীগের বক্তব্য কী?

এসব নিয়ে ১৪ দলের মধ্যে টানাপড়েন দেখা দেবে কিনা, তেমন প্রশ্নও উঠবে। জাসদ-আম্বিয়া অবশ্য বলেছে, ‘যে রাজনৈতিক প্রয়োজনে জোট গঠন করা হয়েছিলো, তা এখনো বহাল আছে। ক্ষমতাসীন সরকারের রাজনৈতিক দল যদি ১৪ দলের প্রয়োজনীয়তা অনুভব না করে, ১৪ দল ত্যাগ করে, তবুও অন্যান্য শরিক দল ১৪ দলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখবে’।

জাসদ এখন দুই অংশ। শরীফ নুরুল আম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন অংশ এখনও নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায়নি। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে এই দলের কার্যকরী সভাপতি মইনউদ্দীন খান বাদল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে। প্রশ্ন হলো, তার আসনেও কি প্রশাসনের অত্যুৎসাহীরা নির্বাচনকে ‘কলঙ্কিত’ করতে ভূমিকা রেখেছে? মইনউদ্দীন খান বাদলের গায়েও কি কলঙ্কের দাগ লাগেনি? তিনি এ দাগ মুছবেন কীভাবে? কলঙ্গের দাগ মুছতে তিনি নিজে কি ব্যবস্থা নেবেন? আম্বিয়া-জাসদ এবং বিএনপি যেহেতু নির্বাচন নিয়ে কাছাকাছি অবস্থানে এসেছে সেহেতু তাদের মধ্যে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ঐক্যের সেতু তৈরি হবে কিনা সেটা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে হয়তো অচিরেই জল্পনা-কল্পনা শুরু হবে।

লেখক : গ্রুপ যুগ্ম সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত