প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘নো-বল’ বিতর্কের পরেও কি চুপ থাকবে আইসিসি?

রাকিব উদ্দীন : সদ্য শেষ হওয়া বাংলাদেশের বিপক্ষে উইন্ডিজরা শেষ টি-২০ জিতলেও বিতর্কে থেকে যায় আম্পায়ারের ‘নো-বল’ সিদ্ধান্ত। এর আগে অ্যাডিলেডে এবং পার্থ টেস্টে ভারতীয় পেসার ইশান্ত শর্মার নো-বল বিতর্ক ধরা দেয়। সমালোচনার ঝড় পুরো ক্রিকেট পাড়ায়, বাজে আম্পারিং নাকি আইসিসির করা রিভিউ সিস্টেমের ফাঁক ফোঁকর এই বিতর্কের জন্য দায়ী? সকল আউটে রিভিউ নেয়ার অনুমতি আছে ব্যাটসম্যান এবং প্রতিপক্ষ অধিনায়কের। কিন্তু আম্পায়ারের দেয়া ভুল নো-বলে রিভিউ নেয়ার কোন সুযোগ রাখেনি আইসিসি।

এছাড়াও আম্পায়ারের না দেয়া নো-বল পরবর্তীতে রিপ্লেতে ধরা পড়লে তা পুনর্বিবেচনা করারও সুযোগও নেই। কেবল কোন ব্যাটসম্যান আউট হলেই টিভি আম্পায়ার নো-বল ডেকে থাকেন। যার কারণে আইসিসির রিভিউ সিস্টেম বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে আসছে।

সম্প্রতি আম্পায়ারদের ভুল এবং আইসিসির নিয়ম নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল ভারত-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার অ্যাডিলেড টেস্ট এবং পার্থ টেস্টে। অ্যাডিলেড টেস্টের প্রথম ইনিংসে ভারতীয় পেসার ইশান্ত শর্মার করা ১৬টি নো-বল আম্পায়ারের চোখ এড়িয়ে যায়। বড় পর্দায় ঠিকই বার বার দেখান হচ্ছিল সেই ফুটেজগুলো। তবুও সিদ্ধান্তে কোন পরিবর্তন আসেনি। এই বাজে আম্পায়ারিংয়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ জয়ী সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং। অজি এই কিংবদন্তী বলেন, ‘সে (ইশান্ত) তিন কিংবা চারবার দাগ অতিক্রম করেছে কিন্তু কোন নো-বল ডাকা হয়নি। এতবার আম্পায়ারের চোখ এড়িয়ে যাওয়া এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’

কিন্তু ঠিকই ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার পর চেতনা ফিরে আসে আম্পায়ারদের। পুনরায় যাচাই করেন তারা। এ প্রসঙ্গে পন্টিং ক্ষোভ প্রকাশ করে অস্ট্রেলিয়ান টিভি চ্যানেল সেভেনকে বলেন, ‘আমি অনেক বছর থেকেই বলে আসছি, এখন আম্পায়াররা দাগের দিকে খেয়ালই দেয় না। লক্ষ্য করলে দেখবেন শুধু উইকেট পতন ঘটলেই তারা নো বল দেখে। যা কখনই সঠিক নয়।’

তবে আম্পায়ারের সেই ভুলের ফল ইশান্ত পেয়েছেন পার্থ টেস্টে। ইনিংসের প্রথম ওভারেই অজি ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চের পায়ে লাগিয়ে লেগ বিফোরের জোর আবেদন করেন ইশান্ত, সাড়া দেন আম্পায়ারও। কিন্তু ফিঞ্চের নেয়া রিভিউতে ধরা পড়ে বলটি নো-বল ছিল, যা এবারও চোখ এড়িয়ে যায় আম্পায়ারের। সে সময় ঠিকই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়েছে আম্পায়ারকে। অনেক ক্রিকেট বোদ্ধার মত, আম্পায়ারের চোখ এড়িয়ে যাওয়া নো-বল রিপ্লেতে ধরা পড়লে সাথে সাথে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে পরবর্তী বল করতে সাবধান থাকবে বোলাররা। কিন্তু আইসিসির এমন নিয়ম না থাকায় মাঠে থাকা আম্পায়ারদের অবহেলায় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে দুই দলই।

অপরদিকে এই রিভিউ সিস্টেমে আছে বেশ কিছু বৈসাদৃশ্য। যা বাংলাদেশ এবং উইন্ডিজদের মধ্যকার শেষ টি-টুয়েন্টিতে সৃষ্টি করেছিল অনেক বড় বিতর্ক। যার প্রধান কারণ আইসিসির রিভিউ সিস্টেমের ভিন্নমুখিতা। ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসের চতুর্থ ওভারে উইন্ডিজ পেসার ওশান থমাসের দুটি বৈধ বলকে নো-বলের সংকেত দিয়েছিলেন মাঠে থাকা আম্পায়ার তানভির আহমেদ। যার একটি বলে আউট হয়েছেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাস।

বলটি বৈধ হওয়ায় রিভিউর জন্য আবেদন করেছিলেন ক্যারিবিয়ান দলপতি কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। কিন্তু আইসিসির রিভিউ সিস্টেমে আম্পায়ারের এই ভুল সিদ্ধান্ত রিভিউ করার কোন নিয়ম ছিল না, যার ফলে বৈধ বলে আউট হওয়া সত্ত্বেও বেঁচে যান লিটন। যদিও এমন আম্পায়ারিং নিয়ে ক্ষেপেছিলেন উইন্ডিজ অধিনায়ক। আম্পায়ারদের সাথে বাকযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলেন তিনি, যে কারণে খেলা বন্ধও ছিল প্রায় আট মিনিটের মতো। দিন শেষে ম্যাচ জিতলেও রিভিউ সিস্টেমের নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ভুল করেননি উইন্ডিজ দলের টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক।

ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক মন্তব্য করেন, ‘আমি জানি না রিভিউ নেয়ার কি কি আইন আছে। তাই আমি তাদেরকে বলতেও চাইনি কিভাবে কাজ করতে হয়। কিন্তু এটা দেখার বিষয়। এই ঘটনার পর রিভিউ আইন নিয়ে প্রশ্ন মনে হয় উঠবে।’

আম্পায়ারের অবহেলার প্রধান কারণ যে রিভিউ, নিজের টুইটারের পাতায় লিখেছেন ক্রিকেট বিশ্লেষক হার্শা ভোগলে। ‘বাংলাদেশে ভুল নো বল দেয়ার ঘটনাটির মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন কেন আম্পায়ারারা নো বল কল করতে চায় না, কেননা যদি কোনো ব্যাটসম্যান আউট হয়ে থাকে তাহলে সেটা রিভিউ করা যায়।’

রিভিউ সিস্টেমের বৈসাদৃশ্যপূর্ণ নিয়মের জন্য যে মাঠে থাকা আম্পায়াররা সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে সতর্ক নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একের পর এক বিতর্কিত আম্পায়ারিং বিষয়টি চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে।

কথা হচ্ছে, এত বিতর্কের পরেও কি বিশ্ব ক্রিকেটের দায়িত্ববানরা চুপ থাকবেন?

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ