প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

চলনবিলের নৌকাস্কুল

ডেস্ক রিপোর্ট : বর্ষায় চলনবিলের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়। শিশুরা স্কুলে যেতে পারে না। এ সমস্যা সমাধানে স্বপ্ন দেখতেন চলনবিলের সন্তান রেজোয়ান। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তিনি ১৯৯৮ সালে গড়ে তোলেন ‘সিধুলাই স¦নির্ভর সংস্থা। সে সংস্থার মাধ্যমে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন নৌকাস্কুল। সেসব স্কুল এখন শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে চলনবিলের বন্যাকবলিত শত শত শিশুর মাঝে।
দেশীয় প্রযুক্তিতে বিশেষ নকশায় তৈরি করা নৌকাগুলো বন্যা প্লাবিত এলাকার অল্প পানিতে স্বাভাবিকভাবে চলাচলের উপযোগী। নৌকাগুলোতে রয়েছে শিশুদের পাঠদান উপযোগী বই-খাতা, চক-পেন্সিলসহ সব ধরনের শিক্ষা উপকরণ। রয়েছে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে আলো ও ফ্যানের ব্যবস্থা। প্রজেক্টরের মাধ্যমেও সেখানে পাঠদানের ব্যবস্থা রয়েছে; রয়েছে শিশুদের আনন্দ বিনোদনের সব উপকরণ।
সরেজমিন চলনবিলের তাড়াশ, সিংড়া, সিধুলাই, চাটমহর, ভাঙ্গুরা, গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, ফরিদপুর উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, নৌকাস্কুলে শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত চলছে পাঠদান। এসব স্কুল শিশুদের বাড়ির ঘাটে গিয়ে তাদের নৌকায় তুলে নেয়। তারপর চলে যায় বিলের নিরিবিলি কোনো এক স্থানে, সেখানেই নৌকায় শুরু হয় পাঠদান। এভাবে এক একটি নৌকাস্কুল সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত তিন শিফটে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। একটা নৌকাস্কুলে তিন শিফটে তিনজন শিক্ষক পাঠদান করান। সিংড়া উপজেলার সিধুলাই এলাকার নৌকাস্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র রিফাত হোসেনের বাবা রবিউল করিম জানান, বন্যায় রাস্তাঘাট ডুবে গেলে শিশুরা স্কুলে যেতে পারে না। সেই সময়টাতেই তাদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে নৌকাস্কুল।
এ ব্যাপারে ‘সিধুলাই স¦নির্ভর সংস্থার নৌকাস্কুলের প্রোগাম ম্যানেজার সুপ্রকাশ পাল জানান, চলনবিলে শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়াতে ২৩টি নৌকাস্কুল কাজ করে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী শিক্ষাগ্রহণ করছে।
সিংড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মইনুল হাসান জানান, চলনবিলের বিভিন্ন স্থানে নৌকাস্কুল সরকারের পাশাপাশি যেভাবে শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে।
সূত্র : দৈনিক আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত