প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্যাংকিং খাতে উচ্চ খেলাপি ঋণ অর্থনীতির বড় হুমকি

যুগান্তর : ব্যাংকিং খাতের উচ্চ খেলাপি ঋণ দেশের সার্বিক অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর প্রভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতি দ্রুত কমাতে না পারলে অর্থনৈতিক গতি ধরে রাখা সম্ভব হবে না।

মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পর্যালোচনা : টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব চ্যালেঞ্জের কথা বলা হয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (পিআরআই) অর্থনৈতিক পর্যালোচনা এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। বনানীর পিআরআই কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান জাইদী সাত্তার ও পরিচালক আহমেদ আহসান।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। আলোচনায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান, সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম প্রমুখ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কর্মসংস্থানের গতি কমে যাওয়া, জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগ স্থিতিশীল হয়ে পড়া এবং রাজস্ব আদায় কমে যাওয়া দেশের সার্বিক অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বর্তমানে এক লাখ কোটি টাকা। রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের ২০ জন শীর্ষ ঋণগ্রহীতার কাছে এক-তৃতীয়াংশ খেলাপি ঋণ রয়েছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ ক্রমেই বেড়ে চলছে।

এতে আরও বলা হয়, বিশ্ব অর্থনীতিতে কালো মেঘের ছায়া দেখা দিয়েছে। যা রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে বিশ্ববাণিজ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এ প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, সরকার ব্যাংকিং খাত নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক যদি পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তবে কমিশন গঠনের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকিং খাতে নানা ধরনের অনিয়ম আছে। এই খাতে প্রতিযোগিতা নেই।

ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) ও ব্যাংকারদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) সুদের হার ঠিক করে দেয়। এতে অপশাসনের (মিসগভর্ন্যান্স) সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, খেলাপি ঋণ মাত্রাতিরিক্ত হারে বাড়ার কারণে সাধারণ আমানতকারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

খেলাপি ঋণের প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা আটকে আছে শুধু মামলার কারণে। এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ নিলে খেলাপি ঋণ কমানো যেতে পারে। তাই আইনের সংস্কার করে বিচার পদ্ধতি ত্বরান্বিত করা উচিত।

ব্যাংকিং খাত নিয়ে জাইদী সাত্তারের সুপারিশে বলা হয়, দেশে সাতটি রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক দরকার নেই। দু-একটি রেখে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাকি ব্যাংকগুলোর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঋণ প্রদান বন্ধ করা উচিত।

সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান বলেন, ব্যবসা সহজ করার সূচকগুলো গতিশীল হচ্ছে না বলে বিদেশি বিনিয়োগ আসছে না। এছাড়া বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বৈষম্য দূর হচ্ছে না, বরং বাড়ছে। এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, নতুন ভ্যাট আইন প্রণয়নে যেন আর বাধা না আসে। এখন আবার সুর উঠছে নতুন ব্যাট আইনের প্রভাব মূল্যায়ন করতে হবে। তারপর এটি বাস্তবায়ন করতে হবে। ভ্যাট আইনের বাস্তবায়ন আর পেছানো ঠিক হবে না।

পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ভ্যাট আইন বারবার পিছিয়ে দেয়া এক ধরনের স্থিতাবস্থা। এই স্থিতাবস্থা কখনও বিকল্প হতে পারে না। ভ্যাট আইন যত পেছাবে, ততই জনগণকে ভোগাবে।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম বলেন, বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পগুলোর জন্য কর্তৃপক্ষ গঠন করা যেতে পারে। তাহলে এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত