প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডাকসু নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী যারা

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজীব দাস, রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাদ্দাম হোসেন, নুরুল হক নুর, আশরাফুল হক ইশতিয়াক ও সালমান সিদ্দিকীঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং আন্দোলনের প্ল্যাটফর্মের কয়েকজন নেতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এবং যারা বিভিন্ন প্যানেল থেকে প্রার্থী হতে পারেন এমন কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর কথা জানা গেছে।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর আগামী ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ইতোমধ্যে নির্বাচনি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আরও কয়েকটি কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ডাকসুর গঠনতন্ত্র এবং নির্বাচনি আচরণবিধি সংশোধনের বিষয়ে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সুপারিশমালা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তা আগামী মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সবোর্চ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সভাতে চূড়ান্ত করা হবে।

এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন থেকে সর্বমোট চারটি প্যানেলে প্রার্থী ঘোষণা হতে পারে। এগুলো হলো- বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, প্রগতিশীল ছাত্রজোট এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এদের মধ্যে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা স্বতন্ত্র নির্বাচন করবে বলে জানা গেছে। বাকিদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জোট ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ ভুক্ত সংগঠনগুলো এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) ভিত্তিক সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনকে নিয়ে প্যানেল দিতে পারে ছাত্রলীগ। এদিকে, ছাত্রদল এখন পর্যন্ত এককভাবে প্যানেল ঘোষণা করার সিদ্ধান্তে আছে। তবে, পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তীতে সর্বদলীয় প্যানেলের চিন্তা-ভাবনা করতে পারে তারা। বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্রজোটের অন্তর্ভুক্ত সংগঠনগুলো নিয়ে প্যানেল দেওয়ার কথা ভাবছে। তবে, সাম্রাজ্যবিরোধী ছাত্রঐক্য এবং পাহাড়ী ছাত্র পরিষদকে অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা চলছে।

প্রার্থীতার ধরন (নিয়মিত-অনিয়মিত) কেমন হবে এ নিয়ে ব্যাপক ভাবনা-চিন্তা করছে সংগঠনগুলো। প্রার্থিতার বিষয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় তারা। নিয়মিত শিক্ষার্থী প্রার্থী হতে পারবেন যদি এমন সিদ্ধান্ত আসে তাহলে অনেক আলোচিত নেতারা আটকে যাবেন। শুরু দিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রার্থিতার ধরন নিয়মিত করার ভাবনা থাকলেও শেষের দিকে এসে বয়সসীমা শিথিল করার কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পেলে প্রার্থিতা নিয়ে ভাববে ছাত্র সংগঠনগুলো, এমন কথা বলছেন তারা। এ হিসেবে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের কয়েকজন নেতা আলোচনায় আছেন। যাদের ছাত্রত্ব এখনও আছে তারাই প্রার্থী হতে পারবেন এমন আভাস পাওয়া গেছে।

ছাত্রলীগ থেকে প্রার্থী হতে পারেন যারা:

সংশ্লিষ্ট সংগঠনের অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে আলোচনায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। সাদ্দাম ২০১১-২০১২ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। ইয়ারড্রপ দেওয়ায় তিনি বর্তমানে তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন। ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের ছাত্রত্ব থাকায় তিনিও প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শোভন এখনও স্নাতকোত্তর শেষ করেননি বলে জানা যায়। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসও প্রার্থী হতে পারেন। সনজিত ২০০৯-২০১০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের অন্তর্ভুক্ত একটি বিষয়ে মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছেন। ছাত্রত্ব না থাকায় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী প্রার্থী হতে পারবেন না।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পঞ্চগড় জেলার সন্তান সাদ্দাম সুবক্তা হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে তার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা ভালো।

প্রগতিশীল ছাত্রজোট থেকে প্রার্থী হচ্ছেন কারা?

বামপন্থী ছাত্র সংগঠন নিয়ে গঠিত প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সঙ্গে প্রার্থিতা সম্পর্কে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ সম্পাদক রাজিব দাস, ছাত্রফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক ইশতিয়াক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট (বাসদ মাকর্সবাদী সমর্থিত) সভাপতি সালমান সিদ্দিকী এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আরেকাংশের রাজিব কান্তি প্রার্থী হওয়ার আলোচনায় আছেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরাদের থেকে প্রার্থী হতে পারেন যারা:

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের থেকে প্রার্থী হতে পারেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নুর হোসেন নুর, যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খান এবং যুগ্ম-আহ্বায়ক ফারুক হোসেন। ছাত্রত্ব না থাকায় এ প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন প্রার্থী হতে পারবেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব না থাকায় ছাত্রদলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বাদ পড়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাই সংগঠনটি প্রার্থিতা বাছাই নিয়ে রয়েছেন দোটানায়। এখন পর্যন্ত তারা প্রার্থিতা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানা গেছে ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধন সম্পর্কে জানার পর প্রার্থিতা বাছাই নিয়ে ভাববেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে নির্বাচনের আগে ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত, ভোটকেন্দ্র হলের বাইরে করাসহ কয়েকটি দাবি জানিয়ে আসছে তারা। এসব দাবি না মানা হলে অন্যান্য সংগঠনের সঙ্গে সর্বদলীয় প্যানেলের চিন্তা-ভাবনা করছে সংগঠনটি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত