প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংলাপ এবং কুমিরের লেজ খাঁজকাটা

ড. আকতার বানু : এক চালাক রাজনীতিবিদ কোন সমস্যা দেখা দিলে সমস্যাটির পছন্দমতো একটি সমাধান আগেই স্থির করার পর তিনি বিরোধীদলের মিটিং ডাকেন। তারপর মিটিং-এ সমস্যাটির সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে সবাইকে আলোচনা করতে বলেন। যে যার মতো করে একটার পর একটা সমাধান বলেন। কারো পছন্দ হয়। কারো হয় না। আলোচনা চলতেই থাকে। এভাবে আলোচনা করে করে লোকজন ক্লান্ত হয়ে গেলে সেই রাজনীতিবিদ তার পূর্বে স্থিরকৃত সমাধান সবাইকে জানান। বিরোধীরা নিজেরা যেহেতু তাঁদের দেয়া সিদ্ধান্তে একমত হতে পারেন না বা তাঁদের মত মানতে সেই রাজনীতিবিদকে বাধ্য করতে পারেন না, সেহেতু তাঁরা শেষ পর্যন্ত সেই চালাক রাজনীতিবিদের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য হন।

এক গরীব কৃষকের একটাই গাভি ছিল, যার দুধ বেচে অতিকষ্টে তার সংসার চলে। একদিন এক ধূর্ত লোক তার গাভিটা হাতানোর জন্য তার সাথে বাজী ধরতে এলো। সে বললো, সূর্য কেন পূবদিকেই ওঠে, তুমি জান? দরিদ্র কৃষক বলল, জানিনা। ধূর্ত লোকটি বললো, বেশ। আমি যদি তোমাকে একরাতের মধ্যে বোঝাতে পারি, কেন সূর্য পূবদিকেই ওঠে, তাহলে তোমার গাভিটা আমাকে দিতে হবে। আর যদি বোঝাতে না পারি, তাহলে আমিও তোমাকে একটা গাভি দেব। কৃষক রাজী হল। রাতে ধূর্ত লোকটি আসবে বোঝাতে। এদিকে তাই শুনে কৃষাণী কেঁদেকেটে অস্থির। গাভিটা চলে গেলে তারা খাবে কি? সে কৃষককে বাজী ধরতে মানা করল। কৃষক তাকে আশ^স্ত করে বললো, তুমি ভয় পেয়ো না। গাভি যাবে না। ঐ লোক আমাকে যতই বোঝাক, আমি সকালবেলা বলবো, আমি বুঝিনি। ব্যস, হয়ে গেলো। বল্টু একটাই রচনা পড়েছে। কুমিরের রচনা। তাকে যে রচনাই জিজ্ঞেস করা হয়, সে ঘুরেফিরে কুমিরের রচনাই বলে। মাস্টারমশাই বিরক্ত হয়ে বললেন, আজ গরুর রচনা বল। বল্টু বললো, গরু একটি উপকারী প্রাণী। গরু ঘাস খায়। একদিন এক গরু নদীর ধারে ঘাস খাচ্ছিল। সেই নদীতে ছিল একটা কুমীর। কুমিরটার একটা বড় লেজ ছিল। লেজটা ছিল খাঁজকাটা খাঁজকাটা…।

মাস্টারমশাই আরো বিরক্ত হয়ে বল্টুকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, আবার কুমির? এবার তুই স্কুলের রচনা বল। বল্টু বলল, স্কুল খুবই ভালো জায়গা। এখানে ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করে। খেলাধুলা করে। একদিন স্কুলের কিছু বাচ্চা খেলতে খেলতে নদীর ধারে গেল। নদীতে ছিল একটা কুমির। কুমিরটার একটা বড় লেজ ছিল। লেজটা ছিল খাঁজকাটা খাঁজকাটা…। মাস্টারমশাই এবার মহাবিরক্ত হয়ে বল্টুকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, এবারও কুমির? বেশ। তুই এবার পাখির রচনা বল। বল্টু বললো, পাখি খুব সুন্দর প্রাণী। পাখি উড়তে পারে। একদিন একটি পাখির খুব পিপাসা পেল। সে একটা নদীতে পানি খেতে গেল। সেই নদীতে ছিল একটা কুমির। কুমিরটার একটা বড় লেজ ছিল। লেজটা ছিল খাঁজকাটা খাঁজকাটা…। মাস্টারমশাই এবার শান্তভাবে বললেন, তুই নিজেই একটা কুমির। তোর একটি লেজ আছে। আর লেজটি খাঁজকাটা খাঁজকাটা। মিটিং শেষে বের হতেই এক রাজনীতিবিদকে সাংবাদিকরা ঘিরে ধরলো। একেক জন একেক প্রশ্ন করে। একটার পর একটা। রাজনীতিবিদ সবাইকে প্রশ্ন করার সুযোগ দিলেন। সবার প্রশ্ন করা শেষ হলে সেই রাজনীতিবিদ বললেন, আর কারো কোন প্রশ্ন আছে? সবাই ‘না’ বলার পর তিনি বলললেন, এবার আমার জবাব দেবার পালা। আর আমার জবাব হলো, নো কমেন্টস। ধন্যবাদ। বলে তিনি চলে গেলেন। সংলাপ নিয়ে সবার অনেক আগ্রহ। আমরা সবাই জানি, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েই রেখেছে।

সুতরাং বিরোধীরা যতখুশি আলোচনা করতেই পারেন। সবার সাথে আলোচনা শেষে সরকার তার পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত সবাইকে জানিয়ে দেবেন। বিরোধীরা যেহেতু একজোট হতে পারবে না বা সরকারকে তাঁদের দাবী মানতে বাধ্য করতে পারবে না, তাই শেষ পর্যন্ত তাঁরা সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য হবেন। অথবা বিরোধীরা যাইই বলুন না কেন, সরকার বলবেন, বুঝি নাই অথবা তার নিজের সিদ্ধান্তই বার বার বলবেন (সংবিধানের বাইরে নয় বা খাঁজকাটা খাঁজকাটা)। অথবা, বিচার মানি, তবে তালগাছ আমার। আর যদি সরকার আরেকটু ডিপ্লোম্যাটিক হতে পারেন, তাহলে সব শোনার পর বলতে পারেন, নো কমেন্টস। ধন্যবাদ।

আলোচনা সফল হোক। সবদলের অংশগ্রহণে সংঘাতহীন, কারচুপিমুক্ত একটি সফল নির্বাচন হোক। দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরে আসুক। সবাইকে ধন্যবাদ। লেখক : প্রফেসর, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়। সম্পাদনা : রেআ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ