প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গণতন্ত্র না শোকতন্ত্র চায় তারা?

দীপক চৌধুরী

মানুষ প্রাণভরে শ্বাস নিতে পারছে, রাজনৈতিক সন্ত্রাসমুক্ত থাকতে পারছে, বাচ্চাদের নিয়ে বইমেলায় নিশ্চিন্তে যেতে পারছে, পেট্রলবোমা নিক্ষেপের শঙ্কায় দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে নাÑ এগুলো বিএনপির সয় না। এসব কারণে দলের নেতাদের মধ্যে হা-হুতাশ চলছে। ফলে অন্তর্জ¦ালায় গণতন্ত্রকে ‘শোকতন্ত্র’ বানানোর চেষ্টা তাদের মধ্যে। বিএনপির গণতন্ত্র হচ্ছে অগ্নিসন্ত্রাস, মানুষ মারা, রাস্তা অবরোধ করা, দশ ট্রাক অস্ত্র আনা, গ্রেনেড ছুড়ে মানুষ মারা। এগুলো তো তাদের বৈশিষ্ট্য। রাজনীতিকদের সঙ্গে চা-চক্রে বসলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এটি তারা পছন্দ করবে কেন। আমরা জানি, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও এটি দেশের জন্য, দলের জন্য, জনগণের জন্য সুফল বয়ে আনে। এই প্র্যাকটিস আমাদের ছিলোই না। পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থার জায়গা সমৃদ্ধ না হলেই গণতন্ত্র সুন্দর হয়। দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, ‘বাংলাদেশ এখন গণতন্ত্রশূন্য। গণতন্ত্রহীনতায় বাংলাদেশের জনগণ এখন রাষ্ট্র-দাসত্ব করছে।’ তার ভাষায়, ‘কোনো কারণ ছাড়া হাজার হাজার ‘মিথ্যা’ মামলায় বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মীকে জড়ানো হয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ রাজনৈতিক বক্তৃতার নামে মিথ্যাচার দলটির মধ্যে এমনভাবে জেঁকে বসেছে যে, তাদের কোনো তথ্যই সত্য হিসেবে মানুষ বিশ্বাস করে না, আস্থায় নেয়ার তো প্রশ্নই নেই। ৩০ ডিসেম্বর দেখা গেছে, বিএনপির সাংগঠনিক শক্তির নমুনা। তাদের স্বপ্ন ছিলো দলের এমপিদের পক্ষে ভোটের বাক্স ভরে যাবে। অথচ ভোটকেন্দ্রের ধারেকাছেও ওইসব তথাকথিত নেতাকর্মীদের দেখা যায়নি। দল বেঁধে ভ‚তদের ভোট দেয়ার কথা ছিলো নাকি? বিএনপি বিদেশি বন্ধু হারিয়েছে, শুধু একের পর এক নালিশ করে আস্থা হারিয়েছে। অন্যদিকে আস্থা হারিয়েছে দেশের মানুষের। ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য বিএনপি দেশ-বিদেশে চিঠি দিয়েও চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে’ বলেও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মন্তব্য করেছেন। গণমাধ্যমে দেখলাম-শুনলাম বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কথা। অবশ্য একটি সত্য কথা বলেছেন তিনি। তার মতে, ‘বর্তমান সমস্যা বিএনপির নয়। সবাই বলছে, বিএনপির সমস্যা। বিএনপির কোনো সমস্যা নেই, বিএনপি ইজ ইউনাইটেড।’ সম্ভবত তিনি বুঝতে সক্ষম হয়েছেন যে, বিএনপির সিনিয়র নেতারা এখন নিষ্ক্রিয়। খালেদা জিয়া জেলে আছেন, যাবজ্জীবন দÐপ্রাপ্ত তারেক রহমান লন্ডনে। সুতরাং এগুলো ‘বিএনপির সমস্যা’ হিসেবে তার কাছে বিবেচ্য হবে কেন? বাধাহীন রাস্তা কে না চায়।
লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি ও কলামিস্ট

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত