প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বরিশালে ভিজিডি’র চালে কোটি টাকা আত্মসাত

হীরা, বরিশাল প্রতিনিধি: নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের আওতায় ভিজিডি চালে বছরে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের চাল পরিমাণে কম দিয়ে তা আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে সরকারী খাদ্য গুদামের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে। ভিজিডি’র কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এভাবে ওজনে পরিমাণ কম দিয়ে চুরি হওয়ায় সরকার ৩০ কেজির ইনটেক চাল সরবরাহ করা সত্বেও চাল চুরি রোধ করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অতি দরিদ্র নারীদের খাদ্য সহায়তার অংশ হিসেবে কার্ডধারী প্রত্যেক নারীকে বিনামূল্যে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। কিন্তু বিনামূল্যের চাল থেকে প্রতি বছর বরিশালে সরকারী গুদাম থেকে ওজনে কম দিয়ে কোটি কোটি টাকার চাল রেখে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে খাদ্য অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে খাদ্য দফতরের কর্মকর্তা বলছেন, বর্তমানে প্রতি কার্ডধারীর জন্য ইনটেক করা বস্তা আসে। সেখানে মাপে কম দেওয়ার সুযোগ নেই।

জেলা মহিলা বিষয় কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জেলার ১০উপজেলায় ভিজিডি কার্ডধারীর সংখ্যা ২৭ হাজার ৯১৪ জন। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ২ হাজার ৯৯৪ জন, আগৈলঝাড়ায় ২ হাজার ৭৯ জন, বাবুগঞ্জে ২ হাজার ৩২৫ জন, বাকেরগঞ্জে ৩ হাজার ৩০৯ জন, বানারীপাড়া ২ হাজার ৪৩২ জন, গৌরনদীতে ২ হাজার ৬১১ জন, হিজলায় ৩ হাজার ৬২৪ জন, মুলাদীতে ২ হাজার ৫৬০ এবং উজিরপুরে ২ হাজার ৪৩৬ জন।
জেলার ২৭ হাজার ৯১৪ কার্ডধারীর বিপরীতে ২০১৮ সালে ১০ হাজার ৪৯ মেট্রিকটন চাল (এক কোটি ৪৯ হাজার ৪০ কেজি) বরাদ্দ দেওয়া হয়।
ইউপি চেয়ারম্যানদের অভিযোগ খাদ্য অফিস থেকে চাল নিয়ে আসার পর দেখা যায় প্রতি বস্তায় গড়ে দুই কেজি চাল কম। সে হিসেবে এক টন চালে (এক হাজার কেজি) ৬৬ কেজি চাল কম পাওয়া যায়।

অধিকাংশ চেয়ারম্যানদের দাবি, খাদ্য অফিস থেকে ওজন মাপার সময় কারসাজির মাধ্যমে শত শত টন চাল আত্মসাত করে তা কালো বাজারে বিক্রি করা হয়। হিসেব করা দেখা গেছে গড়ে প্রতি টন চালে ৬৬ কেজি করে ঘাটতি হয়। সে হিসেবে মোট বরাদ্দে ঘাটতি ৬৬৩ দশমিক ২৩ মেট্রিক টন। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রের দাবি, ভিজিডির চাল সরকার ভর্তুকি দিয়ে প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে ক্রয় করে থাকেন। কিন্তু চেয়ারম্যান কিংবা খাদ্য অফিস থেকে অনিয়মের মাধ্যমে যে চাল অত্মসাত করে তা বাজারে বিক্রি করা হয় ৩০ টাকা কেজি দরে। এ হিসেবে এক টন চাল কালোবাজারে বিক্রি হয় ৩০ হাজার টাকায়। কেবল বরিশাল জেলাতেই ভিজিডির চালে যে কম দেওয়া হয় ৩০ টাকা কেজি দরে তার মূল্য দাঁড়ায় ১ কোটি ৯৮ লাখ ৯৬ হাজার ৯০০ টাকা। খাদ্য অফিসের সব কর্মকর্তা- কর্মচারীরা এ টাকার ভাগ পায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। চেয়ারম্যানরা অভিযোগ করেন, শুধু ভিজিডির চালই নয় বছরে অন্যান্য খাতে যে বরাদ্দ আসে সেখানেও মাপে কম দিয়ে বছরে লাখ লাখ টাকা আয় করছে খাদ্য অফিস।

বরিশাল সদর উপজেলার জাগুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাক আলম চৌধুরী বলেন, আগে ৫০ কেজির বস্তা ভেঙে ৩০ কেজির বস্তা বানাতো। তখন প্রতি বস্তায় ৪ থেকে ৫ কেজি চাল কম হতো। এখন সেলাই করা বস্তা দেওয়া হয়। তারপরেও প্রতি বস্তায় ২ থেকে আড়াই কেজি চাল কম হচ্ছে।

শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মুন্না বলেন, প্রতি বস্তায় ৩০ কেজি চাল থাকার কথা থাকলেও ২৭ থেকে ২৮ কেজি চাল পাই। মুলাদী উপজেলায় ২৫ শ’ ৬০ জন ভিজিডি কার্ডধারীর বিপরীতে ৯২১.৬ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু মুসা হিমু বলেন, ঘাটতি হবেই। আপ-ডাউনে কমে-বাড়ে। ৫০ কেজির জায়গায় ৪৮ কেজিও থাকে। খাদ্য অফিসে ইনটেক বস্তা কমিয়ে রাখে। মাপার সময় এমনভাবে টান দেয় তখন কমে যায়। বস্তায় ২/৩ কেজি চাল কম হয়।

অভিযোগের ব্যাপারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অবনী মোহন দাস বলেন, চেয়ারম্যানরা কোন কারনে কম নেবেন? কমের প্রশ্নই আসেনা। এভাবে অভিযোগ করে পার পাওয়া যায়না। তারা শতভাগ মেপে নেবেন। কম হলে আমার কাছে অভিযোগ করবেন। প্রয়োজনে দুইবার মেপে চাল নেবেন। আমরা এখন ৩০ কেজির বস্তা দেই। নিতেও সুবিধা, ইনটেক বস্তা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত