প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হামলা-মামলা ও গণগ্রেপ্তারে শঙ্কিত সুলতানা কামাল

কালের কন্ঠ : একাদশ সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার শুরুতেই হামলা-মামলা ও গণগ্রেফতারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। তিনি বলেছেন, এই অবস্থায় আদৌও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে শংকিত সাধারণ জনগণ। বিশেষ করে পাহাড়িরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সেখানে একের পর এক অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটছে। নির্বাচনকে ঘিরে এই সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির অবসানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য তিন জেলার আদিবাসী ভোটারদের অবাধ অংশগ্রহণ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি ও উন্নয়ন সংগঠন এএলআরডি আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উত্থাপন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দওয়ান। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের সদস্য খুশী করিব ও ব্যারিষ্টার সারা হোসেন এবং এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সুলতানা কামাল বলেন, দেশে এক আজব পরিস্থিতিতে নির্বাচন হচ্ছে। সকলের অংশগ্রহণে এই নির্বাচন হলেও একপক্ষ হামলা-মামলা ও গণগ্রেফতারের কারণে বাড়িতে থাকতে পারছে না। তাদের অনেকেই জেলে, বাকীদের থানা-আদালত করতে হচ্ছে। অন্যপক্ষ সরকারী সকল সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ভোটের জন্য জনগণের বাড়িতে বাড়িতে যাচ্ছে। এতে স্পষ্ট নির্বাচন কমিশন সকলের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে তিনি সমান সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

লিখিত বক্তব্যে গৌতম দেওয়ান নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার আশংকা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের আগে পার্বত্য তিন জেলাসহ সারাদেশে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সাধারণ নাগরিক ও ভোটাররা নিশঙ্কচিত্তে, নিরাপদে ও স্বাধীনভাবে তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। ভোটের আগে, ভোটের দিন ও ভোটের পরে কেউ কোন নিপীড়ন নির্যাতন ও হয়রানির শিকার যেন না হয়, তার গ্যারান্টি দিতে হবে নির্বাচন কমিশন ও রাষ্ট্রকে। তিনি আরো বলেন, পাহাড়ে শান্তির লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর যে পার্বত্য চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিলো ২১ বছরেও তা পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিদ্যমান পরিস্থিতি ক্রমাবনতির দিকে যাচ্ছে। চুক্তি সম্পাদনকারী দল আওয়ামী লীগ একনাগাড়ে ১০ বছর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকে সরকার পরিচালনা করলেও চুক্তির প্রধান ধারাগুলো এখনো অবাস্তবায়িত। পার্বত্য চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার কবে পুরণ হবে তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের উদ্ধৃতি দিয়ে গৌতম দেওয়ান বলেন, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এবছর আগস্ট পর্যন্ত পার্বত্য জেলায় কমপক্ষে ৩৪ জন হত্যার শিকার হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই কোনও না কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মী। এ সময় অপহরণ, গুম, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও সংঘটিত হয়েছে ২০টির অধিক। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে অপরাধ প্রতিরোধে কিংবা তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত এবং আইন অনুযায়ী তাদের শাস্তি দেওয়ারও কোনও উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এমতাবস্থায় আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে পার্বত্য চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার, পাহাড়ের মানুষগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাপন, স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও মত প্রকাশের অধিকার, নির্ভয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের যে নিশ্চয়তা থাকবে, সে বিষয়ে সরকারি দলসহ সব রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে আমরা সুস্পষ্টভাবে বক্তব্য শুনতে চাই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত