প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এই লোকটির মত যেন কারো অবস্থা না হয়!

রাশিদ রিয়াজ : মালয়েশিয়ার পাদাং জেলার জাম্বু গ্রামের এক নারী বাজার থেকে বাড়িতে ফিরে গোসল সারতে যাচ্ছিলেন। এসময় তিনি দেখতে পান এক ব্যক্তি তার গোসলখানার ওপরে রান্নাঘরের একটি জানালা ভেঙ্গে ওঁৎ পেতে আছে। এমনকি তার হাতে একটি ক্যামেরাও রয়েছে। এসময় ওই নারী তার ভাইকে চিল্লিয়ে ডাকতে থাকেন, কিন্তু তার ভাই এগিয়ে আসার আগেই ওই আগন্তুক দ্রুত পালিয়ে যায়। তার হাতে একটি চাকু ছিল এবং তার পরণে ছিল হ্যাফপ্যান্ট। মালয়েশিয়ার পাদাং জেলা পুলিশের চিফ সুপারিনটেনডেন্ট বাহারুদ্দিন আব্দুল্লাহ বলেন, ওই এলাকার একাধিক নারী এধরনের অভিযোগ তুলেছেন যে এধরনের কোনো ব্যক্তি তাদের গোসলের সময় সংগোপনে হানা দিয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করে। সর্বশেষ এ ঘটনাটি গত ৬ নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় ঘটে। এছাড়া ওই ব্যক্তির এধরনের ওঁৎ পেতে থাকার ছবিও ভাইরাল হয়েছে। আমরা তাকে আটকের চেষ্টা করছি।
ব্রিটিশ মিডিয়া দি সান গুরুত্ব দিয়ে এ সচিত্র প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে গত ১৫ নভেম্বর।

এই লোকটির মত আমাদের সমাজেও অনেকে আছেন। যারা এধরনর ঘৃৃণ্য অপরাধের চেষ্টা করেন এবং তাদের ছবি ভাইরাল হওয়ার কারণে অনেকে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন এমন ঘটনাও পত্রপত্রিকায় উঠে আসে। কিন্তু ইসলাম যেখানে অন্যের ঘরে অনুমতি নিয়ে প্রবেশের কথা বলে সেখানে এধরনের অপরাধ মুসলিম সমাজে কল্পনা করাও যায় না। মানুষ তার ঘরে শান্তিতে ও স্বস্তিতে নিরাপত্তার মধ্যে বসবাস করতে চায়। সেখানে অনধিকার প্রবেশ বা লুকিয়ে কাউকে দেখা ইসলামের দৃষ্টিতে মারাত্মক এক অপরাধ। মানুষের জীবন যাপন যাতে নির্বিঘ্ন ও ও নিরুপদ্রব হয় সেজন্য ইসলাম কিছু নীতি ও বিধান দিয়েছে যার চর্চা ও অনুশীলন একটি সভ্য সমাজের জন্য অপরিহার্য।

কোরআনে অন্যের ঘরে প্রবেশের জন্য অনুমতি নেওয়ার বিধান রয়েছে। বিনা অনুমতিতে কারো ঘরে ঢুকে পড়লে বহু রকমের বিব্রতকর ও বিরক্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কেউ একান্ত ব্যক্তিগত কাজ করতে পারেন যা অন্য কারো দৃষ্টিগোচর হওয়া তার অপছন্দ হতে পারে। হয়ত সে গভীর মনোনিবেশ করে আছেন কোনো কাজে। এসময় অকস্মাৎ কেউ এসে পড়লে সে চমকে উঠে বিরক্ত হতে পারে। কারো সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে তাকে অন্তত মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হয়। ব্যক্তিগত কক্ষে প্রবেশে পর্দা নষ্টের জন্যে বিরক্তি ও মনোকষ্টের জন্ম দেয়। এটি অতি সাধারণ ভদ্রতা ও সুরুচিরও পরিপন্থী। নবীজি (সা:) এ বিষয়ে কেউ ভুল করলে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্ক করেছেন। আল্লাহ কোরআনে বলেছেন, ‘ হে মুমিনগণ! নিজ ঘর ছাড়া অন্যের ঘরে প্রবেশ করো না, যতক্ষণ না অনুমতি নাও এবং তার অধিবাসীদের সালাম দাও। এ পন্থাই তোমাদের জন্য উত্তম। হয়তো তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে। -সূরা নূর (২৪) : ২৭

কালাদা ইবনে হাম্বল রা. থেকে বর্ণিত, সাফওয়ান ইবনে উমায়্যাহ রা. তাকে দুধ, হরিণের বাচ্চা ও দুগবূস (একপ্রকার শস্য) দিয়ে নবীজির (সা:) কাছে পাঠালেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তার কাছে গেলাম কিন্তু সালাম দেইনি এবং অনুমতিও নেইনি। তিনি আমাকে বললেন, তুমি বেরিয়ে সালাম দাও; তারপর বল, আমি কি প্রবেশ করব? -জামে তিরমিযী, হাদীস ২৭১০; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫১৭৬

এমনকি অনুমতি গ্রহণের ক্ষেত্রে একেবারে দরজা বরাবর দাঁড়ানো সমীচীন নয়। বরং ডানে-বামে কিছুটা সরে দাঁড়ানো উচিত। দরজা-জানালা বা অন্য কোনোভাবে ঘরের ভেতর উঁকি দেওয়াতো খুবই আপত্তিকর। উঁকি দিলে বা দরজা বরাবর দাঁড়ালে অনাকাঙ্খিত কোনো কিছুর উপর দৃষ্টি পড়ে যেতে পারে। আবদুল্লাহ ইবনে বুসরা রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা:) যখন কারো দরজায় আসতেন তখন একেবারে দরজা বরাবর দাঁড়াতেন না। বরং ডান দিকে বা বাম দিকে দাঁড়াতেন এবং সালাম দিতেন। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫১৮৬

কারো ঘরে প্রবেশে একবার অনুমতি চাওয়ার পর ভেতর থেকে কোনো জবাব না এলে দ্বিতীয়বার চাওযা, অনুমতি না এলে তৃতীয়বার চাওয়া তারপরও জবাব না এলে এলে ফিরে আসতে হবে। কারণ ঘরে হয়তো কেউ নেই। অথবা থাকলেও এমন কোনো অবস্থায় আছে যে, অনুমতি দিতে পারছে না ( যেমন নামায পড়ছে বা গোসল করছে) অথবা এ মুহূর্তে অনুমতি দেওয়া তার পছন্দ নয় কিন্তু সরাসরি অস্বীকৃতি জানাতে সংকোচ বোধ করছে কিংবা খবর পাঠানোর জন্য কাউকে পাচ্ছে না ইত্যাদি। আর সক্ষমতা-অসক্ষমতা মিলিয়েই মানুষের জীবন। মাহরাম আত্মীয়দের (যাদের পারস্পরিক বিবাহ হারাম) পরস্পরের মধ্যে পর্দার বিধান না থাকলেও একে অপরের ‘সতর’ দেখা নাজায়েয। তারা ছাড়াও পিতা-মাতা, প্রাপ্তবয়স্ক ভাই-বোন, ছেলে-মেয়ে সকলের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য।

আল্লাহ কোরআনে বলেন, হে মুমিনগণ! তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা এখনো সাবালকত্বে পৌঁছেনি সেই শিশুরা যেন তিনটি সময়ে অনুমতি গ্রহণ করে- ফজরের নামাযের আগে, দুপুর বেলা যখন তোমরা পোশাক খুলে রাখ এবং এশার নামাযের পর। এ তিনটি তোমাদের গোপনীয়তা অবলম্বনের সময়। এ তিন সময় ছাড়া অন্য সময় তোমাদের ও তাদের প্রতি কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তোমাদের পরস্পরের মধ্যে তো সার্বক্ষণিক যাতায়াত থাকেই। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের কাছে তার আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে থাকেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। তোমাদের শিশুরা সাবালক হয়ে গেলে যেন অনুমতি গ্রগণ করে, যেমন তাদের আগের বয়ঃপ্রাপ্তরা অনুমতি গ্রহণ করে আসছে। সূরা নূর (২৪) : ৫৮-৫৯

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ