শিরোনাম
◈ বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা কতটা, কী কী শর্ত পূরণ জরুরি ◈ ৬৪৬ কোটি টাকার প্রকল্পে অগ্রগতি মাত্র ১৬ শতাংশ, দুই বছরেও শুরু হয়নি সিলেটের দুই গ্যাসকূপ খনন ◈ বাংলাদেশে ভ্যাকসিন উৎপাদন কারখানা স্থাপনে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ টঙ্গীতে শিশু নির্যাতন: দেশ ছাড়ার কথা জানালেন শিশুটির বাবা রুমি ◈ স্পেনের বাজারে রপ্তানি বাড়াতে বাংলাদেশি পণ্যের বহুমুখীকরণে জোর ◈ ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে ৫ বড় পরিবর্তন, সীমান্ত বন্ধ ও গণবহিষ্কারে জোর ◈ মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে গেজেট প্রকাশ ◈ বাংলাদেশে হামের পর ডিফথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিওর ঝুঁকি, টিকাদান ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে সতর্কতা ◈ পাখিরা আসছে, ইচ্ছেমতো খাচ্ছে, দোকানদার বলছেন—‘খাক, ঈশ্বর আমাকে অনেক দিয়েছেন’ (ভিডিও) ◈ আইজিপির বক্তব্যে ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর

প্রকাশিত : ২৮ জানুয়ারী, ২০১৯, ০৯:৪১ সকাল
আপডেট : ২৮ জানুয়ারী, ২০১৯, ০৯:৪১ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ধর্ষক হেলাল ভুয়া ডাক্তার

সমকাল : নওগাঁয় কর্মস্থলে কথিত চিকিৎসক হেলাল আহমেদ লিটনের ধর্ষণের শিকার হয়ে তার চেম্বার সহকারী খাদিজা আকতারের আত্মহত্যা মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। নিজেকে এমবিবিএস ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিলেও প্রকৃতপক্ষে সে তা নয়। চিকিৎসা সনদ অনুযায়ী সে আসলে পল্লী চিকিৎসক। এ সনদও সঠিক কি-না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। নড়াইল থেকে নওগাঁয় এসে চিকিৎসার নামে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল সে। এই ভুয়া চিকিৎসকের ঠিকুজি বের করতে তৎপরতা শুরু করেছে পুলিশ। অবশ্য এরই মধ্যে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে সে। গতকাল রোববার তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

এদিকে খাদিজার বাড়িতে এখনও চলছে মাতম। তার পাঁচ বছরের মেয়ে জামিয়া খাতুন বারবার মাকে খুঁজে ফিরছে। পুলিশের  দেওয়া তথ্যমতে, নওগাঁ শহরের পাটালির মোড় এলাকার সাহিন হোসেনের বাড়ি ভাড়া নিয়ে পাইলস কিউর সেন্টার খুলে বসে হেলাল। সে নওগাঁর স্থানীয় নয়। নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে তার বাড়ি। প্রতি শুক্রবার নওগাঁর এ কেন্দ্রে এসে রোগী দেখত। তবে সে যে ভুয়া চিকিৎসক, তা জানা ছিল না কারও।

ঘটনার তিন সপ্তাহ আগে হেলালের পাইলস কিউর কেন্দ্রে আয়া কাম চেম্বার সহকারী হিসেবে চাকরি নেন খাদিজা। গত ১৮ জানুয়ারি বিকেলের দিকে খাতিজাকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে হেলাল। লজ্জা-ঘৃণায় ২০ জানুয়ারি বিষপান করেন খাদিজা। ২২ জানুয়ারি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি। মারা যাওয়ার আগে নিজের মোবাইল ফোনের রেকর্ড অন করে ধর্ষণের ঘটনা জানিয়ে যান ওই চিকিৎসাকেন্দ্রের বাড়ির মালিক সাহিন হোসেনকে। বিষয়টি খাদিজার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম জানতে পেরে পুলিশকে অবহিত করেন। এ নিয়ে খাদিজার বাবা খলিলুর রহমান বাদী হয়ে ২৫ জানুয়ারি সদর মডেল থানায় মামলা করলে পুলিশ ওই দিনই ভুয়া চিকিৎসক হেলালকে গ্রেফতার করে।

খাতিজার মা সাহানাজ খাতুন বলেন, হেলাল আমার পাঁচ বছর বয়সী নাতনি জামিয়াকে মা-হারা করেছে। আমি তার বিচার চাই, শাস্তি চাই।

নওগাঁ শহরের পাটালির মোড় এলাকার বাসিন্দা গোলাম রাব্বানী জানান, প্রায় পাঁচ বছর হেলাল নিজেকে এমবিবিএস ডাক্তার পরিচয় দিয়ে প্রতি শুক্রবার রোগী দেখে আসছিল। এলাকার লোকজনের সঙ্গে তার তেমন সম্পর্ক ছিল না। এখানে তার কোনো আত্মীয়-স্বজনও নেই। তার চলাফেরা সন্দেহজনক ছিল।

এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হেলাল এমবিবিএস পাস চিকিৎসক নয়। তার চিকিৎসা সনদ অনুযায়ী, সে সাভারের পল্লী গণস্বাস্থ্য উন্নয়ন সংস্থা থেকে পল্লী চিকিৎসকের প্রশিক্ষণ নিয়েছে। তবে তা সঠিক কি-না জানতে গণস্বাস্থ্য উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে নওগাঁর সামাজিক সংগঠন নওগাঁ একুশে পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল বারী বলেন, নিজ কর্মস্থলে একজন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, এটি অত্যন্ত লজ্জার। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নওগাঁ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম খানও এ ঘটনায় দায়ীর কঠিন শাস্তি দাবি করেছেন।

নওগাঁ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মমিনুল হক বলেন, হেলাল কী ধরনের চিকিৎসক, তা আমাদের রেকর্ডে নেই। তার বিরুদ্ধে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি আবদুল হাই বলেন, হেলালের এমবিবিএস পাসের কোনো সনদ নেই। সে পল্লী চিকিৎসকের সনদ নিয়ে যে চিকিৎসা দিচ্ছে, সেটা নিয়েও সন্দেহ আছে। এ ছাড়া হেলালকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ