প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশের রাজনীতিতে ভুল স্বীকার করার সংস্কৃতি এখনো গড়ে ওঠেনি

দেশের রাজনীতিতে ভুল স্বীকার করার সংস্কৃতি এখনো গড়ে ওঠেনি

আমাদের সময় : সম্প্রতি প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল ও ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার পেশ করা হয়েছে। নির্বাচনের আগ দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এভাবে ইশতেহার প্রকাশের এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি আসলেই দেশের গণতন্ত্রায়নের জন্য একটি শুভলক্ষণ। ভোটাররা এখন জানতে পারছেন ক্ষমতায় গেলে বিজয়ী দলের সরকার কী ধরনের অগ্রাধিকারমূলক নীতি সংস্কার করবে। হয়তো কোনো ইশতেহারের পুরোটাই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না, তবু এক ধরনের জনচাপ থাকবে সংশ্লিষ্ট দলের ওপর তাদের দেয়া অঙ্গীকার দ্রত বাস্তবায়নের জন্য।

মূলত ২০০৮ সালে ‘দিনবদলের সনদ’ শিরোনামের এক চৌকস নির্বাচনী ইশতেহার দিয়ে আওয়ামী লীগ ভোটারদের, বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের সমর্থন আদায়ে সমর্থ হয়। ওই ইশতেহারে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার অভিনব অঙ্গীকার করে আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনে দারুণভাবে তরুণদের আকৃষ্ট করতে পেরেছিল। এর বিপরীতে সেবার বিএনপি খুবই সাদামাটা গতানুগতিক একটি নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছিল। এর পরের বার আওয়ামী লীগ ফের একটি ভিশনারি ইশতেহার দিয়েছিল। যদিও ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি তবুও আওয়ামী লীগ ইশতেহারটি দিয়ে রাজনৈতিক সংস্কৃতি উন্নয়নের গুরুদায়িত্ব পালন করেছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এবার সবগুলো দল এবং বিরোধীদলীয় জোট ঐক্যফ্রন্ট বেশ খেঁটে খুঁটে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার পেশ করেছে। সব বিচারেই আওয়ামী লীগের এবারের ইশতেহারটিও দেশবাসীর দৃষ্টি ভালোভাবেই কাড়তে সক্ষম হয়েছে।

আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনে জেতার পর ২০০৯ সালের শুরুতে যে সরকার গঠন করে তা দলের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নে বেশ যত্নবান ছিল। তা ছাড়া এমন একটি দূরদর্শী এবং আশাজাগানিয়া ইশতেহার হাতের কাছে থাকার ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনাগুলো প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্টভাবে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। প্রশাসনও তাদের ‘পারফরম্যান্স কার্ড’ তৈরি করে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা কতটা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে তা তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছিল। এর কারণেই আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নে যথেষ্ট সাফল্য এসেছে। উদাহরণ হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার বিষয়টি নিয়েই আলোচনা করা যাক। শুরুতে এই অঙ্গীকার নিয়ে হাসাহাসি হলেও এখন প্রায় সবাই স্বীকার করেছেন ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশাসন, ব্যাংকিং, শিক্ষা ও সংস্কৃতি যথেষ্ট জনবান্ধব করা সম্ভব হয়েছে।

ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমাদের প্রশাসনের মাঠকর্মীরা এখন খুব দ্রুত মানুষের দোরগোড়ায় জনসেবা পৌঁছে দিচ্ছে। পুরনো ধাঁচের ফাইল চালাচালির অপেক্ষায় না থেকে ফেসবুক, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটার, ই-মেইল ব্যবহার করে মাঠপর্যায়ের অপেক্ষাকৃত তরুণ প্রশাসনিক ও অন্যান্য বিভাগীয় কর্মকর্তারা প্রতিদিন কয়েকশ ডিজিটাল সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে সাইবার নেটওয়ার্ক পৌঁছে গেছে। মোবাইল থ্রিজি, ফোরজি ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে দেশ-বিদেশে যোগাযোগ কতই না সহজ হয়ে গেছে। গড়ে উঠেছে পাঁচ হাজারেরও বেশি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার। আরও আছে কয়েক হাজার ই-পোস্ট অফিস। আছে মোবাইল ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের লাখ লাখ এজেন্ট। এই এজেন্টরা মূলত একেকজন ডিজিটাল উদ্যোক্তা। তারা প্রত্যেকেই কয়েকজন তরুণ-তরুণীকে কর্মসংস্থান দিচ্ছেন। কোথায় চর, কোথায় হাওর। সেখানেও পৌঁছে গেছে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সেবা। সেখানেও আছে তথ্যকেন্দ্র এবং এজেন্ট। সেই চরে বসে মায়েরা, বোনেরা এই প্রযুক্তির হাত ধরে টেলিমেডিসিন সেবা নিচ্ছেন। প্রতিদিন এক হাজার কোটি টাকারও বেশি শহর থেকে গ্রামে লেনদেন হচ্ছে মোবাইল ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। শহরে কর্মরত শ্রমিক, রিকশাওয়ালা, ভিক্ষুক, ক্ষুদে ব্যবসায়ী, প্রবাসীকর্মী ভাইবোন, গার্মেন্টসকর্মীর দল আজ সহজেই ডিজিটাল বাংলাদেশে অতি সহজেই টাকা লেনদেন করছে। ঘরে বসেই বিদেশে থাকা আত্মীয়স্বজনদের চেহারা দেখতে পাচ্ছেন। নিরন্তর কথা বলেছেন।

২০০৮ সালে ‘দিনবদলের সনদ’-এ প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশের অঙ্গীকার করেছিলেন বলেই না প্রশাসন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ব্যক্তি খাত এমন স্মার্ট ডিজিটাল কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন উদ্যোগী হয়েছে। গ্রামের স্কুলেও আজ স্মার্ট বোর্ডে লেখালেখি করছেন শিক্ষকরা। আছে কম্পিউটার ল্যাব। মোবাইলেও ডাউনলোড করা যায় ভালো শিক্ষকদের লেকচার। গ্রামে বসেই ভর্তি পরীক্ষার ফরম, রেজাল্ট, চাকরির আবেদন ডিজিটাল মাধ্যমেই পাওয়া যায়। ভূমি সম্পর্কিত অনেক সেবাও আজকাল ডিজিটাল মাধ্যমে মেলে। কোথাও সড়ক ভেঙে গেলে পথচারী তার ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করে দেয়। প্রশাসনে পড়ে যায় হৈচৈ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অস্থির। কর্মকর্তারা ছুটছেন ওই ভাঙা সড়ক মেরামত করতে। এভাবেই জনপ্রশাসনও ধীরে ধীরে আরও জবাবদিহিতামূলক ও জনবান্ধব হচ্ছে। একইভাবে আমার সৌভাগ্য হয়েছিল পুরো ব্যাংকিং খাতকে ডিজিটাল করে ফেলার। আগে প্রায় দুমাস লেগে যেত একটি সিআইবি রিপোর্ট সংগ্রহ করতে।

একজন উদ্যোক্তা ঋণখেলাপি কিনা তা জানতে এখন সময় লাগে বড়জোর কয়েক মিনিট। এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি কতটা বেড়েছে তা সহজেই অনুমান করা যায়। ইন্টারনেট ব্যাংকিং ছাড়াও প্রায় ছয় কোটি মোবাইল ব্যাংক হিসাব সচল এখন বাংলাদেশে। যারা জীবনেও ব্যাংকের ছায়া মাড়াত না তারা এখন যেখানে সেখানে দাঁড়িয়েই ব্যাংকিং সেবা নিতে পারছেন। কোটিখানেক মায়ের মুখে হাসি ফুটিয়েছে ‘মায়ের হাঁসি’ কর্মসূচির মাধ্যমে তারা দ্রুত ভাতা পাচ্ছেন। সামাজিক সংরক্ষণমূলক অন্যান্য ভাতাও দ্রুত ডিজিটাল লেনদেনের কল্যাণে গরিব-দুঃখী মানুষ তাৎক্ষণিক পেয়ে যাচ্ছেন। এই লেনদেনে স্বচ্ছতাও বেড়েছে।

শুধু একটি উদাহরণ দিলাম, ভেবে দেখুন ২০০৮ সালের ইশতেহারে উচ্চারিত একটি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশের চেহারাটা কীভাবে বদলে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। আমার ধারণা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চরম শত্রুরাও স্বীকার করবেন তার দেওয়া ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ অঙ্গীকার এ দেশের সব মানুষের জীবনে অনেক স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য বয়ে এনেছে।
এমনি এক প্রেক্ষাপটে গত ১৮ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামের এবারের ইশতেহারটি কূটনীতিক, নাগরিক সমাজ, রাজনীতিক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও তরুণদের সামনে পেশ করেন। পাশাপাশি পাওয়ারপয়েন্টে চমৎকার কিছু ‘স্লাইড’ প্রদর্শনীর আয়োজনটিও ছিল দেখার মতো। কূটনীতিকদের মাঝেই আমি বসেছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থাপিত ইশতেহারটিকে তারা বেশ হাসিমুখেই গ্রহণ করলেন। আমাকে একজন কূটনীতিক বললেন এক কথায় এটি ‘ভেরি কম্প্রিহেন্সিভ’। অর্থাৎ ‘খুবই সামগ্রিক’।

নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ হলো কৃষি। তাই এবারের ইশতেহারে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেছেন, কৃষিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য চলমান যান্ত্রিককরণ কার্যক্রমকে চালিয়ে নেওয়া হবে। দীর্ঘমেয়াদি, স্বল্পমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি কর্মসূচিগুলো সমন্বয় করে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ব-দ্বীপ পরিকল্পনাকে ‘অ্যাঙ্কর’ হিসেবে বাস্তবায়ন করা হবে। ভবিষ্যতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার সমন্বয় করতে একটি ফ্রেমওয়ার্ক সামনে রাখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রেও তাই করা হয়েছে। অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ব-দ্বীপ পরিকল্পনা একটি দূরদৃষ্টিসম্পন্ন কর্মসূচি। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য যে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে সেগুলো চিহ্নিত করার জন্য ইশতেহারে দিকনির্দেশনা আছে।

ইশতেহারে বিদ্যুতের ব্যাপারে বলা হয়েছে, প্রত্যেক ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হবে। আগে বিদ্যুতের যে দুরবস্থা ছিল তা কাটিয়ে ওঠার জন্য যেসব পদক্ষেপ সরকার নিয়েছে সে কথাও বলা হয়েছে ইশতেহারে। আগামী দিনে আমরা আরও কী পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করব সেই অঙ্গীকার দেওয়া হয়েছে এতে। বিদ্যুৎ সভ্যতার প্রতীক। তাই আধুনিক বাংলাদেশ নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে কোনো বিকল্প নেই, সে কথাটি বেশ স্পষ্ট করেই উঠে এসেছে এই ইশতেহারে। এখানে কারিগরি শিক্ষার কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট তৈরি করার কথা। এর মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। তরুণদের ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাবটিও খুব ভালো লেগেছে। ইশতেহারে বলা হয়েছে, তাদের উন্নত শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। অন্যদিকে তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সেজন্য প্রয়োজনীয় ঋণের ব্যবস্থাও করা হবে। শুধু দেশে নয়, বিদেশেও যাতে তাদের কর্মসংস্থান হয় সেজন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রত্যেক উপজেলায় এক হাজার করে প্রশিক্ষিত তরুণদের বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব কারণে এ ইশতেহার হয়ে উঠেছে ভারসাম্যপূর্ণ জনকল্যাণমুখী ইশতেহার।

ইতোমধ্যে ভিলেজ সুপার মার্কেট তৈরি হয়েছে। খুলনা, যশোরে এ ধরনের মার্কেট তৈরি হয়েছে। অঞ্চলে অঞ্চলে এগুলো তৈরি হলে কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও ক্রেতানির্ভর মার্কেট গড়ে উঠবে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিভিত্তিক অনলাইন বাজার ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। আগামী দিনের কৃষিবাজার যদি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি তা হলে ভ্যালুচেইননির্ভর আধুনিক কৃষিবাজার গড়ে উঠবে। আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সে কথাই বলেছে। আশপাশের ভারতীয় পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে আমাদের কৃষি বড় ধরনের অবদান রাখতে পারে। আমাদের কিছু কোম্পানি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করে ইতোমধ্যে এসব রাজ্যে রপ্তানি শুরু করেছে। এর পরিধি আরও বাড়তে পারে। উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে আমরা সে পথেই হাঁটছি।

ইশতেহারে কৃষিভিত্তিক মাঝামাঝি ও ক্ষুদ্রশিল্প গড়ে তোলার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য সহজ শর্তে ঋণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইশতেহারে মার্কেটিংয়ের পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়নের ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ সরকার বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। এ ধারা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে এ ইশতেহারে।
আওয়ামী লীগ একনাগাড়ে ১০ বছর ক্ষমতায় থেকে সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য অনেক কিছুই করেছে। এবারের ইশতেহারেও প্রতিবন্ধী, জাতিগত নৃগোষ্ঠী, বৃদ্ধসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। হাওর-বাঁওড় ও চরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া মানুষের ব্যাপারে কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিলে ঘোষিত ইশতেহার সব শ্রেণির মানুষকে স্পর্শ করেছে বলে মনে হয়। এ বিবেচনায় এটি একটি ‘কম্প্রিহেনসিভ ইশতেহার’।

ইশতেহারের মাধ্যমে শেখ হাসিনা পরিষ্কার করেছেন আগামীতে আওয়ামী লীগ সরকার দুর্নীতির ব্যাপারে কোনো আপস করবে না। ডিজিটাল টেকনোলজির কারণে ইতোমধ্যে সর্বত্র স্বচ্ছতা এসেছে। প্রশাসনকে আরও জনবান্ধব করা হবে। দুর্নীতির ব্যাপারে আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ হাসিনার বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি বড় সাড়া ফেলবে বলে মনে করি।

আগামী দিন শেখ হাসিনার সরকার গ্রামের মানুষের কাছে শহরের সুবিধা পৌঁছে দিতে চান। তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়ন, কানেকটিভিটি বৃদ্ধির মাধ্যমে গ্রামের মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে নাগরিক সুবিধা বেড়েছে। আগামীতে এ ধারা অব্যাহত রাখা হবে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, প্রযুক্তি ব্যবহারের বৃদ্ধি, প্রশিক্ষিত জনশক্তি বিদেশে পাঠানো ও দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং মানুষের আয় বৃদ্ধির ধারাকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রামে বসেই মানুষ শহরের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে পারে। এই ধারা আরও জোরদার করার প্রস্তাব করা হয়েছে এবারের ইশতেহারে। আমি মনে করি, শহরের জঞ্জালকে দূরে রেখে গ্রামকে গ্রাম রেখে শহরের সুবিধা নিশ্চিত করতে শেখ হাসিনার যে প্রতিশ্রুতি তা খুবই অর্থবহ। বিশেষ করে, প্রবাসে থাকা গ্রামীণ তরুণদের কাছে এই অঙ্গীকার বেশ গ্রহণীয় হবে।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে মর্যাদাপূর্ণ কৌশলী ও মানবিক নীতির কথা বলেছেন। তিনি রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে মানবিক কথা বলেছেন। অর্থনীতিতেও তিনি সব সময় অন্তর্ভুক্তিমূলক কার্যক্রমের কথা বলেছেন। অঙ্ক কষে কষে তিনি দেখিয়েছেন বাংলাদেশ কোথায় আছে এবং কোথায় যেতে চায়। খাত ধরে ধরে ইশতেহারে এসব কথা বলেছেন।

সম্প্রতি জঙ্গিবাদ খুব আলোচিত বিষয়। বিশ্বজুড়ে রাষ্ট্রগুলো যখন জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে গলদঘর্ম হয়েছে, সেখানে আওয়ামী লীগ সরকার খুব কঠিন হাতে জঙ্গিবাদকে নির্মূল করেছে। আগামী নির্বাচনে সরকার গঠন করতে পারলে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রাখার কথা ঘোষণা করেছে। আবার বাংলাদেশে অবস্থান করে কেউ বিদেশেও যাতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম না চালাতে পারে সে ব্যাপারে ইশতেহারে স্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে। এটা খুবই যৌক্তিক ও সময়োপযোগী বলে মনে হয়েছে আমার কাছে। এক বছরের নিচের শিশু ও পঁয়ষট্টি বছরের বেশি প্রবীণকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবার অঙ্গীকার করেছে এই ইশতেহার।

তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটি ছিল দেশ পরিচালনায় ভুলভ্রান্তিগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানটি। আমাদের দেশে রাজনীতিতে ভুল স্বীকার করার সংস্কৃতি এখনো পর্যাপ্তভাবে গড়ে ওঠেনি। বঙ্গবন্ধুকন্যার এই আহ্বান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন এক আবহ সৃষ্টি করুক-সেই প্রত্যাশাই করছি। সমালোচক আমার বন্ধু। তারা গঠনমূলক সমালোচনা করে আমাদের কাজকে এগিয়ে নিতে বরং সাহায্যই করতে পারেন। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় যখন সমালোচনা হয় অবাস্তব, গুজবভিত্তিক এবং প্রতিহিংসাপরায়ণ। আশা করি সামাজিক মাধ্যমের কল্যাণে (তবে নেতিবাচক দিকও কম নয়) ধীরে ধীরে প্রতিদিনের গণতন্ত্রের ভিত্তি যেভাবে শক্তিশালী হচ্ছে তাতে আশা করা যায় আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কাক্সিক্ষত ধারায় ফিরে আসবে।

প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের আবহেই আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমিও একমত যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী পরিবেশে যদি এ দুটো মাইলফলক আমাদের উদযাপন করতে হয় তা হবে খুবই গ্লানিকর। নিশ্চয় এ দেশের মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম আগামী ৩০ ডিসেম্বর বিচক্ষণ সিদ্ধান্তই নেবেন। তারাও নিশ্চয় চাইবেন না এমন দুঃখজনক গ্লানিময় এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত