প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বোরো চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে চুয়াডাঙ্গার চাষীরা

শামসুজ্জোহা পলাশ, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: শুরু হয়েছে বোরো চাষাবাদ। এখন মাঠে মাঠে জমি প্রস্তুত ও চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। তবে বিদ্যুৎ নিয়ে এবছর কোন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না। অপরদিকে, লোকসান ঠেকাতে আগামী বোরো ক্রয় মৌসুমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার দাবী জানান তারা। চাষিরা বলছেন শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিকমতো থাকলে সুষ্ঠু ভাবে ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে মাঠে চলছে পানি সেচ, জমি প্রস্তুত ও চারা রোপনের ব্যস্ততা।

দামুড়হুদার চিৎলা গ্রামের কৃষক আবুল কাশোম জানান, গভীর নলকুপ দিয়ে আমাদের চাষাবাদ করতে হয়। সবাই একসাথে জমি তৈরী করতে গিয়ে নলকুপের উপর কিছুটা চাপ পড়েছে। তবে অন্য বছরের তুলনায় এই বছর কোন প্রকার বিদ্যুতের ভেলকিবাজী নেই। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়মিত থাকলে ও প্রকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে ভালভাবে ফসল ঘরে তুলতে পারব।

একই এলাকার বর্গা চাষী আব্দুস সালাম জানান, ডিএপি ১বস্তা ১৩শ টাকা, এমওপি ১ বস্তা ৮শ টাকা, ইউরিয়া ১ বস্তা ৮শ টাকা, কীটনাশক ১১শ টাকা, জমি চাষ ও রোপন ২ হাজার টাকা, পানি সেচ ১ হাজার ৫শ টাকা এবং কাটা-মাড়াই প্রায় ২ হাজার টাকাসহ প্রায় ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা বিঘা প্রতি খরচ হয়ে থাকে। বিঘা প্রতি ফলন হয় ২০ থেকে ২৫ মন।

বর্তমান বাজারে ৬২০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা দরে নতুন বোরো ধান বিক্রি হয়। যাদের নিজস্ব জমি তাদের কিছু থাকে। কিন্তু যারা আমার মত বর্গাচাষী তাদের কিছুই থাকেনা। এতে করে প্রতিবছর আমাদের লোকসান গুনতে হয়। সরকার যদি সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে তাহলে ন্যায্য দাম পাওয়া যাবে।

জেলায় চলতি মৌসুমে চাষিদের মধ্যে বোরো চাষের ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। শীতের প্রকোপ কিছুটা কম থাকায় কৃষকরা কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছে।

জেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে চুয়াডাঙ্গা জেলায় এবার ৩৭ হাজার ৩৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ৫শ হেক্টর জমি বেশি আবাদ হবে বলে ধরা হচ্ছে। এর মধ্যে ব্রি-ধান ২৮, ব্রি-ধান ৫০, ব্রি-ধান ৬৫, ব্রি- ধান ৬৭, ব্রি- ধান ৫৮, ব্রি-ধান ৮১ সহ হাইব্রিড মিনিকেট ধান চাষ হচ্ছে।

দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিউর রহমান জানান, চলতি বছরের বোরো মৌসুমে ৪শতাধিক কৃষককে প্রনদনা কর্মসূচীর আওতায় ১ বিঘা জমি প্রতি সার, বীজ সহায়তা প্রদান এবং ৯৩ জন কৃষক/কৃষানীকে এনএডিবির আওতায় সার, বীজ বিতরণ সহ বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

কৃষকরা জানান, প্রতিবছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়ে থাকে। এ মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে রয়েছে। ফলে শীত এবং কুয়াশার প্রকোপ অনেক কম থাকায় বোরো ধানের চারা ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে কম এবং চারাও সুস্থ সবল হয়েছে। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটে তাহলে এবছরও বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত