শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০২:৫৬ রাত
আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০১:৪৬ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইইউ বাজারে দামের পতন: তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চাপে বাংলাদেশ

২০২৫ সাল জুড়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পোশাক বাজারে প্রবৃদ্ধি থাকলেও বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ইউরোস্ট্যাটের তথ্যমতে, ডিসেম্বর ২০২৪-এর তুলনায় ডিসেম্বর ২০২৫-এ ইইউতে পোশাক আমদানি মূল্য কমেছে ২.২৭ শতাংশ। এই মন্দার বড় প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের ওপর, যেখানে ডিসেম্বরে রপ্তানি আয় কমেছে ১২.০৫ শতাংশ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক বাধা বেড়ে যাওয়ায় অনেক দেশ সেখানে পণ্য পাঠাতে না পেরে ইউরোপের বাজারে ঝুঁকছে। মূলত এ কারণেই ইউরোপীয় বাজারে পোশাকের সরবরাহ বেড়ে গেছে এবং দাম কমেছে।

ডিসেম্বরে বাংলাদেশ থেকে পোশাক সরবরাহের পরিমাণ খুব একটা না কমলেও (-০.৬১%), পণ্যের গড় একক দাম কমেছে ১১.৫০ শতাংশ। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববাজারে চাহিদার ঘাটতি এবং ভোক্তাদের ব্যয় সংকোচনের কারণে ইউরোপীয় ক্রেতারা কম দামে পণ্য কিনছেন, যা বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

২০২৫ সালের পুরো বছরের হিসাবে বাংলাদেশের রপ্তানি ৫.৯৭ শতাংশ বেড়ে ১৯.৪১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও, বছর জুড়ে গড় একক মূল্য কমেছে ৩.৮৪ শতাংশ।
ডিসেম্বর মাসে শীর্ষ রপ্তানিকারক চীনও মূল্য চাপের মুখে পড়েছে। ভারতের মতো দেশগুলো সীমিত প্রবৃদ্ধি ধরে রাখলেও তুরস্কের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, পরিমাণ বাড়লেও মূল্য হ্রাসের কারণে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে। ডিসেম্বরের নিম্নমুখী প্রবণতা সতর্কবার্তা দিচ্ছে, এখন আমাদের উচ্চমূল্যের পণ্য, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাজার বৈচিত্র্যকরণের দিকে জোর দিতে হবে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির বিপরীতে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম কমে যাওয়ায় মুনাফা সংকুচিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কেবল পরিমাণের ওপর নির্ভর না করে মূল্য সংযোজন এবং গুণগত মানোন্নয়নের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে।
প্লামি ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল হক বলেন, ইউরোপে পোশাকের চাহিদা খুব একটা বাড়েনি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে চড়া শুল্কের কারণে চীন সেখানে রপ্তানি কমিয়ে দিয়ে লোকসান পুষিয়ে নিতে ইউরোপের বাজারে বেশি পণ্য পাঠাচ্ছে। এতে বাজারে দাম পড়ে যাচ্ছে, আমরাও কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।

রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র?্যাপিড)-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক বলেন, ইউরোপের কিছু দেশের অর্থনৈতিক চাপে চাহিদা আশানুরূপ বাড়েনি। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির কারণে রপ্তানিকারকরা ইউরোপে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে, যা দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি আরও বলেন, স্বল্পমেয়াদে দাম কিছুটা বাড়তে পারে। তবে আগামী দুই-তিন বছরে ভারত ও ভিয়েতনাম ইইউ’র সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি কার্যকর করলে বাংলাদেশের ওপর চাপ আরও বাড়বে। উৎস: মানবজমিন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়