Skip to main content

দাঁতের পরিচর্যায় ইসলাম

আমিনুল ইসলাম হুসাইনী : সাড়ে তিন হাত মানবদেহের ভাঁজে ভাঁজে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা যে সকল নিয়ামত দিয়েছেন তার মধ্যে দাঁত একটি অন্যতম নিয়ামত। দাঁত আল্লাহর দেয়া এক মূল্যবান সম্পদের নাম। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন, সাধারণত মানুষের ক্ষেত্রে ২০টি দুধের দাঁত পড়ে, ৩২টি স্থায়ী দাঁত ওঠে। মোটামুটি ৬ থেকে ৭ বছর বয়স থেকে দুধের দাঁত পড়ে স্থায়ী দাঁত ওঠতে থাকে। মোটামুটি ১০ থেকে ১১ বছর বয়সের মধ্যে ২০টি দুধের দাঁতের বদলে ২৪টি স্থায়ী দাঁত ওঠে। আমাদের দুই চোয়ালেরই সবচেয়ে শেষের দাঁতগুলো আক্কেল দাঁত এবং এগুলো সব থেকে শেষে ওঠে (১৭ থেকে ২১ বছর বয়সে)। আল্লাহ তায়ালার দেয়া এই অমূল্য সম্পদ দাঁত আমাদের জীবনে কতটুকু প্রয়োজন তা কমবেশি আমরা সবাই-ই উপলব্ধি করতে পারি। বিশেষত যারা বৃদ্ধ বয়সে দাঁত খুইয়েছেন অথবা যাদের দাঁতে পোকা ধরে সব সময় যন্ত্রণা দেয় তাদের এ অমূল্য রতন হারিয়ে আফসোসের সীমা থাকে না। তাই তো বাগধারায় বলা হয়ে থাকে দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বুঝ। কিন্তু ক’জনেই বা এর অর্থ বুঝেন? এমন অনেকেই আছেন যারা দাঁত না মেজেই পানাহার শুরু করেন। যদিও কথা ছিল দাঁত মাজার মধ্য দিয়ে সকাল শুরু হওয়ার। ভেবে অবাক হই এই ভেবে, পুরো পৃথিবীতে যেখানে ৬০০ কোটি মানুষ, সেখানে দাঁত মাজেন মাত্র সাড়ে তিনশো কোটি মানুষ। অথচ সুস্থভাবে বাঁচতে হলে নিয়মিত দাঁত মাজা একটি অপরিহার্য বিষয়। কেননা, নিয়মিত দাঁত না মাজলে মুখের অভ্যন্তরে তৈরি হয় ব্যাকটেরিয়া। আর সেই ব্যাকটেরিয়া শরীরের টকাইন রক্তের মাধ্যমে করনারি ধমনীতে গিয়ে বøকেজ তৈরি করে। যা হার্ট অ্যাটাক হওয়ার অন্যতম কারণ। এজন্যই কল্যাণময় ধর্ম ইসলামে দাঁত মাজার জন্য যেমন গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, তেমনি দাঁতের সুরক্ষায় বিশেষ হিকমাহ রেখেছেন। এই যেমন গোসল ও অজুর শুরুতে কুলি করা। কুলির দ্বারা দাঁতের মধ্যকার খানা ঢুকে থাকা কণা মুখ হতে বের হয়ে যায়। এতে মুখ পরিষ্কার হয়, যা দাঁতের রোগ থেকে মুক্ত করে, চোয়াল মজবুত হয় এবং দাঁতের মধ্যে উজ্জ্বলতা সৃষ্টি হয়, রুজি বেড়ে যায় এবং মানুষ টনসিলের রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকে। (পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞানে মুহাম্মাদ সা. : ১১২) তাছাড়া অজুর সময় তিনবার কুলি করার দ্বারা গোনাহও ঝরে যায়। রাসূল সা.বলেন, ‘যখন কোনো বান্দা অজু করার সময় কুলি করে তখন তার মুখের সব গোনাহ ঝরে যায়।’(মুসনাদে আহমাদ : ৫/২৬৩)